ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ তথা পবিত্র ঈদে নূরুত তাশরীফে রসূলিল্লাহি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা ফরয (৬৭)
, ২৫ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৮ খ্বমিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৭ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রি:, ২২ আশ্বিন, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
এখন ফিকির এবং চিন্তার বিষয়; নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আওলাদ যারা উনাদেরকে তা’যীম-তাকরীম করার কারণে একজন মজূসী, অগ্নি উপাসক সে ঈমানদার হলো, সে জান্নাতী হয়ে গেল। সুবহানাল্লাহ!
এটা যদি হয়ে থাকে তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইন দিনকে সম্মান করলে তা’যীম- তাকরীম করলে কতটুকু সম্মান পাওয়া যাবে?
আর এখন যদি এটা বলা হয় যে, মজূসী আওলাদে রসূলকে সম্মান করেছে, তাহলে কি মুসলমানরা আওলাদে রসূলকে সম্মান করবে না? তারা কি সম্মান করা ছেড়ে দিবে? তাহলে তারা ঈমানহারা হয়ে যাবে, কাফির হয়ে যাবে।
কাজেই দেখা যাচ্ছে, ইহুদী, নাছারা, মজূসী, কাফির, মুশরিক, বেদ্বীন-বদদ্বীন তারা রমাদ্বান শরীফকে তা’যীম করে, আশুরাকে তা’যীম করে, আওলাদে রসূলকে তা’যীম করে, দান-খয়রাত করে ঈমানদার হয়ে তারা জান্নাতী হয়ে গেছেন। সুবহানাল্লাহ!
তাহলে মুসলমানরা কি সেই রমাদ্বান শরীফকে তা’যীম করবে না, আশুরাকে করবে না, দান-খয়রাত করবে না, আওলাদে রসূলকে সম্মান করবে না? যদি না করে তাহলে সে ঈমানদার থাকতে পারবে না।
কাজেই, কেউ যদি বলে ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফকে সম্মান করা, তা’যীম করা, খুশী প্রকাশ করা লাহাবী উৎসবের অন্তর্ভুক্ত তাহলে সে কাট্টা কাফির, চির জাহান্নামী হবে। তাকে ইস্তিগ্ফার তওবাহ করতে হবে। অন্যথায় জাহান্নাম ছাড়া তার কোন গতি থাকবে না। সে চির জাহান্নামী হবে, অনন্তকাল ধরে সে জাহান্নামে থাকবে। আবু লাহাবের সে সঙ্গী হয়ে যাবে।
কাজেই, এটা মনে রাখতে হবে কাফিরেরা কোন কাজ করলে মুসলমানেরা সেটা করতে পারবে না, তা নয়। আমরা করে থাকি মহান আল্লাহ পাক উনার আদেশ নির্দেশ অনুযায়ী। এখন কোন কাফির করুক না করুক সেটা সম্পর্ক নয়। সেটাতে কোন সম্পর্ক নেই। সম্পর্ক হচ্ছে কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা, ক্বিয়াসে রয়েছে কিনা? যদি থেকে থাকে তাহলে আমরা সেটা করব? সেটাতে ফযীলত রয়েছে।
এখন কেউ যদি সেটা ছেড়ে দেয় সে ঈমানদার থাকতে পারবে না। আর কাফিরেরা করেছে বলেই সেটা কুফরী হবে যদি কেউ বলে, সেও কাফির হয়ে যাবে।
কাজেই, আখিরী নবী, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরুত তাশরীফ (বিলাদত শরীফ) উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করতে মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেছেন, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন। কাজেই, এটা প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্য ফরযে আইন। সেটাই মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেছেন-
قُلْ بِفَضْلِ اللهِ وَبِرَحْمَتِهٖ فَبِذٰلِكَ فَلْيَفْرَحُوا
আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলে দিন, তোমরা যে মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে ইসলাম পেলে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পেলে এজন্য তোমরা খুশি প্রকাশ করো।
এজন্য তোমরা খুশি প্রকাশ করো। মহান আল্লাহ পাক তিনি সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন। কাজেই এটার জন্য খুশি প্রকাশ করা ফরয-ওয়াজিবের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে।
কাজেই, মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন আমাদেরকে হাক্বীক্বীভাবেই মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, আখিরী নবী, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরুত তাশরীফ (বিলাদত শরীফ) উপলক্ষে অনন্তকাল ধরে খুশি প্রকাশ কারার তাওফিক দান করেন এবং সবাইকে যেন দান করেন। আর যারা এর বিরুদ্ধবাদী রয়েছে, মুখালিফ যারা রয়েছে মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদের হিদায়েত দান করেন।
আর যদি তাদের হিদায়েত না থাকে, এদেরকে যেন মহান আল্লাহ পাক তিনি নিস্তানাবুদ করে দেন। এরা যেন মুসলমানদের এই সমস্ত নেক কাজে বাধার কারণ হয়ে না দাঁড়াতে পারে। এদেরকে যেন মহান আল্লাহ পাক তিনি নিস্তানাবুদ করে দেন। আমরা সেই দোয়া, সেই আরজু করবো।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
খাদিমু রসূলিল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (১)
০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বেপর্দা সর্বপ্রকার অনিষ্ট ও ফিতনা-ফাসাদের মূল
০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুসলমানদের সবচেয়ে বড় শত্রু ইহুদী ও মূর্তিপূজারী মুশরিকরা
০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি অকৃত্রিম মুহব্বতই উসমানীয়দের বিজয় রহস্য
০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা কবীরা গুনাহ ও অসন্তুষ্টির কারণ
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সকল কাফিররাই মুসলমানদের প্রকাশ্য শত্রু
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বেপর্দা হওয়া শয়তানের ওয়াসওয়াসাকে সহজ করার মাধ্যম
০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত কিতাব পবিত্র কুরআন শরীফ উনার পবিত্র আয়াত শরীফ সংখ্যা ৬,৬৬৬। আর এ মতটি বহুল প্রচলিত, মশহূর ও গ্রহণযোগ্য (৫)
০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ভোট, নির্বাচন, পদপ্রার্থী হওয়া ইত্যাদি কোনটিই জায়িয নেই
০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠের বিস্ময়কর বাস্তব ঘটনাসমূহ
০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












