ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
তাক্বওয়া হাছিল করার গুরুত্ব-ফযীলত (৩৭)
, ০২ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
اُدْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ
অর্থ : মানুষকে এমনভাবে কথা বল, যেন সুন্দর সুন্দর কথা দিয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় ডাকা যায়।
অর্থাৎ সুন্দর সুন্দর কথা দিয়ে হিকমতপূর্ণ কথা দিয়ে এবং শালীনতাবোধ বজায় রেখে। অশ্লীল ও অশালীন এবং রসিকতা করা, এ সমস্ত মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পছন্দ করেন না।
হযরত ইমাম গাজ্জালী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ওয়াজের তাকওয়া সম্পর্কে লিখেছেন উনার এক কিতাব সিরাতুল মুস্তাকিম উনার মধ্যে ওয়াজের তাকওয়া কেমন? ওয়াজ করতে হবে ঠিক মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র সুন্নত তরীকা মোতাবেক।
উনি কিতাবে উল্লেখ করেছেন, যদি কোন বক্তাকে বা ওয়াজকরনেওয়ালাকে দেখ ওয়াজ করতে, যে অশ্লীল কথা বলে, আজেবাজে কথা বলে, অঙ্গ ভঙ্গী করে, হাস্য রসিকতা করে, নানান উদ্দেশ্যে, হাসানো কাঁদানোর উদ্দেশ্যে ওয়াজ করে তাহলে তাকে স্টেজ থেকে নামায়ে দিও, তার ওয়াজ তোমরা শ্রবণ করোনা।
কারণ, তিরমিযী শরীফ কিতাব উনার মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে-
فَانْظُرُوا عَمَّنْ تَأْخُذُونَ دِينَكُمْ
অর্থ : তোমরা লক্ষ্য কর, কার কাছ থেকে ইলম অর্জন করছো, উনার আমল কতটুকু, উনার আখলাক কতটুকু সে অনুযায়ী তোমার মধ্যে তাছীর করবে।
اَلصُّحْبَةُ مُتَأَثِّرَةٌ
অর্থ : সংসর্গ তাছীর করে।
এ প্রসঙ্গে আর একটা পবিত্র হাদীছ শরীফ উল্লেখ করা হয়, হযরত উমারাহ ইবনে রুআইবাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন-
عَنْ عُمَارَةَ بْنِ رُؤَيْبَةَ قَالَ رَأَى بِشْرَ بْنَ مَرْوَانَ عَلَى الْمِنْبَرِ رَافِعًا يَدَيْهِ فَقَالَ قَبَّحَ اللهُ هَاتَيْنِ الْيَدَيْنِ لَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا يَزِيدُ عَلَى أَنْ يَقُولَ بِيَدِهِ هَكَذَا. وَأَشَارَ بِإِصْبَعِهِ الْمُسَبِّحَةِ
“আমি বিশর ইবনে মারওয়ানকে দেখলাম ওয়াজ করার জন্য মিম্বরে উঠে ওয়াজ করতে লাগল। সে তার অঙ্গভঙ্গী করে দুই হাত নেড়ে হাত তুলে অনেক কথা বলতে লাগল।”
فَقَالَ
উনি বললেন-
قَبَّحَ اللهُ هَاتَيْنِ الْيَدَيْنِ لَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
মহান আল্লাহ পাক তিনি এই ব্যক্তির দুই হাত ধ্বংস করে দিক। আমি দেখেছি মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ওয়াজ করতে।
কেমন ওয়াজ করতে দেখেছি?
مَا يَزِيدُ عَلَى أَنْ يَقُولَ بِيَدِهِ هَكَذَا. وَأَشَارَ بِإِصْبَعِهِ الْمُسَبِّحَةِ
অর্থ : মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখেছি আঙুল নেড়ে কথা বলতে, কিন্তু অঙ্গভঙ্গী করে দুই হাত নেড়ে কথা বলতে দেখিনি।
কাজেই ওয়াজের তাকওয়া ঠিক সে রকমই হবে। ওয়াজ করতে হবে মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নত তরীকা মোতাবেক। আবার যারা শ্রোতা তারা ঠিক সেভাবে শুনতে হবে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সুলতান আব্দুল হামিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ইলদিজ প্রাসাদে ইফতার আয়োজনের স্মৃতিকথা
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যাকাত সম্পর্কিত আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (১৬)
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনাদের অনবদ্য তাজদীদ মুবারক-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুসলমানদের হাঁচি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৬)
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরামগণ উনাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক পবিত্র কুরআন শরীফ দ্বারা প্রমাণিত
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












