সর্বশ্রেষ্ঠ রাত পবিত্র লাইলাতুল মাওলিদ (মহাপবিত্র নূরুত তাশরীফ উনার রাত মুবারক) আজ থেকে প্রায় ৭০০ বছর আগের শ্রেষ্ঠত্বের পক্ষে দলীলসমূহ (১ম পর্ব)
, ১০ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৫ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৪ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ০৯ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
সম্মানিত দুই রাত মুবারক পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর শরীফ না পবিত্র লাইলাতুল মাওলিদ শরীফ (মহাপবিত্র নূরুত তাশরীফ রাত মুবারক) কোনটি শ্রেষ্ঠ? এই মহাসম্মানিত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, ফিকহী ও যৌক্তিক সমাধানের লক্ষ্যেই ৮ম হিজরীর উত্তর আফ্রিকা (মাগরিব) ও আন্দালুসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলিম, প্রখ্যাত মালেকী ফক্বীহ ও মুহাদ্দিছ হাফিজ আবু আব্দুল্লাহ মুহম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মারজুক আত-তিলেমসানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি (ওফাত: ৭৮১ হিজরী, ১৩৭৯ ঈসায়ী) রচনা করেন এক কালজয়ী গ্রন্থ: যার আরবী নাম-
جنى الجنتين في شرف الليلتين: ليلة القدر - ليلة المولد
অর্থাৎ “দুই রাতের মর্যাদা সম্পর্কে দুই জান্নাতের ফল, পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর শরীফ ও পবিত্র লাইলাতুল মাওলিদ শরীফ (মহাপবিত্র নূরুত তাশরীফ) রাত মুবারক।
এই কিতাবটি রচনার মূল প্রেক্ষাপট ও ঐতিহাসিক কারণ:-
১. উত্তর আফ্রিকা (বিশেষ করে মাগরিব ও আন্দালুস অঞ্চলে) ঈদে বিলাদতে রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিবস উদযাপন রাষ্ট্রীয় ও সামাজিকভাবে ব্যাপক আকারে পালন হতো, সেই সময় আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে মুসা ইবনে মুহম্মদ আল-লখমি আল-গারনাতি আশ-শাতিবী- (ওফাত ৭৯০ হিজরী, ১৩৮৮ ঈসায়ী) নামে এক ব্যক্তি ফতওয়া প্রদান করে শরীয়তে নির্দিষ্ট দুটি ঈদ ছাড়া মাওলিদ (মহাপবিত্র নূরুত তাশরীফ) পালনের কোনো ভিত্তি নেই। এ সময়ে তিনি আল-ই’তিসাম (الاعتصام)- বিদআতের সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ নিয়ে এ কিতাবটা লিখেন।
(পরবর্তীকালে আল-ই’তিসাম- (পবিত্র মাওলিদ শরীফ বা মহাপবিত্র নূরুত তাশরীফ) উনার বিরোধী আলিমগং, আল-ই’তিসাম কিতাবখানা (পবিত্র মাওলিদ শরীফ বা মহাপবিত্র নূরুত তাশরীফ) উনার বিপক্ষে তাদের প্রধান দলিল হিসেবে গ্রহণ করে। যেমন: মুহম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব নজদী, নাছিরউদ্দীন আলবানী সকল সালাফী, ওহাবী অনুসারীরা এবং দেওবন্দী ঘরানার কিছু আলিমগং) মুফতি আবু ইসহাক আশ-শাতিবী তার ফতওয়া ও কিতাব লেখনির কারণে, তিনি গ্রন্থাকারের লিখক) সরাসরি মুফতি আবু ইসহাক আশ-শাতিবী উত্থাপিত আপত্তি, যুক্তির খ-ন ফতওয়া ও তার কিতাব ‘আল-ই’তিসাম’ (الاعتصام)-এ অবস্থানের বিরুদ্ধে এবং তাঁর উত্তরের অংশ হিসাবে তিনি বিখ্যাত গ্রন্থ جنى الجنتين في شرف الليلتين: ليلة القدر - ليلة المولد রচনা করেন। (কিতাবখানা লিখনির কারণে তখনকার ফিতনা মিটে যায় কিন্তু পরবর্তীকালে আবার শুরু হয় আল-ই’তিসাম কিতাবের মাধ্যমে)
২. তাজউদ্দীন আবু হাফস উমর বিন আলী বিন সালেম বিন সাদাকাহ আল-লখমী আল-ফাকাহানী ওফাত: (৭৩১ হিজরী,১৩৩১ ঈসায়ী) লিখিত গ্রন্থ الموردفي عمل المولد (আল-মাওয়ারিদু ফি আমালিল মাওলিদ কিতাবের প্রতিটি বক্তব্য, দলিল ও যুক্তিকে ধরে ধরে উত্তর দিয়েছেন, ২য় পর্বে উল্লেখ করা হবে)
অসংখ্য দলিলের মাধ্যমে তিনি লাইলাতুল মাওলিদ শরীফ (মহাপবিত্র নূরুত তাশরীফে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাত মুবারক উনার শ্রেষ্ঠত্বের পক্ষে ২১টি যুক্তি উপস্থাপন করেন, এর পাশাপাশি ২১টি যুক্তির পরে আবার কি কি প্রশ্ন হতে পারে সেটাও উত্তর দিয়ে গেছেন। আমরা ২১টি যুক্তি ও যুক্তির পরের প্রশ্নের উত্তর ধারাবাহিক প্রকাশ করবো। ইনশাআল্লাহ!
