মন্তব্য কলাম:
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না।
যানজট নিরসনের মূল কারণ চিহ্নিত ও পদক্ষেপ নিতে না পারাই ঢাকায় যানজটের প্রধান কারণ। (৪)
, ২১ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১০ হাদী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ১০ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি:, ২৭ চৈত্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) মন্তব্য কলাম
ঢাকা মহানগরে যানজটের প্রধান প্রধান অনেক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে কিছু কারণ হলো,
১) ঢাকামূখী জনস্রোত:
অর্থনৈতিক, সামাজিক ও অবকাঠামোগত বৈষম্যের কারণে প্রতিদিন মানুষ ঢাকামুখী হতে বাধ্য হচ্ছে। থানা ও জেলা শহরের তুলনায় ঢাকাকে পুরোপুরি অর্থনীতিনির্ভর শহর করা হয়েছে। চাকুরী, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিচার আদালত, উন্নত নাগরিক সুবিধা ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে দেশের প্রতিটি অঞ্চল থেকে প্রতিদিন লোকজন রাজধানীতে আসছে। তবে বেশীরভাগ মানুষ আসছে কাজের সন্ধানে। ঢাকামূখী এই জনস্রোত বন্ধে গ্রাম থেকে জেলা পর্যায়ে সরকারের তেমন কোন পরিকল্পনা নেই। ফলে দিন দিন এই জনস্রোত বেড়েই চলেছে।
ঢাকামূখী জনস্রোতের প্রধান কারণ হলো,
ক) গ্রামে কর্মসংস্থানের অভাব ও দারিদ্র্যতা: গ্রামাঞ্চলের জীবিকা মূলত কৃষি নির্ভর হওয়ায় সেখানে কাজের ক্ষেত্র কম। সরকারি অপর্যাপ্ত বরাদ্দগুলোও কায়িক শ্রম বা কৃষি ভিত্তিক। আইটি ও শিল্পের মাধ্যমে যে কর্মসংস্থান হওয়ার কথা, তার পর্যাপ্ত বরাদ্দ ও পরিকল্পনা নেই।
ফলে কর্মসংস্থানের অভাবে বেকারত্ব, দারিদ্রতা ও ঋণের বোঝায় দিশেহারা মানুষ ঢাকায় আসতে বাধ্য হচ্ছে।
খ) বাইরের তুলনায় ঢাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগ: ঢাকার বাইরে শিল্পায়ন ও বেসরকারি খাতের বিকাশ তুলনামূলকভাবে খুবই কম। দেশের অধিকাংশ সরকারি-বেসরকারি প্রধান কার্যালয় ও কর্পোরেট অফিসগুলো ঢাকায় অবস্থিত। পোশাক শিল্পের বিশাল একটি অংশ ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় অবস্থিত। জেলা পর্যায়ে এসব প্রতিষ্ঠান তেমন একটা নেই। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য নিজ জেলার পরিবর্তে ঢাকায় কাজের সুযোগ বেশি।
রিকশা চালনা থেকে শুরু করে হকারি বা দিনমজুরি গার্মেন্টস, নির্মাণ, পরিবহন, দোকানপাটসহ অন্যান্য খাতে ঢাকায় সহজে কাজ পাওয়া যায়। নগদ অর্থ উপার্জনের পথ গ্রামের তুলনায় সহজ। উচ্চতর মজুরি, আয়ের সুযোগ এবং ব্যবসার সম্ভাবনা মানুষকে ঢাকামূখী করে তোলেছে।
গ) মানসম্মত শিক্ষা ও চিকিৎসা: দেশের প্রায় ৮০ ভাগ সরকারি-বেসরকারি চাকরি, হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকায় অবস্থিত। মানুষ উন্নত জীবনযাত্রার জন্য ঢাকার ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। দেশের সেরা সব বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ, হাসপাতাল, কলেজ এবং কোচিং সেন্টারগুলো ঢাকা কেন্দ্রিক। বিশেষায়িত সকল হাসপাতাল ঢাকায়। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে প্রথম পছন্দ থাকে ঢাকা। উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগী ঢাকায় আসতে বাধ্য হয়। ঢাকার বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোই একমাত্র ভরসা। চিকিৎসকরাও উন্নত চিকিৎসার রোগীদের ঢাকায় রেফার করেন। কারণ জেলা পর্যায়ে এখনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, বিশেষায়িত হাসপাতাল, উন্নত প্রযুক্তির চিকিৎসা সরঞ্জাম নেই। সব উন্নয়ন হচ্ছে ঢাকা কেন্দ্রীক।
ঘ) ঢাকাকেন্দ্রীক প্রশাসনিক ব্যবস্থা: প্রশাসনিক সব কাজ ঢাকা কেন্দ্রিক হওয়ায় সাধারণ মানুষকে ছোটখাটো কাজের জন্য বা তদবিরের প্রয়োজনেও ঢাকায় আসতে হয়। সচিবালয় থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর, অধিদপ্তর, উচ্চ আদালত, বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় এখানে হওয়ায় লোকজনকে ইচ্ছা-অনিচ্ছায় ঢাকা মূখী হতে হচ্ছে।
ঙ) প্রাকৃতিক দুর্যোগ: বন্যা, নদী ভাঙন, খরা, লবণাক্ততা কিংবা লোনা পানির অনুপ্রবেশের কারণে উপকূলীয় এবং চরাঞ্চলের বহু মানুষ ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যায়। মানুষ বাধ্য হয়ে গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় চলে আসে। অন্যান্য জেলার তুলনায় কর্মসংস্থান ও অন্যান্য সুযোগ তাদেরকে ঢাকাকে আশ্রয়স্থল হিসেবে বেছে নিতে উৎসাহী করে।
