সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মহামূল্যবান নছীহত মুবারক:
সম্মানিত নেক ছোহবত ইখতিয়ার এবং উনার তাছির বা ক্রিয়া
, ১৭ আগস্ট, ২০২৫ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) মহিলাদের পাতা
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَاصْبِرْ نَفْسَكَ مَعَ الَّذِيْنَ يَدْعُوْنَ رَبَّـهُمْ بِالْغَدوةِ وَ الْعَشِىِّ يُرِيْضُوْنَ وَجْهَه .
অর্থ: তোমরা ঐ সমস্ত ব্যক্তি উনাদের ছোহবত মুবারককে লাযিম করে নাও, যাঁরা সকাল-সন্ধ্যা মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের লক্ষ্যে উনার যিকির করেন। (পবিত্র সূরা কাহাফ : আয়াত শরীফ ২৮)
এই আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি আহলে যিকির তথা হক্কানী-রব্বানী ওলীআল্লাহ উনাদের ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করাকে আবশ্যক করে দিয়েছেন। ছোহবত মুবারক উনার গুরুত্ব সম্পর্কে মহাসম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
اَلصُّحْبَةُ مُتَاَثِّرَةٌ .
অর্থ: ছোহবত ক্রিয়াশীল বা তাছির করে।
এই মহাসম্মানিত হাদীছ শরীফ থেকে বুঝা যাচ্ছে নেক ছোহবত ইখতিয়ার করলে নেক তাছির পড়ে। আর বদ ছোহবত ইখতিয়ার করলে বদ তাছির পড়ে।
নেক ছোহবত কেমন তাছির করে তা সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মাধ্যমে আরো স্পষ্ট হয়ে যায়।
হযরত হানযালা ইবনে রুবাই উসাইদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, একদিন হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়। অতঃপর তিনি আমাকে বললেন, আপনি কেমন আছেন হে হানযালা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু? আমি বললাম, হানযালা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি মুনাফিক হয়ে গিয়েছেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, সুবহানাল্লাহ! আপনি এটা কি বললেন? আমি বললাম, যখন আমরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট অবস্থান করি এবং তিনি আমাদের কাছে জান্নাত-জাহান্নামের কথা আলোচনা করেন তখন মনে হয় আমরা সব দেখতে পাচ্ছি। আর যখন উনার ছোহবত মুবারক থেকে বের হয়ে আসি, আমরা আহলিয়া, আল-আওলাদ, ক্ষেত-খামার অর্থাৎ পরিবারের সাথে জড়িয়ে যাই। তখন আমরা অধিকাংশই ভুলে যাই সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে¡ আকবর আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! আমাদেরও এরূপ হয়। তারপর আমি এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে গেলাম এবং বললাম, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! হযরত হানযালা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি মুনাফিক হয়ে গিয়েছেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, এটা কেমন কথা? অতঃপর আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! যখন আমরা আপনার কাছে থাকি আপনি জান্নাত-জাহান্নামের কথা আলোচনা করেন তখন মনে হয় আমরা সবকিছু দেখছি। আর যখন আপনার ছোহবত মুবারক থেকে বের হয়ে আসি, আমরা আহলিয়া, আল-আওলাদ, ক্ষেত-খামার অর্থাৎ পরিবারের সাথে জড়িয়ে যাই তখন আমরা অধিকাংশই ভুলে যাই। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, ঐ মহান সত্তা উনার কসম! যাঁর কুদরতি হাত মুবারকে আমার সম্মানিত নূরুল আমর (প্রাণ) মুবারক! যদি আপনারা সর্বদা আমার কাছে থাকতেন এবং যিকিরের মধ্যে থাকতেন হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা আপনাদের সাথে বিছানায় এবং রাস্তায় মুছাফাহ করতেন। কিন্তু হে হানযালা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! এই সময় এই রকম হয়, ঐ সময় ঐ রকম হয় এভাবে তিনবার বললেন।