মূল গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে- তারা বলে কোন আমলের ক্ষেত্রে দলিল লাগবে, তাই মহাপবিত্র কুরআন শরীফ ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার দলীল দ্বারা পবিত্র লাইলাতুল ক্বদরের আমল প্রমাণিত, এজন্যই তিনি পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর রাত মুবারকের চাইতে শ্রেষ্ঠ ও বরকতময় রাত মুবারক হলো পবিত্র লাইলাতুল মাওলিদ শরীফ বা (মহাপবিত্র নূরুত তাশরীফে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রাত মুবারক) যা অসংখ্য দলীল দ্বারা প্রমাণ করেছেন।
২১টি যুক্তিসমূহ ধারাবাহিক প্রকাশ করা হলো উক্ত কিতাব থেকে- (১৯১ থেকে ২০৫ পৃষ্ঠা পর্যন্ত)
الأدلة على أفضلية ليلة المولد
পবিত্র মাওলিদ শরীফ বা (মহাপবিত্র নূরুত তাশরীফ): রাত মুবারক উনার শ্রেষ্ঠত্বের পক্ষে দলীলসমূহ:
فنقول: الدليل على ما نختاره من أثرة ليلة المولد بالمعنى الذي قدمناه من وجوه:
আমরা বলবো, পবিত্র মাওলিদ শরীফ (মহাপবিত্র নূরুত তাশরীফ) রাত মুবারক উনার যে অর্থে এবং যে উদ্দেশ্যে প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়টি বেছে নিয়েছি, উনার পক্ষে দলীল বা প্রমাণ রয়েছে কয়েকটি দিক থেকে:
الأول: إنَّ الشرف حسبما قدمناه هو العلو والرفعة، وهما نسبتان إضافيتان، فشرف كل ليلة بحسب ما شرفت به، وليلة المولد شرفت بولادة خير خلق الله عزَّوَجَلَّ، فثبت بذلك أفضلُتها بهذا الاعتبار.
প্রথম যুক্তি : আমরা ইতিপূর্বে যেমনটি উল্লেখ করেছি, নিশ্চয়ই সম্মান বা মর্যাদা হলো উচ্চতার ও সুউচ্চ অবস্থান, আর এ দুটি আপেক্ষিক বিষয়। সুতরাং প্রতিটি রাত মুবারকের সম্মান ও মর্যাদা নির্ভর করে সেই বিষয়টি যার মাধ্যমে সেটি সম্মানিত হয়েছে। আর পবিত্র মাওলিদ শরীফ (মহাপবিত্র নূরুত তাশরীফ) উনার রাত মুবারক সম্মানিত হয়েছে মহান আল্লাহ পাক উনার সৃষ্টিজগতের শ্রেষ্ঠ মহাপবিত্র সত্তা মুবারক উনার দুনিয়ায় (মহাপবিত্র নূরুত তাশরীফ) গ্রহণের মাধ্যমে। ফলে এই দিক বিবেচনা করে পবিত্র মাওলিদ শরীফ (মহাপবিত্র নূরুত তাশরীফ) রাত মুবারকের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত হয়।
الثاني: إنَّ ليلة المولد ليلة ظهوره صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وليلة القدر معطاة له حسبما قدمناه، وما شرف بظهور ذات المشرف من أجله أشرف مما شرف بسبب ما أعطيه، ولا نزاع في ذلك، فكانت ليلة المولد بهذا الاعتبار أشرف.
