পারিবারিক তা’লীম ও তার তারতীব
, ২৮ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৮ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৮ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ০৪ চৈত্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) মহিলাদের পাতা
মা -বাবা, ভাই- বোন এবং অধিনস্থ তথা পরিবারের সদস্যদেরকে নিয়ে যে তা’লীম বা শিক্ষাদান করা হয়, তাকে পারিবারিক তা’লীম বলে। পারিবারিক তা’লীম বিশেষ জরুরী,অতিব গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেক অভিভাবকের প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য বটে। কেননা, পরিবার ভালো হলে সমাজ ভালো হবে। সমাজ ভালো হলে দেশ ভালো হবে। দেশ ভালো হলে সারা জগত ভালো হবে। তাই মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার মহাসম্মানিত হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সকল অভিভাবককে তার নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে সুসম্পন্ন করার জন্য বিশেষভাবে তাকীদ দিয়েছেন।
মুজাদ্দিদে আ’যম, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি উম্মাহর সবাইকে পারিবারিক তা’লীম দেয়ার জন্য বিশেষভাবে তারগীব ও তারহীব দিয়ে থাকেন। সাথে সাথে তার তারতীব ও শিক্ষা দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ্!
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا
অর্থ: হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের আহাল-ইয়ালকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও। (সূরা তাহরীম শরীফ-০৬)
পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত আছে-
عَنْ حضرت عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رضى الله عنه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم الا كلُّكُمْ راعٍ وكلُّكُمْ مسؤولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ فَالْإِمَامُ الَّذِي عَلَى النَّاسِ رَاعٍ وَهُوَ مسؤولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ وَالرَّجُلُ رَاعٍ عَلَى أَهْلِ بَيْتِهِ وَهُوَ مسؤولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ وَالْمَرْأَةُ رَاعِيَةٌ عَلَى بَيْتِ زَوْجِهَا وولدِهِ وَهِي مسؤولةٌ عَنْهُمْ
অর্থঃ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন সাইয়্যিদুল মুরসালিন ইমামুল মুরসালীন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল, আর প্রত্যেকেই তার দায়িত্বের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। জনগণের শাসকও একজন দায়িত্বশীল, সেও তার দায়িত্বের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। একজন পুরুষ তার পরিবারের দায়িত্বশীল, সেও তার দায়িত্বের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। একজন আহালিয়া বা স্ত্রী, তার আহাল বা স্বামীর ঘর-সংসার, সন্তান-সন্ততির দায়িত্বশীল, সেও তার দায়িত্ব সর্ম্পকে জিজ্ঞাসিত হবে। (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
أَدِّبُوا أَولَادَكُم على ثَلاثِ خِصَالٍ: حُبِّ نَبِيِّكُم، وَحُبِّ أَهلِ بَيتِهِ، وَقِرَاءَةِ القُرآنِ؟
অর্থ: তোমাদের সন্তানদেরকে তিনটি বিষয়ে আদব শিক্ষা দান করো -
১. নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বত।
২. হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহব্বত।
৩. পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত।
তারতীব:
খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহউইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম,মুজাদ্দিদে আ’যম, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলতানুন নাছীর, ছহিবে কুন ফাইয়াকুন, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হাকিমুল হাদীছ, ইমামুল উমাম, সাইয়্যিদুনা হযরত মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, প্রত্যেক অভিভাবক তার পরিবারের সবাইকে নিয়ে প্রতিদিন কমপক্ষে একবার বসবে। অতঃপর-
১. মীলাদ শরীফ পাঠ করবে,
২. তা’লীম দিবে,
৩. প্রত্যেক সদস্যের নামায-কালাম,যিকির-ফিকির এবং আমল, আখলাক্বের খোঁজ-খবর নিবে। অতঃপর-
৪. দোয়া-মুনাজাত করবে।
তা’লীম
আজকে আপনাদেরকে এমন একটি বিষয় বলবো। যা আপনাদের জন্য খুবই জরুরী।
আপনারা কখনো কারো সাথে মারা-মারি করবেননা, ঝগড়া-বিবাদ করবেন না। ফেতনা-ফাসাদ করবেন না। অনুমতি ছাড়া কারো কোন কিছু খাবেন না। কারো মাল-সম্পদ তার অনুমতি ছাড়া নিবেন না। অনুমতি ছাড়া কারো কোন জিনিসপত্র ধরবেন না। কাউকে কষ্ট দিবেন না। কারো মনে আঘাত দিবেন না। মিথ্যা বলবেন না। গালি দিবেন না। কারণ, এগুলো সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক ক্বিয়ামতের দিন জিজ্ঞাসা করবেন। বিচার করবেন। এগুলোর কারণে মানুষকে জাহান্নামী হতে হবে। যত নেক আমলই করুর না কেন, যদি এই বদ আমল থাকে তাহলে জাহান্নাম ছাড়া কোন উপায় নাই।
কাজেই, আপনারা কখনো কাউকে গালি দিবেননা। মারমারি করবেন না। ঝগড়া-বিবাদ করবেন না। না বলে কারো কোন জিনিস নিবেন না। কারো মান-সম্মান নষ্ট করবেননা। অন্যথায় আপনার নেকীগুলো তাকে দিতে হবে। আর নেকী না থাকলে তার গুনাহ্ নিতে হবে। নাঊযুবিল্লাহ্! তখন তো জান্নাতে যাওয়া যাবেনা। জাহান্নামে যেতে হবে। জাহান্নাম খুবই কঠিন জায়গা। তার আযাব-গযব কেউই বরদাশত করতে, সহ্য করতে পারবেন না।
যারা নেক কাজ করে, আবার গুনাহর কাজও করে, তারা ফাসিক বা গুনাহ্গার। আর যারা গুনাহর কাজ করেননা তারাই মুত্তাকী। মুত্তাকীগণই মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী। ওলী অর্থঃ বন্ধু, অভিভাবক। সবাইকে মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী বা বন্ধু হওয়া আবশ্যক। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সবাইকে উনার ওলী হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমীন!
এভাবে একেকদিন একেক বিষয়ে তালীম দেয়া যেতে পারে।
-আল্লামা সাইয়্যিদ আব্দুল হালীম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
খাছ দোয়া মুবারক পাওয়ার বিশেষ মাধ্যম পবিত্র যাকাত আদায়
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
দুনিয়ার চাকচিক্যে মোহগ্রস্ত হয়ে বদ আমল করার কারণে মানুষকে পরকালে পাকড়াও হতে হবে (২)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদব-শরাফত বজায় রাখতে হবে
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
খাছ দোয়া মুবারক পাওয়ার বিশেষ মাধ্যম পবিত্র যাকাত আদায়
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত রমাদ্বান শরীফ মাস হচ্ছে তাক্বওয়া হাছিলের মাস, নেক দোয়া করার মাস এবং কাফির মুশরিকদের বিরুদ্ধে বেশী বেশী বদ দোয়া করার মাস
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহিলাদের সুন্নতী লিবাস, অলংকার ও সাজ-সজ্জা (৯)
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












