ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ তথা পবিত্র ঈদে বিলাদতে রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা ফরয (১৩)
, ২৭ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১২ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ১১ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ২৭ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
তাহলে দু’ঈদ ব্যতীত দেখা গেল, জুমুয়ার দিনকেও আমরা ঈদের দিন হিসেবে পাচ্ছি হাদীছ শরীফের মাধ্যম দিয়ে। আরাফার দিনকেও ঈদের দিন হিসেবে পাচ্ছি। এখন আরাফার দিন তো বছরে একদিন। আরাফার দিন হচ্ছে হজ্জের যেদিন সেদিনকে বলা হয় অর্থাৎ ৯ই যিলহজ্জকে আরাফার দিন বলা হয়। সেটা মুসলমানদের জন্য ঈদের দিন।
আর জুমুয়ার দিন কিন্তু বছরে এক দিন নয়। আরবী বৎসর হিসেবে যদি গণনা করা হয়, আরবী বৎসর ইংরেজী ও বাংলা থেকে কিন্তু কিছু কম হয়ে থাকে- ৩৫৪, ৩৫৫, ৩৫৬ দিন হয়ে থাকে।
অর্থাৎ ইংরেজীতে যেমন ৫২ সপ্তাহে এক বৎসর হয়ে থাকে সাধারণত। আরবীতে সেটা নয়। আরবীতে ৫০ অথবা ৫১ সপ্তাহ হয়ে থাকে। সাধারণত ৫০ সপ্তাহে এক বৎসর হয়। অতিরিক্ত কয়েক দিন হতে পারে। চার, পাঁচ, ছয় দিন হতে পারে। এখন যদি ৫০ সপ্তাহ হয়ে থাকে আরবীতে, আরবী বৎসরে তাহলে ৫০টা জুমুয়া হবে।
তাহলে দেখা যাচ্ছে, ৫০টা জুমুয়াতে ৫০টা ঈদ হচ্ছে মুসলমানদের জন্য, এক বৎসরে কমপক্ষে এখানে ৫০টা ঈদ পাওয়া যাচ্ছে। আরাফার দিন ধরলে হচ্ছে আরো একটা অর্থাৎ ৫১টা হয়ে গেলো।
এরপর হাদীছ শরীফে আরো বর্ণিত রয়েছে, কি বর্ণিত রয়েছে?
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لِكُلِّ مُؤْمِنٍ فِي كُلِّ شَهْرٍ أَرْبَعَةُ أَعْيَادٍ أَوْ خَمْسَةُ أَعْيَادٍ
মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাস্সাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন- দেখ, প্রত্যেক মু’মিন-মুসলমানের জন্যে প্রতি মাসে চারটা অথবা পাঁচটা ঈদ রয়েছে। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইরশাদ মুবারক, হাদীছ শরীফে রয়েছে, বিশ^খ্যাত ফিক্বাহ, ফতওয়া, তাফসীরে বর্ণিত রয়েছে, “যা মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, প্রত্যেক মু’মিন-মুসলমানের জন্যে প্রতি মাসে চারটা অথবা পাঁচটা ঈদ রয়েছে। সুবহানাল্লাহ!
أَرْبَعَةُ أَعْيَادٍ أَوْ خَمْسَةُ أَعْيَادٍ
এটা মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাস্সাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাদীছ শরীফ। যে, প্রতি মাসে মু’মিনের জন্যে চারটা অথবা পাঁচটা ঈদ রয়েছে। এই চারটা অথবা পাঁচটা ঈদ হচ্ছে সোমবার দিন। এখন চারটা বা পাঁচটা সোমবারে চারটা বা পাঁচটা ঈদ। কাজেই, জুমুয়াবার বা জুমুয়ার দিন যেমন এক বৎসরে ৫০টা কমপক্ষে। তেমনি সোমবারও ৫০টা হবে। এখন ৫০+৫০ = ১০০ হয়ে গেল। আরাফার দিন একদিন = ১০১টা হয়ে গেলো।
অতএব, যারা বলে থাকে, “বৎসরে দু’টা ঈদ ছাড়া আর ঈদ নেই শরীয়তে, তৃতীয় ঈদ আসলো কোথা থেকে? এটা কোন ঈদ?”- তাহলে দেখা যাচ্ছে, এরা আশাদ্দুদ্ দরজার জাহিল, মুর্খ। এরা হাদীছ শরীফ সম্পর্কে নেহায়েত অজ্ঞ।
কারণ, মাশহুর হাদীছ শরীফের কিতাবের মধ্যে রয়েছে, “জুমুয়ার দিনকে ঈদের দিন ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার দিনকে ঈদের দিন ঘোষণা করা হয়েছে। আরাফার দিনকে ঈদের দিন ঘোষণা করা হয়েছে।” তাহলে এখানে কমপক্ষে আমরা ১০১টা ঈদ পাচ্ছি। এরপরে আবার বুখারী শরীফে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَىٰ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ: فَرْحَةٌ عِنْدَ فِطْرِهِ، وَفَرْحَةٌ عِنْدَ لِقَاءِ رَبِّهِ. عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ
এটা ‘মুত্তাফাকুন আলাইহি’ বুখারী, মুসলিম শরীফে বর্ণিত রয়েছে, হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বর্ণনা করেন, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাস্সাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
لِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ
রোযাদারের জন্য দু’টা খুশী রয়েছে। মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব বলেন, এখানে দু’টা ঈদ রয়েছে, দুটা খুশী, দু’টা ঈদ রয়েছে। কখন,
فَرْحَةٌ عِنْدَ فِطْرِهِ، وَفَرْحَةٌ عِنْدَ لِقَاءِ رَبِّهِ
একটা হচ্ছে আল্লাহ পাক উনার সাক্ষাতে যখন কোন রোযাদার যাবে তখন তার খুশী হবে, ঈদ হবে সেটা। সুবহানাল্লাহ!
ইন্তেকালের পরে বান্দা যখন, রোযাদার যখন মহান আল্লাহ পাক উনার সাক্ষাতে যাবে তখন মহান আল্লাহ পাক উনার সাক্ষাতে গেলে সেটা তার জন্য ঈদের দিন, খুশীর দিন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
বেপর্দা হওয়া লা’নত ও হালাকীর কারণ
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বেপর্দা হওয়া লা’নত ও হালাকীর কারণ
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
আরব দেশ থেকে ইহুদী-নাছারা তথা সমস্ত কাফির-মুশরিকদেরকে বের করে দেয়ার ব্যাপারে কঠোর হুশিয়ারী
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
১০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
যেখানে প্রাণীর ছবি থাকে, সেখানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না
১০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রকাশ্য অপ্রকাশ্য সমস্ত প্রকার অশ্লীলতাই হারাম
১০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
দেশে দেশে জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার অফিসমূহের পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী কার্যক্রমের ইতিহাস (১৫তম পর্ব)
০৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মুহব্বত ঈমান, আর উনাদের সমালোচনা করা লা’নতগ্রস্ত হওয়ার কারণ
০৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দায়িমীভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওহী মুবারক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত
০৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
০৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












