ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
তাক্বওয়া হাছিল করার গুরুত্ব-ফযীলত (৩)
, ০৬ই রবিউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ৩১ রবি’, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ১৫ আশ্বিন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
মহান আল্লাহ পাক তিনি তখন এই পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল করলেন-
إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ
“মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট সবচেয়ে সন্মানিত ঐ ব্যক্তি, যে সবচেয়ে বেশী পরহেযগার। ”
মহান আল্লাহ পাক তিনি এটা বলে দিলেন। এখন আমি যেটা বলছিলাম সেটা হলো, তাকওয়ার স্তর ৩ টা। আদ্না, আওসাত ও আ’লা।
আদ্না দরজাটা কেমন? বলা হয়ে থাকে, আদ্না দরজাটা সাধারণ দরজা। জাহান্নামের দায়েমী বা স্থায়ী আযাব হতে বাঁচার জন্য যে আমল সেটাকে আদ্না দরজার তাকওয়া বলা হয়ে থাকে। সেটার মেছাল হলো যেমন পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেছেন-
يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
অর্থ : হে ইমানদারগণ! তোমাদের উপর রোযা ফরজ করা হলো যেমন ফরজ করা হয়েছিল পূর্ববর্তীগণের উপর, আশা করা যায়, তোমরা তাকওয়া হাছিল করতে পারবে।
এই প্রসঙ্গে অনেক আগের একটি ঘটনা যা কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আরব দেশের এক এলাকায় একজন ইহুদী মহিলা বসবাস করত। সে মারা যাবার পর এক বুজুর্গ ব্যক্তি স্বপ্নে দেখেন যে, মহিলাটি বেহেশতে বিচরণ করছে। সে ঈমান এনেছিল কি-না সেটা কেউ জানত না।
এটা দেখে সেই বুজুর্গ ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলেন, “হে মহিলা! তুমি কি করে জান্নাতে স্থান পেলে? কারণ জান্নাত তো কাফিরদের জন্য হারাম। তুমিতো জাহান্নামে যাওয়ার কথা। ”
সে বলল, হুযূর! একটা ঘটনা ঘটে গেছে, সেটা হয়ত আপনার জানা নেই। কি ঘটনা? সে বলল, আমার মৃত্যুর পূর্বে যে রমযান শরীফ মাস অতিবাহিত হয়েছিল, সেই রমযান শরীফ মাসে আমি একবার বাজারে গেলাম কিছু খরিদ করার জন্য। সাথে একটা বাচ্চা ছিল, তার বয়স ৩ থেকে ৪ বছর। তাকে কোলে করে নিয়ে কিছু রুটি বিস্কুট খরিদ করে সে বাচ্চার কাছে রাখতে দিলাম। বাচ্চাটা রাস্তার মধ্যে প্রকাশ্যে খাওয়া শুরু করল। আমি তাকে একটা আঘাত বা থাপ্পড় দিয়ে বললাম, ‘হে ছেলে! তুমি যদিও বাচ্চা, আর যদিও আমরা মুসলমান নই তবুও এটা মুসলমানদের রমযান শরীফ মাস, এটাকে সম্মান করতে হবে, তুমি খেও না। ’ আমি রুটি বিস্কুটগুলো কেড়ে নিলাম তার কাছ থেকে। মহান আল্লাহ পাক তিনি এর বদৌলতে পরবর্তী সময়ে আমাকে মৃত্যুর পূর্বেই ঈমান নছীব করেছিলেন। যার বদৌলতে আজকে আমি জাহান্নামে না গিয়ে জান্নাতে গিয়েছি। সুবহানাল্লাহ্!
এখন চিন্তা করেন। আদ্না দরজা হলো, যদি কেউ তার মোটামুটি ঈমানের হক আদায় করে নেয়, তাহলে অবশ্যই সে চিরস্থায়ী আযাব থেকে বেঁচে যাবে।
এরপরে বলা হয়, আওসাত দরজাটা কেমন? যারা কবিরা গুনাহ্ থেকে বেঁচে থাকে, কিন্তু ছগিরা গুনাহ্ বারবার করে না বা ছগিরা গুনাহতে জিদ করে না, তাদের তাকওয়াটা হলো আওসাত দরজার তাকওয়া।
এ প্রসঙ্গে একটি ঘটনা উল্লেখ করা হয়। হযরত ইউসুফ ইবনে হুসাইন রায়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি যিনি বিশিষ্ট বুজুর্গ ও মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী ছিলেন। উনার সম্পর্কে বলা হয়ে থাকে, হযরত নবী আলাইহিমুস সাল্লাম উনাদের মধ্যে সবচেয়ে খুবছূরত ছিলেন হযরত ইউসুফ আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আর আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের মধ্যে খুবছূরত ছিলেন হযরত ইউসুফ ইবনে হুসাইন রায়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
শ্রেষ্ঠ উসমানীয় সুলতান মুরাদ আল রাবির ন্যায়পরায়নতা এবং এক রাতের ঘটনা
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সম্মানিত তিনটি বিষয়
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া কবীরা গুনাহ
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহান আল্লাহ পাক উনাকে যদি কেউ হাক্বীক্বী ভয় করতে চায়, তার তিনটি দায়িত্ব
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (৯)
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












