সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল খ্বমিসাহ আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র সাওয়ানেহ উমরী মুবারক
, ২০ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ০১ ছানী আশার, ১৩৯১ শামসী সন , ৩০ এপ্রিল, ২০২৪ খ্রি:, ১৭ বৈশাখ, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
সম্মানিত পরিচিতি মুবারক:
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল খ্বমিসাহ আলাইহাস সালাম উনার নাম মুবারক হযরত যয়নাব আলাইহাস সালাম। উনার সম্মানিত পিতার নাম হযরত খুযায়মা ইবনুল হারিছ আলাইহিস সালাম। তিনি বনু হিলাল গোত্রের লোক ছিলেন। সম্মানিতা মাতার নাম হযরত হিন্দ বিনতে আওফ আলাইহাস সালাম। সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল খ্বমিসাহ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত পিতার দিক থেকে ১৭তম পুরুষে যেয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে মিলিত হয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! উনার ৬ষ্ঠতম পূর্বপুরুষ হচ্ছেন হযরত হিলাল ইবনে আমির আলাইহিস সালাম। হযরত হিলাল ইবনে আমির আলাইহিস সালাম ছিলেন আরবের প্রসিদ্ধ গোত্র বনু হিলাল গোত্রের প্রথম পুরুষ। তিনি ছিলেন গোত্রের একজন প্রসিদ্ধ এবং অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব, সকলেই উনাকে ইজ্জত করতেন। সে জন্য উনার নাম মুবারক অনুযায়ী উনার বংশ বা গোত্র মুবারকের নামকরণ হয়েছে। এজন্য সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল খ্বমিসাহ আলাইহাস সালাম উনাকে ‘হিলালিয়া’ বলা হয়ে থাকে। সুবহানাল্লাহ! উনার সম্মানিতা মাতার দিক থেকে তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ আশার (হযরত মায়মুনা) আলাইহাস সালাম উনার বোন ছিলেন। (সিয়ারু আলামিন নুবালা)
হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মধ্যে এই দুইজনই ছিলেন বনু হিলাল গোত্রের।
সম্মানিত বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশকাল:
সম্মানিত নবুওওয়াত ও রিসালত প্রকাশের ১৪ বছর পূর্বে পবিত্র মাহে শাওওয়াল শরীফ উনার ২০ তারিখ, পবিত্র ইয়াওমুছ ছুলাছা শরীফ (মঙ্গলবার) তিনি পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। (সূত্র: দৈনিক আল-ইহসান শরীফ)
মহাসম্মানিত ফযীলত ও মর্যাদা মুবারক:
সাধারণভাবে সকল হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে মহান আল্লাহ পাক তিনি অসাধারণ মর্যাদা-মর্তবার অধিকারিনী করেছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ার কারণেই। এতদ্ব্যতীত সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল খ্বমিসাহ আলাইহাস সালাম উনার অন্যান্য অনেক বৈশিষ্ট্যপূর্ণ গুণাবলীও ছিলেন।
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল খ্বমিসাহ আলাইহাস সালাম তিনি গরীব দুঃখীদেরকে অত্যধিক দান খয়রাত করতেন। এজন্যই উনাকে “উম্মুল মাসাকীন” (দরিদ্রদের মাতা) বলে ডাকা হতো। জাহেলী যুগ থেকেই উনাকে এই সম্মানিত লক্বব মুবারকে সম্বোধন করা হতো। সুবহানাল্লাহ! (আল-ইসতিয়াব)
ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন-
وكانت تسمىّ أُمُّ المساكين لِرحمتها إيَّأهم و رِقَّتِهَا عليهم
অর্থাৎ গরীব-মিসকিনদের প্রতি উনার দয়া ও সহমর্মিতার কারণে উনাকে “উম্মুল মাসাকীন” বা “মিসকিনদের মা” বলা হতো। ইবনে হাজার আসকালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন-
وكانت يقال لها أُمُّ المساكين لِأنّها كانت تُطعمهم و تَصدّق عليهم
অর্থাৎ তিনি গরীব-মিসকিনদের আহার করাতেন এবং তাদেরকে দান-খয়রাত করতেন, এ জন্য উনাকে উম্মুল মাসাকীন বলা হতো। সুবহানাল্লাহ!
বর্ণিত আছে যে, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল খ্বমিসাহ আলাইহাস সালাম উনার একজন কালো দাসী ছিলেন। একদিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট তিনি দাসীটিকে আযাদ করে দেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আপনি ওকে আপনার ভ্রাতুষ্পুত্র অথবা ভগ্নিপুত্রদেরকে ফিদ্য়া হিসাবে দিয়ে দিন।
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা কুবরা আলাইহাস সালাম উনার পরে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল খ্বমিসাহ আলাইহাস সালাম তিনি এই সৌভাগ্য লাভ করেন যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জমিনে পবিত্র উপস্থিতিতে তিনি বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন এবং স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জানাযায় ইমামতি করেন। সুবহানাল্লাহ! (উসুদুল গাবা, ইছাবা)
হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা সকলেই পবিত্র হাদীছ শরীফ এবং সুন্নাহ শরীফ উনার প্রচার প্রসারে এবং বিশেষভাবে নারী জাতির তা’লীম তালক্বীনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিয়াবী হায়াত মুবারকেও অনেক মহিলা ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের নিকট তা’লীমের জন্য আসতেন। তবে যেহেতু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে উনার নিসবাতুল আযীমাহ শরীফ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর দুনিয়াতে উনার অবস্থান মুবারক ছিলেন মাত্র কয়েক মাস, সে জন্য উনার সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য বিস্তারিত তথ্যাবলী কোন কিতাবে দেখা যায় না।
সূত্র: উসুদুল গাবা, তাবাকাত, যারক্বানী আলাল মাওয়াহিব, দৈনিক আল-ইহসান শরীফ, অন্যান্য সীরত গ্রন্থাবলী।
-আল্লামা সাঈদ আহমদ গজনবী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (১০)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত আশূরা শরীফ উনাকে যারা সম্মান করবে তাদের জন্য-
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত শরীয়ত উনার ফায়ছালা মতে কুলাঙ্গার ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি কাট্টা কাফির ও চিরজাহান্নামী (১)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পৃথিবীকে পরিবর্তন করার চেয়ে নিজেকে পরিবর্তন করা সহজ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৩টি বিষয় কেবল তিনটি অবস্থায়ই জানা যায়।
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠে অনন্য তাজদীদ মুবারক (৪)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক- ছবি তোলা হারাম
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












