নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে ‘শব্দ’ ব্যবহারে কতটুকু আদব রক্ষা করা আবশ্যক (১)
, ০৬ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৬ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৬ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ১২ চৈত্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
মহান আল্লাহ পাক তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থেই সমস্ত কায়িনাত সৃষ্টি করেছেন। উনাকে সৃষ্টি মুবারক করা না হলে কোনো কিছুই অস্তিত্বে আসতো না। সেই মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কতটুকু সম্মান করতে হবে, কতটুকু তা’যীম-তাকরীম মুবারক করতে হবে, উনাকে সম্বোধন মুবারক করার ক্ষেত্রে কিভাবে কতটুকু সর্বোচ্চ আদবের সাথে শব্দ চয়ন করতে হবে সেটা স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই জানিয়ে দিয়েছেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
لَا تَـجْعَلُوْا دُعَآءَ الرَّسُوْلِ بَيْنَكُمْ كَدُعَآءِ بَعْضِكُمْ بَعْضًا
অর্থ: তোমরা পরস্পর পরস্পরকে যেভাবে সম্বোধন করে থাকো, সেভাবে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করো না। সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা নূর : আয়াত শরীফ ৬৩)
এই আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় ‘তাফসীরে ত্ববারানী’ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছে-
أي ادْعُوهُ بالْخُضوعِ والتعظيمِ وَقُولُوا يَا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَيَا نَبيَّ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي لِيْنٍ وَتَواضُعٍ وخَفْضِ صَوتٍ وَلَا تَقُولُوا يَا مُحَمَّدُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَا يَا أبَا الْقَاسِمِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَمَا يَدْعُو بَعضُهُمْ بَعْضًا بِاِسْمِهِ
অর্থ: অর্থাৎ তোমরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অত্যন্ত বিনয় ও তা’যীমের সাথে সম্বোধন মুবারক করো। তোমরা অত্যন্ত নমনীয়তা ও বিনয়ের সাথে কন্ঠস্বর নিচু করে বলবে, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! ইয়া নাবিইয়াল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আর উনার সম্মানিত নাম মুবারক ধরে এভাবে ইয়া মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! অথবা ইয়া আবাল ক্বাসিম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! বলে সম্বোধন করবে না। যেমনিভাবে তোমরা একে অপরকে নাম ধরে সম্বোধন করে থাকো। (তাফসীরুল কুরআনীল আযীম লিত ত্ববারানী)
হযরত মুজাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-
أَمَرَهُمْ أَنْ يَّقُولُوا يَا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي لِينٍ وَتَوَاضُعٍ وَلَا يَقُولُوا يَا مُحَمَّدُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي تَجَهُّمٍ
অর্থ: মহান আল্লাহ পাক তিনি মু’মিনদেরকে আদেশ মুবারক করেছেন, অত্যন্ত নমনীয়তা ও বিনয়ের সাথে ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলে সম্বোধন মুবারক করার জন্য। আর বিষন্নতা বা বিরক্তীর সাথে উনার মহাসম্মানিত ইসমে যাত মুবারক ধরে সম্বোধন করতে নিষেধ করেছেন। (তাফসীরে মুজাহিদ ২৭১ পৃষ্ঠা, তাফসীরে দুররে মানছূর ১১/১২৮)
এ কারণেই দেখা যায়, মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে স্ব স্ব নাম মুবারক ধরে সম্বোধন করেছেন। কিন্তু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কোনো স্থানেই সরাসরি উনার ইসমে জাত মুবারক ধরে সম্বোধন করেননি। সুবহানাল্লাহ!
-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
৩০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বেপর্দা হওয়া শয়তানের ওয়াসওয়াসাকে সহজ করার মাধ্যম
৩০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
৩০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا
৩০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে সবকিছুরই ফায়সালা মুবারক রয়ে গেছে
৩০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র যিকিরকারী উনাদের ফযীলত সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
৩০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইসলামী শরীয়তের আলোকে কুকুর নিধন (১০)
২৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
প্রাণীর ছবি তোলা কবীরা গুনাহ ও অসন্তুষ্টির কারণ
২৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত আইয বিন আমর বিন হিলাল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু
২৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১৫)
২৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পর্দা পালন করা পুরুষ-মহিলা সবার জন্য ফরজ
২৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