যতক্ষণ নেক ছোহবতে থাকা হয় ততক্ষণ নেক তাছির পড়ে, জান্নাত-জাহান্নামের কথা স্মরণ হয় এবং আমলও করা হয়। আর যখন নেক ছোহবত থেকে বের হয়ে যাওয়া হয় তখন নেক তাছিরও থাকেনা, আমলের প্রতি আগ্রহও থাকেনা। এই কারণেই মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা তওবা শরীফ উনার ১১৯ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
كُوْنُوْا مَعَ الصَّادِقِيْنَ
অর্থ: তোমরা ছদিক্বীন উনাদের সঙ্গী হয়ে যাও।
এখানে বিষয়টি ফিকিরের যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি كُوْنُوْا مَعَ الْقُرْانِ বলতে পারতেন। কিন্তু তিনি كُوْنُوْا مَعَ الصَّادِقِيْنَ বলেছেন। অর্থাৎ- ছদিক্বীন তথা হক্কানী- রব্বানী ওলীআল্লাহ, যারা দায়েমীভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার যিকিরে মশগুল উনাদের সঙ্গী হতে বলেছেন। কেননা, আহলে যিকির তথা ওলীআল্লাহ উনাদের উপর দায়েমীভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত মুবারক নাযিল হয়।
একটি ঘটনার মাধ্যমে বিষয়টি আরো স্পষ্ট হবে। যেমন- একদিন এক ব্যক্তি একজন ওলীআল্লাহ উনাকে সুওয়াল করলেন, “মানুষ বলে ওলীআল্লাহ উনার কবরের পাশে দাফন করতে। এটা কেন বলে? তখন ছিল গরমকাল, ওলীআল্লাহ উনাকে পিছন থেকে উনার খাদিম পাখা দিয়ে বাতাস করছিল। ওলীআল্লাহ সুওয়ালকারীকে কাছে ডাকলেন। সুওয়ালকারী উনার কাছে আসার পর তিনি তাকে বললেন, তোমার গায়ে কি বাতাস লাগছে? তখন লোকটি বলল, জ্বী। ওলীআল্লাহ পুনরায় বললেন, তোমাকে কি বাতাস করা হচ্ছে? সে বলল, না। তিনি বললেন, তাহলে কাকে বাতাস করা হচ্ছে? লোকটি বলল, আপনাকে। তিনি পুনরায় বললেন, আমাকে বাতাস করা হচ্ছে তাহলে তোমার গায়ে কেন বাতাস লাগছে? লোকটি উত্তর দিল, আপনার নিকটবর্তী হওয়ার কারণে। তখন ওলীআল্লাহ তিনি বললেন, মুহসিনীন তথা হক্কানী-রব্বানী ওলীআল্লাহ উনাদের উপর সবসময় মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত মুবারক নাযিল হয়। আর যারা উনাদের নিকটে আসবে তারাও সেই রহমত মুবারক উনার হিসসা লাভ করবে।
যেমন এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা আ’রাফ শরীফ উনার ৫৬ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেছেন-
اِنَّ رَحْمَةَ اللهِ قَرِيْبٌ مِّنَ الْمُحْسِنِيْنَ.
অর্থ: নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত মুবারক মুহসিনীন তথা ওলীআল্লাহ উনাদের নিকট রয়েছে।
সুতরাং হক্বানী-রব্বানী ওলীআল্লাহ উনাদের ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করলে রহমত মুবারক লাভ করা যাবে। আর রহমত মুবারক লাভ করতে পারলে নেক কাজ করা সহজ-সম্ভব হবে, দ্বীনের ছহিহ সমঝ পয়দা হবে এবং হক্ব-নাহক্বের পার্থক্য করার যোগ্যতা হাছিল হবে।
(মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ বালিকা শাখা)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
২৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তিন ধরনের লোক বেহেশতে প্রবেশ করবে না
২৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বালক ইমাম উনার সূক্ষ্ম সমঝ!
২৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
২৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
খাছ দোয়া মুবারক পাওয়ার বিশেষ মাধ্যম পবিত্র যাকাত আদায়
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পারিবারিক তা’লীম ও তার তারতীব
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
দুনিয়ার চাকচিক্যে মোহগ্রস্ত হয়ে বদ আমল করার কারণে মানুষকে পরকালে পাকড়াও হতে হবে (২)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদব-শরাফত বজায় রাখতে হবে
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