চ) জীবনযাত্রার উন্নত মান: গ্রামাঞ্চল ও জেলা শহরের চেয়ে ঢাকায় শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান, উচ্চ আয়, ডিজিটাল সংযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি সহ আধুনিক নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বেশী।
দেশের প্রায় সব বিশেষায়িত হাসপাতাল যেমন, হৃদরোগ, ক্যান্সার বা কিডনি ইনস্টিটিউট এবং দক্ষ সার্জনরা ঢাকায় অবস্থান করেন। দেশের সেরা স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সিংহভাগই ঢাকায়। বাংলাদেশের জিডিপির একটি বড় অংশ আসে ঢাকা থেকে। পয়ঃনিষ্কাশন, গ্যাস সংযোগ এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের মতো নাগরিক সুবিধাগুলো অন্যান্য জেলার তুলনায় ঢাকায় অনেক বেশি সুবিধাজনক। ইন্টারনেট গতি এবং প্রযুক্তির ব্যবহারের ক্ষেত্রে ঢাকা অনেক বেশি অগ্রসর। ফ্রিল্যান্সিং থেকে শুরু করে অনলাইন ভিত্তিক যেকোনো কাজে ঢাকার বাসিন্দারা দ্রুততর সেবা ও নেটওয়ার্কিং সুবিধা পান। তাই সামগ্রিকভাবে এসব উন্নত জীবন মানে ঢাকা জেলা শহরগুলোর চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকায় দেশের জনস্রোত ঢাকামূখী হচ্ছে।
-মুহম্মদ জুলফিকার হায়দার।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সুদী মহাজন ও বড় চোর, সমকামীমনা, ১৬৮ মামলার আসামী, দেশ বিক্রিকারী মার্কিন চুক্তিকারী, ক্ষমতার মসনদে বসে অর্থ লুটকারী, অন্যায় সুবিধা গ্রহণকারী, পাহাড় সম অপরাধ মব-সন্ত্রাসের জনক কুখ্যাত ইউনুসের প্রতি ভীষণ বীতশ্রদ্ধ।
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সুদী মহাজন ও বড় চোর, সমকামীমনা, ১৬৮ মামলার আসামী, দেশ বিক্রিকারী মার্কিন চুক্তিকারী, ক্ষমতার মসনদে বসে অর্থ লুটকারী, অন্যায় সুবিধা গ্রহণকারী, পাহাড় সম অপরাধ মব-সন্ত্রাসের জনক কুখ্যাত ইউনুসের প্রতি ভীষণ বীতশ্রদ্ধ। এই কুলাঙ্গার আবারো ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে, রাষ্টের শীর্ষ পদে তথা প্রেসিডেন্ট পদে আলোচনায় আসে কি করে? নেপথ্যে কি মার্কিন দূত গর? অথচ “ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়”- বিএনপির শ্লোগান
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বাংলাদেশের সামরিক কৌশল বাড়ানো উচিত
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বিএনপির নেতা কর্মী বর্তমান উপদেষ্টা মন্ত্রীরা-এমপিরাও, সুদী মহাজন ও বড় চোর, সমকামীমনা, ১২৬ মামলার আসামী, দেশ বিক্রিকারী মার্কিন চুক্তিকারী, ক্ষমতার মসনদে বসে অর্থ লুটকারী, অন্যায় সুবিধা গ্রহণকারী, পাহাড় সম অপরাধ মব-সন্ত্রাসের জনক কুখ্যাত ইউনুসের প্রতি ভীষণ বীতশ্রদ্ধ।
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
এই কুলাঙ্গার আবারো ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে, রাষ্টের শীর্ষ পদে তথা প্রেসিডেন্ট পদে আলোচনায় আসে কি করে? নেপথ্যে কি মার্কিন দূত গর? অথচ “ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়”- বিএনপির শ্লোগান
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আম্রিকা, চীন, ভারত, রাশিয়া সবার নজর বাংলাদেশের দিকে।
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নতুন নতুন উন্নয়ন প্রকল্পের অজুহাতে চলছে শোষণ প্রকল্প।
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আর দ্বীনদার ব্যক্তির জন্য দ্বীন ইসলামই সবচেয়ে বড়
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইহুদীরাই আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট বানায়, নামায় তথা আমেরিকা চালায়।
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
‘ছবি’ ও ‘বেপর্দা’- বর্তমানে সমস্ত পাপ কাজের মূল উৎস
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
তেল আমদানিতে আমাদের যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয়, এতে আমাদের রিজার্ভে চাপ পড়ে। সমস্যা কৃষকের সক্ষমতায় নয়, বরং নীতিগত অগ্রাধিকার ও বিনিয়োগের ঘাটতিতে।
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পাকিস্তান থেকে বেরিয়ে ভারতীয় খপ্পরে বাংলাদেশ!
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












