¬ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ তাক্বওয়া হাছিল করার গুরুত্ব-ফযীলত (১৭)
, ২০ রবিউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৪ খমীছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৩ অক্টোবর, ২০২৫ খ্রি:, ২৯ আশ্বিন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
تَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ
“তোমরা নেক কাজ এবং পরহেযগারীর মধ্যে সাহায্য করো। শত্রুতা এবং পাপের মধ্যে তোমরা সাহায্য করো না।”
নেক কাজ এবং পরহেযগারীর মধ্যে সাহায্য করতে হবে। এখন কেউ যদি পাপে সাহায্য করে তাহলে সে পাপের দোষে দুষিত হবে। আর নেক কাজ এবং পরহেযগারীর মধ্যে যদি সে সাহায্য করে তাহলে মূলতঃ সে নেককার এবং পরহেযগারের অন্তর্ভুক্ত হবে।
এ প্রসঙ্গে বলা হয়, হযরত গাউছুল আ’যম, শায়েখ সাইয়্যিদ মুহিউদ্দীন আবদুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পিতা। হযরত বড় পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি এত বড় মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী হলেন, বুযূর্গ হলেন, উনার কতটুকু পরহেযগারী ছিল, উনার বাবা-মায়ের কতটুকু পরহেযগারী ছিল? এ প্রসঙ্গে একটা ঘটনা বলা হয়, গাউছুল আ’যম হযরত বড় পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পিতা ছিলেন, আবু ছলেহ মুসা জঙ্গীদোস্ত রহমতুল্লাহি আলাইহি। উনি অল্প বয়স থেকে যুদ্ধ করতেন। যুদ্ধপ্রিয় ছিলেন এজন্য উনাকে ‘জঙ্গীদোস্ত’ বলা হয়।
উনি একবার তিনদিন যাবৎ না-খাওয়া ছিলেন। এবং এ অবস্থায় উনি দজলা নদীর তীর দিয়ে হাঁটছিলেন। হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ দেখলেন, নদীর মধ্যে একটা আপেল ফল পড়ে রয়েছে। তখন এ আপেলটা উনি ক্ষুধার কারণে খেয়ে ফেললেন। যখন আপেলটা খেয়ে ফেললেন, খেয়ে ফেলার পরে উনি রাতে বিছানায় গেলেন শোয়ার জন্যে, কিন্তু উনার ঘুম হলো না। উনি এপাশ-ওপাশ করতে লাগলেন, ছটফট করতে লাগলেন।
সকালবেলা ফজর নামায পড়ে উনি রওয়ানা হলেন। এ আপেলটা কার, এটা বের করতে হবে। উনাকে দাম দিতে হবে। কারণ অন্যের ফল আমি না বলে খেয়ে ফেলেছি। কাজেই তার জন্য আমাকে জবাবদিহি করতে হবে মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে। উনি সত্যিই ঘুম থেকে উঠে ফলটা যেদিক থেকে ভেসে এসেছিল সেদিকে উনি হাঁটতে লাগলেন। হাঁটতে হাঁটতে অনেক দূর গেলেন। অনেক দূর যাওয়ার পর উনি দেখলেন, একটা আপেল ফলের বাগান। বাগানের মধ্যে অনেক আপেল গাছ। তার মধ্যে একটি গাছের ডালা পানির উপর ঝুলে রয়েছে। সেই ডালার মধ্যে কতগুলো ফল ঝুলছে। কতটা ফল পানির মধ্যে পড়ে রয়েছে।
তখন হযরত আবু ছলেহ মুসা জঙ্গীদোস্ত রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মনে মনে চিন্তা করলেন, সত্যিই আমি হয়ত এ গাছের ফলই খেয়েছি। উনি সরাসরি বাগানের মালিকের কাছে গেলেন, মালিককে পাওয়া গেল না। ওখানকার যে খেদমতগার ছিল তাকে পাওয়া গেল। উনি বললেন, মালিককে সংবাদ দেয়া হোক। মালিককে সংবাদ দেয়া হলো। মালিক ছিলেন একজন বুযূর্গ ব্যক্তি। উনার নাম হযরত আবদুল্লাহ সাওমাই রহমতুল্লাহি আলাইহি।