দ্বিতীয় যুক্তি : নিশ্চয়ই পবিত্র মাওলিদ শরীফ (মহাপবিত্র নূরুত তাশরীফ) রাত মুবারক হলো নুরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিয়ায় আত্মপ্রকাশের পবিত্র রাত মুবারক। আর পবিত্র শবে ক্বদর শরীফ হলো এমন একটি পবিত্র রাত মুবারক যা উনাকে প্রদান বা হাদিয়া করা হয়েছে, যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করেছি। আর যে মহাপবিত্র সত্তা মুবারক উনার আত্মপ্রকাশের কারণে কোনো বিষয় সম্মানিত হয়েছে, সেটির সম্মান ওই বিষয়ের সম্মান অপেক্ষা অধিক শ্রেষ্ঠ, যা কেবল উনকে কোনো কিছু হাদিয়া বা প্রদান করার কারণে সম্মানিত হয়েছে। এ বিষয়ে কোনো বিরোধ নেই। সুতরাং এই দিক বিবেচনা করে পবিত্র মাওলিদ শরীফ (মহাপবিত্র নূরুত তাশরীফ) রাত মুবারক অধিক মর্যাদাপূর্ণ ও সর্বশ্রেষ্ঠ।
لثالث : إنَّ ليلة القدر إحدى ما منحه من شرفت ليلة المولد بوجوده من المواهب (٤٥/أ) والمزايا وهي لا تحصى كثرة، وما شر بإحدى خصائص من ثبت له الشرف المطلق لا يتنزل منزلة المتشرف بوجوده، فظهر أن ليلة المولد أشرف بهذا الاعتبار وهو المطلوب.
তৃতীয় যুক্তি : নিশ্চয়ই পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর শরীফ হলো ওই সমস্ত হাদিয়া ও বৈশিষ্ট্যের অন্যতম একটি, যা পবিত্র মাওলিদ শরীফ (মহাপবিত্র নূরুত তাশরীফ) রাত মুবারক উনার উপস্থিতির মাধ্যমে সম্মানিত হয়েছে, উনার পক্ষ থেকে (১/৪৫ অংশে) সেটিকে প্রদান করা হয়েছে। আর এই হাদিয়া ও বৈশিষ্ট্যগুলোর সংখ্যা অসংখ্য। আর যে মহাপবিত্র সত্তা মুবারক কোনো একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য মুবারকের কারণে কোনো বিষয় সম্মানিত হয়েছে, যাঁর জন্য নিখুঁত ও নিরঙ্কুশ সম্মান সাব্যস্ত হয়েছে, সেটিকে ওই মহাপবিত্র সত্তা মুবারক উনার সমতুল্য মনে করা যায় না, যাঁর নিজের পবিত্র উপস্থিতি মুবারক অস্তিত্ব মুবারক উনার মাধ্যমে অন্য কিছু সম্মানিত হয়েছে। সুতরাং এটি স্পষ্ট হয়ে গেলো যে, এই দিক বিবেচনা করে পবিত্র লাইলাতুল মাওলিদ শরীফ (মহাপবিত্র নূরুত তাশরীফ) রাত মুবারক অধিক মর্যাদাপূর্ণ ও শ্রেষ্ঠ, আর এটিই কাক্সিক্ষত বিষয়। (চলবে)
বর্তমান সময়ে অকাট্য, প্রকাশ্য দলিল দ্বারা এবং ৯০ দিনব্যাপী আজিমুশ্বন মাহফিল উনার ইন্তেজাম করে এই মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুত তাশরীফ দিবস মুবারক তথা মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন যিনি ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মহান মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম।
-খন্দকার মুহম্মদ আরিফ হাসান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
প্রসঙ্গ: সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
২৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
২৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
২৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরুত তাশরীফ মুবারক প্রকাশ (বিলাদতী শান মুবারক) ও পবিত্র নূরুর রিহালাহ শরীফ (বিছালী শান মুবারক) প্রকাশের তারিখ ও সময় নিয়ে ইখতিলাফের জওয়াব
২৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
২৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা পালন করা নারী-পুরুষ সকলের জন্যই শান্তি ও পবিত্রতা হাছিলের কারণ
২৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল হাদী আশার মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত কারামত ও কামালত মুবারক
২৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত আন নূরুর রবি’ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত বিছালী শান মুবারক প্রকাশের দিন সূর্য শোক প্রকাশ করেছিল!
২৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা হারাম ও নাফরমানীমূলক কাজ
২৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












