ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
পর্দার গুরুত্ব-তাৎপর্য ও হুকুম-আহ্কাম (৬৫)
, ২৭ জুলাই, ২০২৫ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
মূল বিষয় হলো যে, মহিলাদের মধ্যে খারাবী রয়েছে কখন? যদি মহিলা বেশরা, বিদ্য়াত, বেপর্দা, বেহায়া হয়, স্বামীর অবাধ্য হয় তখন তার মধ্যে খারাবী রয়েছে। তার মধ্যে কোন বরকত-খায়ের থাকবে না। রহমত সাকীনাহ্ তার জন্য নাযিল হবে না। তখন তার জন্য খারাবী রয়েছে। আর ঐ ঘর-বাড়ীতে খারাবী রয়েছে যে ঘর-বাড়ী স্বাস্থ্যের অনুপযুক্ত। যেখানে মানুষ বসবাস করলে নানা রকম ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, ওয়াস্ওয়াসার সৃষ্টি হয়, জ্বিন-পরীর তাছীর রয়েছে, ক্রিয়া রয়েছে, যার পরিবেশ খারাপ।
যেটা হাদীছ শরীফে এসেছে, اَلْجَارُ قَبْلَ الدَّارِ ঘর করার পূর্বে প্রতিবেশী দেখতে হবে। প্রতিবেশী যদি তার খারাপ হয়ে থাকে, আজে বাজে লোক হয়ে থাকে, দুশ্চরিত্র, দুষ্ট প্রকৃতির হয়, তাহলে সে ঘরটা বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে যায়। وَالْفَرَسِ বাহনকে খারাপ বলা হয়েছে। বাহন যখন উপযুক্ততা হারিয়ে ফেলে, তার যোগ্যতা হারিয়ে ফেলে, বহন করার ব্যাপারে অবাধ্য হয়ে যায় তখন সেটা খারাপ। এছাড়া এমনিতে কোন খারাবী নেই।
সেটাই মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অন্য হাদীছ শরীফে বলেছেন-
وَإِنْ تَكُنِ الطِّيرَةُ فِي شَيْءٍ، فَفِي الدَّارِ وَالْفَرَسِ وَالْمَرْأَةِ
“যদি কোন খারাবী থাকতো তাহলে মহিলাদের মধ্যে, বাড়ী-ঘরের মধ্যে, বাহনের মধ্যে থাকতো। ’
প্রকৃতপক্ষে সেটা নেই। এই তিনটা ব্যতীত কোন মানুষের পক্ষেই দুনিয়াবী যিন্দেগীতে জীবন যাপন করা সম্ভব নয়। মহিলা ব্যতীত মানুষ থাকতে পারবে না। হযরত আবুল বাশার আদম ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম যখন যমীনে আসলেন, উনার অবস্থা লক্ষ্য করে মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত উম্মুল বাশার হাওয়া আলাইহাস সালাম উনাকে তৈরী করে দিলেন। সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা বিবাহ-শাদী করেছেন, স্ত্রী গ্রহণ করেছেন। যদি কোন খারাবী থাকতো তাহলে উনারা স্ত্রী গ্রহণ করতেন না। সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা ঘর-বাড়ী করেছেন। যদি তাতে কোন খারাবী থাকতো তাহলে উনারা সেটা করতেন না।
সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা বাহনে চড়েছেন। যদি তাতে প্রকৃতপক্ষে কোন খারাবী থাকতো তাহলে সেটাতে উনারা সওয়ার হতেন না। প্রকৃতপক্ষে সেখানে কোন খারাবী নেই। যখন এসব শরীয়তের হুকুমের খিলাফ হয়ে যাবে তখন তার মধ্যে খারাবী রয়েছে। এছাড়া তার মধ্যে কোন খারাবী নেই।
কাজেই মহিলারা যখন বেগানা পুরুষের সামনে আসে তখন তার সাথে শয়তান এসে থাকে এবং ওয়াস্ওয়াসা দিয়ে থাকে সেটাই উল্লেখ করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বলা হয়, পূর্ববর্তী যামানার একটা ঘটনা রয়েছে, সে ঘটনায় উল্লেখ করা হয়েছে- একজন আবেদ ছিলো। আবেদ, যে খুব ইবাদত-বন্দিগী করতো। সে খুব পরহেজগার ছিলো। সমস্ত দিন এবং রাত্র সে ইবাদত-বন্দেগীতে কাটাতো। এতে সে কোন ত্রুটি-গাফলতি করতো না। ইবলিস অনেকদিন যাবৎ কোশেশ করতেছিলো তাকে ওয়াস্ওয়াসা দেয়ার জন্য। যত পথ ইবলিস অবলম্বন করেছে কোন পথেই তাকে কাবু করতে পারেনি।
এরপরও ইবলিস একটার পর একটা পদ্ধতি অবলম্বন করতে লাগলো অর্থাৎ যাতে আবেদকে কব্জা করা যায়, আবেদকে কাবু করে শরীয়তের খিলাফ কাজ করানো যায় কি-না, যখন সে পর্যায়ক্রমে কোশেশ করতে লাগলো। কোন কোশেশ তার কাজ হচ্ছে না।
(অসমাপ্ত)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সুলতান আব্দুল হামিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ইলদিজ প্রাসাদে ইফতার আয়োজনের স্মৃতিকথা
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যাকাত সম্পর্কিত আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (১৬)
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনাদের অনবদ্য তাজদীদ মুবারক-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুসলমানদের হাঁচি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৬)
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরামগণ উনাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক পবিত্র কুরআন শরীফ দ্বারা প্রমাণিত
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