উনি যখন আসলেন, আসার পরে হযরত আবু ছলেহ মুসা জঙ্গীদোস্ত রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, হুযূর! আমি তো আপনার বাগানের একটা ফল খেয়ে ফেলেছি। অবশ্যই আমি ইচ্ছাকৃত খাইনি। আমি তিনদিন না খাওয়া ছিলাম। পবিত্র শরীয়ত উনার মাসআলা হলো, কোন লোক যদি তিনদিন না খাওয়া থাকে, আমাদের হানাফী মাযহাব মোতাবেক তার জন্য হারামটা মুবাহ হয়ে যায়। জরুরত আন্দাজ সে খেতে পারে। তবুও উনি পরহেযগারীর কারণে, তাকওয়ার কারণে গিয়ে বললেন, আমি আপনার গাছের একটা ফল খেয়ে ফেলেছি অজান্তেই অর্থাৎ ক্ষুধার তাড়নায়। আমি সেটার মূল্য দিতে এসেছি।
হযরত আব্দুল্লাহ সাওমাই রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি শুনে মনে মনে চিন্তা করতে লাগলেন এবং লক্ষ্য করলেন যে, লোকটা কেমন? লোকটাকে দেখে মনে হয় আল্লাহওয়ালা। আর আমার গাছের হাজার হাজার ফল মানুষ খায়, কোনদিন কোন লোক আসল না ফলের মূল্য দেয়ার জন্যে। আর এ লোকটা একটা ফল খেয়েছে, তাও ক্ষুধার তাড়নায়। তথাপি তিনি এসেছেন তার মূল্য দেয়ার জন্যে। নিশ্চয়ই তিনি একজন সাধারণ ব্যক্তি হবেন না। নিশ্চয়ই তিনি একজন খাছ আল্লাহওয়ালা হবেন।
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া কবীরা গুনাহ
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ بُرَيْدَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لاَ تُتْبِعِ النَّظْرَةَ النَّظْرَةَ فَإِنَّ لَكَ الأُولَى وَلَيْسَتْ لَكَ الآخِرَةُ
অর্থ: হযরত বুরাইদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, দৃষ্টিকে অনুসরণ করো না। প্রথম দৃষ্টি (যা অনিচ্ছা সত্ত্বে পতিত হয় তা) ক্ষমা করা হবে; কিন্তু পরবর্তী দৃষ্টি ক্ষমা করা হবে না। অর্থাৎ প্রতি দৃষ্টিতে একটি কবীরা গুণাহ্ লেখা হয়ে থাকে। (আহমদ শরীফ, তিরমিযী শরীফ, আবু দাঊদ শরীফ, দারিমী, মিশকাত শরীফ)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
প্রসঙ্গ: সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
২৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
২৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
২৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরুত তাশরীফ মুবারক প্রকাশ (বিলাদতী শান মুবারক) ও পবিত্র নূরুর রিহালাহ শরীফ (বিছালী শান মুবারক) প্রকাশের তারিখ ও সময় নিয়ে ইখতিলাফের জওয়াব
২৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
২৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা পালন করা নারী-পুরুষ সকলের জন্যই শান্তি ও পবিত্রতা হাছিলের কারণ
২৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল হাদী আশার মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত কারামত ও কামালত মুবারক
২৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত আন নূরুর রবি’ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত বিছালী শান মুবারক প্রকাশের দিন সূর্য শোক প্রকাশ করেছিল!
২৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সর্বশ্রেষ্ঠ রাত পবিত্র লাইলাতুল মাওলিদ (মহাপবিত্র নূরুত তাশরীফ উনার রাত মুবারক) আজ থেকে প্রায় ৭০০ বছর আগের শ্রেষ্ঠত্বের পক্ষে দলীলসমূহ (১ম পর্ব)
২৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা হারাম ও নাফরমানীমূলক কাজ
২৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












