সম্মানিত ক্বদমবুছী মুবারক খাছ সুন্নাত মুবারক
, ১৩ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ১৩ ছানী আ’শার, ১৩৯২ শামসী সন , ১২ মে, ২০২৫ খ্রি:, ২৯ বৈশাখ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শরীয়ত মুবারক উনার সম্মানিত ফতওয়া মুবারক অনুযায়ী সম্মানিত ক্বদমবুছী মুবারক নেয়া বা করার জন্য অনুমতি দান করা আখাছ্ছুল খাছ সুন্নাত মুবারক:
قدم(ক্বদম) শব্দটি আরবী। এটি আরবী এবং ফার্সী উভয় ভাষায় ব্যবহার হয়, যার অর্থ ‘পা’। আরبوسى ‘বূছী’ শব্দটি ফার্সী, যার অর্থ ‘বুছা দেয়া বা চুম্বন করা’। সুতরাং قدم بوسى (ক্বদমবূছী) অর্থ ‘পায়ে বুছা দেয়া বা পদচুম্বন করা’। আরدست (দস্ত( শব্দটি ফার্সী, যার অর্থ ‘হাত’। সুতরাং بوسى دست (দস্তবূছী) অর্থ ‘হাতে বুছা দেয়া’। এক্ষেত্রে দুটি বিষয় রয়েছেন- ১. সরাসরি হাতে বুছা দেয়া, ২. হাত দ্বারা পা স্পর্শ করে হাতে বুছা দেয়া। সুবহানাল্লাহ!
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুগণ উনারা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুদ দারাজাহ মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ক্বদম মুবারক-এ) বুছা মুবারক (চুম্বন) দিতেন। সুবহানাল্লাহ! আর হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারা একজন অপরজনকে সম্মানিত ক্বদমবুছী করতেন। সুবহানাল্লাহ! তবে অবশ্যই উক্ত সম্মানিত ক্বদমবুছী মুবারক তা’যীম এবং মুহব্বত ও বরকত হাছিলের লক্ষ্যেই করেছেন, অন্য কোনো উদ্দেশ্যে নয়। তাই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের আলোকে হযরত ইমাম-মুজতাহিদ ও আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা ফতওয়া মুবারক দিয়েছেন যে, হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের, পরহেযগার,আলিম-উলামা, বয়োবৃদ্ধ, পিতা-মাতা এবং সম্মানিত শরীয়ত মুবারক উনার দৃষ্টিতে সম্মানের অধিকারী, এরূপ ব্যক্তিবর্গ উনাদের ক্বদমবুছী করা আখাছ্ছুল খাছ সুন্নাত মুবারক। সুবহানাল্লাহ!
এখানে অতিসংক্ষেপে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ এবং সম্মানিত ইজমা ও ক্বিয়াস শরীফ থেকে এ বিষয়ে কিছু দলীল-আদিল্লাহ পেশ করা হলো-
১. মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে দলীল:
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছেন-
عن حضرت بريدة الأسلمي رضى الله تعالى عنه أن أعرابيًا قال للنبي صلى الله عليه وسلم ائذن لي فأقبل رأسك ورجليك فأذن له فقبل رأسه ورجليه
অর্থ : হযরত বুরাইদাহ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নিশ্চয়ই একজন বেদুইন ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বললেন- ইয়া রসূলাল্লাহ্, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমাকে দয়া করে অনুমতি মুবারক দান করুন, আমি আপনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল হুদা মুবারক-এ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মাথা মুবারক-এ) এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উভয় নূরুদ দারাজাত মুবারক-এ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দুই ক্বদম মুবারক-এ) বুছা মুবারক দিবো। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উক্ত হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে অনুমতি দিলেন, ফলে তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল হুদা মুবারক-এ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মাথা মুবারক-এ) এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উভয় নূরুদ দারাজাত মুবারক-এ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দুই ক্বদম মুবারক-এ) বুছা মুবারক দিলেন। সুবহানাল্লাহ! (রওদ্বাতুল ক্বদ্বাহ্ ১/১০২, আল ক্ববালু ওয়াল মু‘আনাকাহ্ ১/৭৩, মুস্তাদরাকে হাকিম ৪/১৯০, আদ দিরায়াহ্ ২/২৩৩, বেনায়াহ্ ১২/১৯৮, ফতওয়ায়ে শামী ২৬/৪৪৬ ইত্যাদি)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৩)
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা শক্ত হারাম, রয়েছে কঠিন শাস্তি
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা বেমেছাল মর্যাদার অধিকারী (১৫৫)
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারকসমূহ যারা পালন করেন উনাদেরকে অনেক ফযীলত দেয়ার সাথে সাথে তিনটি বিশেষ ফযীলত হাদিয়া করা হয়-
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ওলীআল্লাহ উনাদের সম্পর্কে বদ আক্বীদা পোষণ এবং উনাদের বিরুদ্ধাচরণের কারণে কঠিন পরিণতি
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৫)
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত মসজিদের মধ্যে উচ্চস্বরে কথা বলা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












