ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
তাক্বওয়া হাছিল করার গুরুত্ব-ফযীলত (১৬)
, ২০ রবিউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৪ খমীছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৩ অক্টোবর, ২০২৫ খ্রি:, ২৯ আশ্বিন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
তখন মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, “দেখুন, হে হযরত মুআয ইবনে জাবাল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! সত্যিই খুব কঠিন, তবে আপনাদের জন্য সহজ হবে- সেটা হলো কি? আমার পূর্ণ অনুসরণ এবং অনুকরণ যদি করেন, আমার ইত্তেবা যদি পরিপূর্ণভাবে করেন, আমি যা বলেছি সেটা যদি আপনারা আমল করেন, যা থেকে বিরত থাকতে বলেছি তা থেকে বিরত থাকেন, তাহলে আপনাদের জন্য সহজ হয়ে যাবে। আর না হলে কঠিন হবে। ”
যেটা হযরত আবু যর গিফারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি জিজ্ঞেস করলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমাকে ওছীয়ত করুন।
عَنْ حَضْرَتْ أَبِي ذَرٍّ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَوْصِنِي، قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أُوصِيكَ بِتَقْوَى اللهِ فَإِنَّهٗ رَأْسُ الأَمْرِ كُلِّهٖ
“নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, হে আবু যর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! আপনি মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করুন, আপনি তাকওয়া অর্জন করুন। সমস্ত আমলের মূল হলো তাকওয়া। ”
মূলতঃ তাকওয়া ছাড়া, পরহেযগারী ছাড়া কোন ব্যক্তির নাযাত পাওয়া কঠিন হবে। কাজেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, “হে মুআয ইবনে জাবাল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! আপনি আমাকে পরিপূর্ণ অনুকরণ-অনুসরণ করতে থাকুন, তাহলে আপনার জন্য নাযাতের পথ সহজ হবে, নাযাতের পথ খোলাসা হয়ে যাবে। ”
এ কথাগুলো হযরত মুআয ইবনে জাবাল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি সেই হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে বললেন। সেই ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি যখন শুনলেন তখন বললেন, সত্যিই খুব কঠিন ব্যাপার। এটা আমরাও যদি ফিকির করি তাহলে আমরাও বুঝব আমলনামা মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে পৌঁছানো খুব কঠিন। আমরাতো আমল করি, আমরা ইবাদত-বন্দেগী করি, নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাত সবকিছু করি। কিন্তু আমাদের কতটুকু আমল পৌঁছে মহান আল্লাহ পাক উনার দরবারে? কতটুকু কবুল হয় সেটা কি আমরা ফিকির করে দেখেছি? আমরা শুদ্ধ করার কি চেষ্টা করেছি?
অথচ অতীতের হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের জীবনী মুবারক দেখেন, উনারা কতটুকু তাকওয়াধারী, পরহেযগার ছিলেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকওয়া সম্পর্কে অন্য পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, যারা হাজী তাদের সম্পর্কে বলেছেন-
وَتَزَوَّدُوا فَإِنَّ خَيْرَ الزَّادِ التَّقْوَى
এ পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল হওয়ার কারণ বলা হয়, ইয়েমেনবাসীর কিছু লোক ছিল, তারা হজ্জ করতে মাল-সামানা নিতো না। মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি তারা ভরসা করতো। মূলতঃ ভরসা করত না। তারা যখন হজ্জ করতে পবিত্র মক্কা শরীফ উনার বরকতময় স্থানে আসত, এসে তারা খয়রাত করত। আর তারা নাম দিত যে, আমরা মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি ভরসা করি। মহান আল্লাহ পাক তিনি আয়াত শরীফ নাযিল করলেন-
تَزَوَّدُوا فَإِنَّ خَيْرَ الزَّادِ التَّقْوَى
“তোমরা তাকওয়া অর্জন করো, পাথেয় নেও। ” উত্তম পাথেয় কি? উত্তম পাথেয় হলো, পরহেযগারী ইখতিয়ার করা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
কোন মুসলমানের জন্য কাফির-মুশরিকদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা জায়েয নেই
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (৬)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
যেখানে প্রাণীর ছবি থাকে, সেখানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ক্বদরের রাত্রিতে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম যমীনে নাযিল হয়ে তিন ব্যক্তির উপর খাছ রহমত বর্ষণের দুআ করেন-
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আসমাউর রিজাল, জারাহ ওয়াত তা’দীল, উছুলে হাদীছ শরীফ উনার অপব্যাখ্যা করে অসংখ্য ছহীহ হাদীছ শরীফ উনাকে জাল বলছে ওহাবী সালাফীরা (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
দুনিয়ার তাছীর বা ক্রিয়া থেকে প্রত্যেক ব্যক্তির সতর্ক থাকা আবশ্যক
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র রোযা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












