ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা বেমেছাল মর্যাদার অধিকারী (১৯২)
, ১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
তিনি বললেন, আচ্ছা এখানে ফায়সালা শেষ হলো, অতঃপর চলেন মহাসম্মানিত মদীনা শরীফ উনার মধ্যে। উনাকে নিয়ে গেলেন। হযরত খাজা উছমান হারূনী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মহাসম্মানিত মদীনা শরীফ উনার মধ্যে গিয়ে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র রওজা শরীফ উনার পাশে দাঁড়ালেন। আর হযরত খাজা ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মাথা নিচু করে দাঁড়িয়েছিলেন। উনার মাথাটা সম্পূর্ণ উনার পা-নূরুদ দারাজাত মুবারক উনার দিকে দাঁড়ায়েছিলেন। তিনি চুপ হয়ে রয়েছেন কোন কথা নাই উনার। উনার শায়েখ সালাম দিলেন এবং বললেন ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি মুঈনুদ্দীনকে নিয়ে এসেছি আপনি কবুল করেন। তিনি চুপ হয়ে রয়েছেন। তিনি লক্ষ্য করলেন যে, মুরীদ কি করে। তিনি বললেন যে, কি ব্যাপার আপনি কি সালাম দিয়েছেন? না সালাম দেইনি। কেন সালাম দেননি? আপনি আমার শায়েখ আপনি আমাকে আদেশ করেন নাই। আমিতো আপনার গোলাম। একটা মুরীদ শায়খের আদেশ ছাড়া কোন কাজ করতে পারে না। তিনি বললেন, আপনি সালাম দিন, তিনি সালাম দিলেন কবুল করা হলো। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এই যে বিষয়টা, যার মাধ্যমে উনার আদব শরাফত, উনার শায়েখ আশ্চার্য হয়ে গেছেন যে এটা কি? মহাসম্মানিত রওজা শরীফ উনার সামনে দাঁড়িয়ে আপনি সালাম দিচ্ছেন না এখনও চুপ করে রয়েছেন। এটা কোন শ্রেণীর আদব। আমি আপনার গোলাম, গোলামেরতো কোন হক্ব নাই, অধিকার নাই কথা বলার। মুনীবের অধিকার আছে, আদেশ ছাড়া। হ্যাঁ উপযুক্ত মুরীদ। তিনি কবুল হয়ে গেলেন। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! তিনি যখন শেষবার যিয়ারত মুবারক করেন, এটা হচ্ছে উনার প্রথমবার। শেষবার তিনি কিভাবে করেছেন? তিনি হামাগুড়ি দিয়ে মহাসম্মানিত রওজা শরীফ উনার মধ্যে গেছেন। এবং ঠিক হামাগুড়ি দিয়েই পিছনে ফিরে সামনে মাথা রেখে আস্তে আস্তে তিনি এসেছেন। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! উনাকে বলা হলো এটা একটা কঠিন কাজ। তিনি বললেন, এটা আদব। দাঁড়ালে বেয়াদবী হয় কি না, আমিতো জানি না। আমি যে হেঁটে হেঁটে যাবো এটা আমার বেয়াদবী হয় সেজন্য আমি হামাগুড়ি দিয়ে গিয়েছি এবং হামাগুড়ি দিয়ে ফিরে এসেছি। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! উনার শরাফত, উনার আদব, মহব্বত, নিছবত, কুরবত তাহলে কতটুকু। তাহলে তিনি কত নিখুঁত। সেই ব্যক্তি তিনি সুলত্বানুল হিন্দ হযরত খাজা হাবীবুল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি। তাহলে উনার মহাসম্মানিত যারা মাতা হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের পবিত্রতা কতটুকু? এটা মানুষ কি ফিকির করতে পারবে? পারবে না। তাহলে কেন চূ-চেরা, কীল-কাল করে, কেন বক্তব্য দেয়? কেন হুসনে যন পোষণ করে না? এটা ফিকির করতে হবে। অনেক বলার বিষয়। এগুলি স্বরণ রাখতে হবে। স্বরণ না রাখলে কিন্তু বুঝা যাবে না।
উনাদের মহব্বত, মা’রিফত, নিছবত, কুরবত মুবারক এটা কল্পনাতীত বিষয়। কাজেই বিষয়গুলি স্মরণ রাখতে হবে। স্মরণ রেখে উনাদের মহব্বত মুবারক হাছিল করতে হবে। এজন্য আমরা বলে থাকি প্রত্যেকেই আসলে যিকির আযকার করা উচিত বেশি বেশি। বা’দ ইশা, বা’দ ফজর একশ’ একশ’ বার করে দুরূদ শরীফ পাঠ করা উচিত যারা বাইয়াত গ্রহণ করেছে। আর যারা বাইয়াত গ্রহণ করেনি তাদের জন্য বাইয়াত গ্রহণ করা ফরয। এরপর পাছ-আনফাছ চলাফেরা উঠাবসা সব অবস্থায় করতে হবে। পাছ-আনফাছ, শ্বাস-প্রশ্বাসের যিকির এটা জারি করতে হবে। এরপর লতীফার ছবকগুলি করতে হবে। সাধারণভাবে দৈনিক ২৪ ঘন্টার মধ্যে একঘন্টা যিকির করার নিয়ম, না পারলে ১৫/২০ মিনিট সে করুক। আবার ১৫/২০ মিনিট করুক তাতে কোন অসুবিধা নেই কিন্তু নিয়ত করে নিক। চলা-ফেরা, উঠা-বসার সময় সে নিয়ত রাখুক। নিয়ত বিশুদ্ধভাবে করলে কিছু ফয়েজ-তায়াজ্জুহ সে অবশ্যই পাবে। যেটা আমরা বলি সূর্য্য উঠলে দরজা বন্ধ রাখলেও আলো দেখা যায়। জানালা খুললে রোদ প্রবেশ করে। শুধু নিয়ত করলেও হবে। নিয়ত করে সে চলা-ফেরা করুক, ১৫/২০ মিনিট যিকির করুক আস্তে আস্তে সে একদিন তাকমীলে পৌঁছবে। ইনশাআল্লাহ! তাকেতো তাকমীলে পৌঁছতেই হবে। ইছলাহ হাছিল করতেই হবে। এবং এজন্য তাকে কোশেশ করতেই হবে।
اَلسَّعْيُ مِنَّا وَالْإِتْمَامُ مِنَ اللهِ
চেষ্টা বান্দার তরফ থেকে, পুরা করবেন যিনি খ¦লিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার তরফ থেকে। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বেপর্দা হওয়া শয়তানের ওয়াসওয়াসাকে সহজ করার মাধ্যম
১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আল হাদিয়্যাতুল ইলাহিয়্যাহ ফী সীরাতি হাবীব ওয়া মাহবূবিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (২৬)
১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি কাফিরদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন
১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ঈমানী কুওওয়াত বা শক্তি বৃদ্ধিকারী কতিপয় ঘটনা
১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১২)
১৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পর্দা পালন করা পুরুষ-মহিলা সবার জন্য ফরজ
১৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
যে বা যারা কাফিরদের সাথে সম্পর্ক রাখবে সে দ্বীন ইসলাম থেকে খারিজ হবে
১৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহব্বত মুবারক মুসলমানদের জন্য ফরযে আইন
১৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












