ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ তথা পবিত্র ঈদে নূরুত তাশরীফে রসূলিল্লাহি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা ফরয (৮১)
, ০৯ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২২ খ্বমিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ২১ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রি:, ০৫ কার্তিক, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার ফেরেশ্তারা ছলাত-সালাম পাঠ করেন”।
এ পরিপ্রেক্ষিতে বলা হয়েছে- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যে মর্যাদা মুবারক যেটা ফতওয়ার কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মক্কা শরীফ উনার মর্যাদা বেশি, না মদীনা শরীফ উনার মর্যাদা বেশি?
একটা আম ফতওয়া এবং একটা খাছ ফতওয়া। দু’টা রয়েছে। এটা মনে রাখবেন। প্রত্যেক ক্ষেত্রেই ফতওয়া দুই প্রকার। একটা ফতওয়ায়ে আম আর একটা হচ্ছে ফতওয়ায়ে খাছ। আম হচ্ছে সর্বসাধারণের জন্য, আর খাছ হচ্ছে বিশেষ ব্যক্তিদের জন্য। একটা উদাহরণ দিলে বুঝতে পারবেন।
সেটা হচ্ছে, যেমন- হযরত ইমাম আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ফতওয়া হচ্ছে, রাস্তার মধ্যে যে পানি-কাদা রয়েছে, চলাচল করার সময় এই পানি-কাদা, মাটি এগুলো যদি কারো কাপড়-চোপড়ে লেগে যায় সেটাসহ নামায পড়া জায়িয রয়েছে। সেটাকে আমভাবে পাক হুকুম দেয়া হয়েছে। এটা হচ্ছে হযরত ইমাম আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ফতওয়া।
একদিন কোন কারণে পথ চলার ফলে উনার শরীর মুবারকে, অর্থাৎ হযরত ইমাম আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কাপড় মুবারকে কিছু রাস্তার কাদা লেগে গেল। নামাযের ওয়াক্ত হয়ে গেল। তিনি উনার এক ছাত্রকে বললেন, হে মুরীদ এবং ছাত্র কিছু পানি নিয়ে আস। পানি আনা হলো। তিনি কাপড়টাকে ধুইলেন, ধুয়ে তারপর নামায পড়লেন।
নামায শেষে উনার সেই ছাত্র এবং মুরীদ বললো, হে মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি! আপনিতো ফতওয়া দিয়েছেন, রাস্তার কাদা-মাটিগুলো পাক, এটাসহ নামায পড়লে নামায হয়ে যাবে। তাহলে আজকে আপনি কেন সেই মাটিগুলো পানি দিয়ে ধুয়ে তারপর নামায পড়লেন?
তিনি বললেন, বাবা! মাসয়ালা রয়েছে ঠিকই, একটা হচ্ছে আম। আর একটা হচ্ছে খাছ। ফতওয়া হচ্ছে, এটা নিয়ে নামায পড়লে নামায হয়ে যাবে। তবে খাছ ফতওয়া যেটা, তাক্বওয়া হচ্ছে, এটা ধুয়ে নিলেই ভালো। সেজন্য আমি ধুয়ে নিয়েছি।
কাজেই, ফতওয়া আম রয়েছে এবং খাছ রয়েছে। আম ফতওয়া হচ্ছে, অর্থাৎ আমভাবে মক্কা শরীফ উনার মর্যাদা অনেক বেশি। কেন? হাদীছ শরীফে রয়েছে, সেখানে অর্থাৎ কা’বা শরীফে একশত বিশটা রহমত বর্ষিত হয়ে থাকে প্রতিদিন ।
سِتُّونَ لِلطَّائِفِينَ، أَرْبَعُونَ لِلْمُصَلِّينَ، عِشْرُونَ لِلنَّاظِرِينَ
একশত বিশটা রহমত বর্ষিত হয়ে থাকে কা’বা শরীফের উপরে। ষাটটা হচ্ছে যারা তাওয়াফকারী তাদের জন্য। চল্লিশটা হচ্ছে যারা মুছল্লী যারা সেখানে নামায পড়ে থাকে। আর বিশটা হচ্ছে যারা যিয়ারত করে থাকে, কা’বা শরীফ দর্শন করে থাকে।
এই একশত বিশটা রহমত সেখানে বর্ষিত হয়ে থাকে। সেজন্য আমভাবে বলা হয়েছে, মক্কা শরীফ উনার মর্যাদা মদীনা শরীফ উনার চাইতে বেশি। কিন্তু খাছ যে ফতওয়া সেটা হচ্ছে, মক্কা শরীফ উনার চেয়ে মদীনা শরীফ উনার মর্যাদা বেশি অর্থাৎ, মদীনা শরীফ উনার মর্যাদা মক্কা শরীফ উনার চাইতে লক্ষ কোটি গুণ বেশি। সুবহানাল্লাহ! কেন?
মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেছেন, এক নম্বর হচ্ছে-
وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ
কুরআন শরীফে রয়েছে। মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে আমি সমস্ত আলমের জন্য রহমত স্বরূপ পাঠিয়েছে।
সেটা মক্কা শরীফ উনার জন্য, আসমান-যমীন, আরশ-কুরসী, লওহ-কলম সকলের জন্যই রহমত স্বরূপ পাঠিয়েছি। তিনি রয়েছেন মদীনা শরীফ উনার মধ্যে। সুবহানাল্লাহ!
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে পবিত্র যিকির উনার গুরুত্ব ও ফযীলত (২)
২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মূর্তি নির্মাণ করা এবং নির্মাণে সমর্থন করা ও এর সাথে সশ্লিষ্টতা হারাম ও কুফরী (১৩)
২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রত্যেক মু’মিন মুসলমানকে কাফির-মুশরিকদের অনুসরণ থেকে দূরে থাকতে হবে
২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসী ইহুদী-খ্রিস্টানদের নজরদারী, তথ্যচুরি, ফিৎনা সৃষ্টিকারী, সন্ত্রাস সৃষ্টিকারী এবং বিমান হামলার কাজে ব্যবহৃত সন্ত্রাসী আমেরিকা ভিত্তিক মুসলিম বিদ্বেষী এক তথ্যজালিকা (৪)
২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মসজিদে ইবাদত করতে বাধা দেয়া বা মসজিদ উচ্ছেদ করা কুফরী
১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
একমাত্র মহান আল্লাহ পাক ব্যতিত অন্য কারও অনুসরণ করার বিষয়ে বাতিলপন্থীদের বিভ্রান্তির জাওয়াব
১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












