ঈমানী কুওওয়াত বা শক্তি বৃদ্ধিকারী কতিপয় ঘটনা
, ১৩ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৭ রবি, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি:, ১০ আশ্বিন, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
(ধারাবাহিক পর্ব ১৬)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম, বনূ উমাইয়া ও বনূ আব্বাস উনাদের খবর দান:
(১২) হযরত ছাওর ইবনে মাজযাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, জামাল যুদ্ধে আমি হযরত তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার কাছে গেলাম। তখন উনার মধ্যে সামান্য প্রাণ স্পন্দন অবশিষ্ট ছিলো। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কোন দলের লোক? আমি বললাম, ইমামুল আউওয়াল, হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার সাথীগণের একজন।
হযরত তালহা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, আপনি হাত প্রসারিত করুন। আমি আপনার হাত মুবারকে বাইয়াত হবো। আমি হাত বাড়ালাম। তিনি বাইয়াত হলেন। আর সেই মুহূর্তে তিনি বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করলেন। আমি ফিরে এসে এই ঘটনা ইমামুল আউওয়াল, হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাকে জানালাম। তিনি তা শুনে বললেন, আল্লাহু আকবার! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সত্য বলেছিলেন যে, আমার বাইয়াতের বেড়ি গলায় না নিয়ে হযরত তালহা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু জান্নাতে যাবেন এটা মহান আল্লাহ পাক উনার পছন্দনীয় নয়। (আল-মুস্তাদরাক, ৪/৪৫৫, ইতহাফুল মাহারাহ ১১/ ৩০৮, খাসায়িসুল কুবরা ২/১৪৫)
(১৩) উহুদ জিহাদে শাহাদাত বরণকারী বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত আবদুর রহমান ইবনে সহল আনসারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, প্রত্যেক নবুওয়াত মুবারকের পরে খিলাফত ছিলো। প্রত্যেক খিলাফতের পরে বাদশাহী (রাজতন্ত্র) জন্ম নিবে এবং প্রত্যেক যাকাত কর তথা ট্যাক্সের রূপ ধার করবে। (মাশীখাতু ইবনে তুহমান ৪১, তারীখে দামেশক ৩৪/৪২১,ইছাবা ফী তাময়িজিস ছাহাবা ৪/৩১৩, ফাইজুল কাদীর ৫/৪৬৩, কানজুল উম্মাল ১৯/৭৯)
(১৪) হযরত ছফীনাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমার উম্মতের মধ্যে ৩০ বছর সম্মানিত খিলাফত মুবারক থাকবে। অতঃপর মহান আল্লাহ পাক তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে রাজত্ব দান করবেন। উল্লেখ্য যে, সম্মানিত খিলাফতে রাশেদার সময়কাল ৩০ বছর পূর্ণ হয়েছিলো সম্মানিত পাঁচজন খলীফা আলাইহিমুস সালাম উনাদের মাধ্যমে। উনারা হচ্ছেন, হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম, হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম, হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম, হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম এবং হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহ হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ! (তিরমিযী শরীফ ৪/ ৫০৩, আবূ দাঊদ শরীফ ৬/৩৪১,মুসনাদ আহমদ শরীফ ১০/৫১৩৮)
(১৫) হযরত হুযায়ফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম! আপনারা সম্মানিত নবুওয়াত মুবারক উনার সময়কালে জীবনযাপন করছেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি যতদিন চাইবেন, ততদিন এই সম্মানিত নবুওয়াত মুবারক কায়িম থাকবে। তারপর সম্মানিত নবুওয়াত মুবারক তুলে নেয়া হবে। অতঃপর সম্মানিত নবুওয়াত মুবারকের পদ্ধতিতে সম্মানিত খিলাফত মুবারক প্রতিষ্ঠিত হবে।
মহান আল্লাহ পাক তিনি যতদিন চাইবেন, এই সম্মানিত খিলাফত মুবারক অব্যাহত থাকবে। এরপর সম্মানিত খিলাফত মুবারক তুলে নেয়া হবে এবং যুলুম ও অবিচারে পরিপূর্ণ রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে। এ সময় অত্যাচার ও নিপীড়ন চলবে। যতদিন মহান আল্লাহ পাক তিনি চাইবেন, এই অত্যাচার চলতে থাকবে। তারপর তা খতম (শেষ) হয়ে যাবে। অতঃপর সম্মানিত নবুওয়াত মুবারকের পদ্ধতিতে সম্মানিত খিলাফত মুবারক প্রতিষ্ঠিত হবে। সুবহানাল্লাহ!
হযরত উমর ইবনে আবদুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি যখন খলীফা মনোনীত হলেন, উনার কাছে এই হাদীছ শরীফ বর্ণনা করা হলো। তখন ইমাম মুজতাহিদ ও আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা উনাকে বললেন, হে আমীরুল মু’মিনীন আলাইহিস সালাম! আমরা আশা করি এই সম্মানিত খিলাফত মুবারকই আপনার সম্মানিত খিলাফত মুবারক। একথা শুনে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হলেন এবং খুশী প্রকাশ করলেন। (মুসনাদে আহমদ শরীফ ৩০/৩৫৫, আবূ দাউদ শরীফ ১/৩৪৯, মুসনাদ আল-বাযযার শরীফ ৭/২২৩, খাসায়িসুল কুবরা ২/১৪৩)
(১৬) হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমায়ের রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, একটি মাত্র বিষয় আমাকে সম্মানিত খিলাফতের প্রতি উৎসাহিত করেছে। আর তা হচ্ছে- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন, “হে হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! যখন আপনি খলীফা হবেন, তখন মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করবেন এবং ইনসাফ তথা ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করবেন।” তাই আমি সর্বদা ভাবতাম যে, আমি একদিন সম্মানিত খিলাফত মুবারকে সমাসীন হবো। কেননা, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বয়ং নিজেই আমাকে একথা বলে দিয়েছেন। (দালায়িলুন নুবুওয়াহ ৬/৪৪৬, মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহ ৬/২০, তাবারানী ৫/৩৪৩, খাসায়িসুল কুবরা ২/১১৬, সুবুলুল হুদা ১০/২১৫, মু‘জামুল আওসাত ৫/৩৪৩) (ইনশাল্লাহ চলবে)
-আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্রতা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল (৮)
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা হারাম ও নাজায়িজ
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
ছদকা করার ফলে বিপদের সময় উটনীর দুধ লাভ
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
একখানা মহাসম্মানিত সুন্নাত মুবারক আমল করলে, মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে ৪টি নিয়ামত মুবারক
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
দ্বীন ইসলাম ব্যতিত অন্য কোন তন্ত্র-মন্ত্র নিয়মনীতি শরীয়তসম্মত নয়
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি আদেশ মুবারক করেছেন-
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বঙ্গ, বাংলা, বাঙ্গালী শব্দের উৎপত্তি মুসলমানদের মাধ্যম দিয়েই (৫)
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যেই ২৬ খানা আয়াত শরীফ বাদ দেয়ার জন্য ভারতের আদালতে রিট করেছিলো ইসলামবিদ্বেষীরা
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা শক্ত হারাম, রয়েছে কঠিন শাস্তি
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












