ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
পর্দার গুরুত্ব-তাৎপর্য ও হুকুম-আহ্কাম (৬২)
, ২৮ মুহররমুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৫ ছানী, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৪ জুলাই, ২০২৫ খ্রি:, ১০ শ্রাবণ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
ঠিক অনুরূপ আরেকটা হাদীছ শরীফ উল্লেখ করা হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ بُرَيْدَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِعَلِىٍّ يَا عَلِىُّ لاَ تُتْبِعِ النَّظْرَةَ النَّظْرَةَ فَإِنَّ لَكَ الأُولَى وَلَيْسَتْ لَكَ الآخِرَةُ
হযরত বুরাইদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন যে, একদিন আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ইমামুল আউওয়াল আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাকে লক্ষ্য করে বললেন, “হে হযরত ইমামুল আউওয়াল আলাইহিস সালাম! দৃষ্টিকে অনুসরণ করবেন না। যদি কোথাও দৃষ্টি পড়ে যায়, শরীয়তের খিলাফ কোন স্থানে যদি আপনার দৃষ্টি পড়ে যায় সেটাকে অনুসরণ করবেন না। প্রথম দৃষ্টি ক্ষমা করে দেয়া হবে; কিন্তু পরবর্তী দৃষ্টি ক্ষমা করা হবে না। ”
এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা হয়, হযরত মুহাদ্দিছীনে কিরাম ও মুফাসসিরীনে কিরামগণ, ইমাম-মুজতাহিদ, যারা ফক্বীহ্ অনেক কিছু উল্লেখ করেছেন, সাধারণভাবে যদি কারো দৃষ্টি কারো উপর পড়ে যায়, যদি তার বদ খেয়াল না থাকে, সেটা জায়িয হবে অথবা হবে না? আর যদি কোন উদ্দেশ্য নিয়ে কেউ দৃষ্টি করে তাহলে সেটাই বা কতটুকু শরীয়তের হুকুম? এখানে যদিও কেউ কেউ বলেছেন, কোন খারাপ উদ্দেশ্য ব্যতীত যদি কেউ দৃষ্টি করে সে হোক পুরুষ বা মহিলা সেটা তার জন্য মাকরূহ্।
আর উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে কেউ যদি দৃষ্টি করে সেটা হারাম। কিন্তু মূল বা সর্বসম্মত মত যেটা সেটা হচ্ছে, উদ্দেশ্য ভাল থাকুক অথবা খারাপ থাকুক, ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় অর্থাৎ যদি সে একাধিক দৃষ্টি করে তাহলে অবশ্যই সেটা হারাম হবে। এবং যদি উঁকি-ঝুঁকিও কেউ দেয় ইচ্ছাকৃত সেটাও তার হারাম, কবীরাহ্ গুনাহ’র অন্তর্ভুক্ত হবে।
আর যদি এমন অবস্থা হয় কারো রোগ হয়েছে, রোগিনী হয়েছে, এখন ডাক্তার দেখাতে হবে, সে বিষয়ে যদি কোন মহিলা ডাক্তার না থাকে তাহলে এক হুকুম আর যদি মহিলা ডাক্তার পাওয়া যায় তাহলে অবশ্যই তাকে মহিলা ডাক্তার দেখাতে হবে। সেখানে পুরুষ ডাক্তার দেখালে তার কবীরাহ্ গুনাহ্ হবে।
আর যদি কোন মহিলা ডাক্তার না পাওয়া যায় সে বিষয়ে, তাহলে সে পুরুষ ডাক্তার দেখাতে পারবে। তবে শর্ত হচ্ছে, যে স্থানটা তার অসুস্থ হয়েছে বা যেখানে তার রোগ-বিমার হয়েছে শুধু সে স্থানটা সে দেখাতে পারবে। তার চেয়ে বেশীও নয়, কমও নয়। এবং ডাক্তারের জন্য সেটা জায়িয হবেনা তার অতিরিক্ত দেখা। সেটা দেখলে তার জন্য কবীরাহ্ গুনাহ্ হবে।
আর এরপর ডাক্তারেরও মাসয়ালা রয়েছে, সে যদি দৃষ্টি করে রোগিনীকে দেখার জন্য, সে যেন কোন খারাপ উদ্দেশ্যে দৃষ্টি না করে। যদি সে কোন খারাপ উদ্দেশ্যে দৃষ্টি করে সেটাও তার গুনাহ’র কারণ হয়ে যাবে। তাকেও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কারণ তার প্রতিটি দৃষ্টি তার নিয়ত অনুযায়ী ফায়সালা করা হবে। ডাক্তারের যে ব্যাপারটা রয়েছে সেটা যতটুকু দেখা দরকার ও যত সময় দরকার ঠিক ততটুকু দেখবে ও প্রয়োজন মাফিক সময় সে ব্যয় করবে। এর চাইতে বেশী নয়।
আর যদিও ফতওয়া দেয়া হয়ে থাকে যে, মেয়েদের জন্য জরুরী পড়ালেখা ব্যতীত অন্য কোন পড়ালেখা করাই অর্থাৎ অন্যান্য যা রয়েছে ইঞ্জিনিয়ারিং, ওকালতি ইত্যাদি অন্যান্য যে বিষয়গুলি রয়েছে তা প্রয়োজন নেই। একমাত্র ডাক্তারী ব্যতীত সেগুলি পড়া সম্পূর্ণই নিষিদ্ধ। যেহেতু সেখানে পর্দার খিলাফ হবে। শরীয়তসম্মত কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা, ক্বিয়াসসম্মত ইলিম তারা অর্জন করবে। তাদের সংসার সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সুলতান আব্দুল হামিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ইলদিজ প্রাসাদে ইফতার আয়োজনের স্মৃতিকথা
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যাকাত সম্পর্কিত আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (১৬)
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনাদের অনবদ্য তাজদীদ মুবারক-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুসলমানদের হাঁচি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৬)
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরামগণ উনাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক পবিত্র কুরআন শরীফ দ্বারা প্রমাণিত
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












