সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১৩)
, ০৮ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৩ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ২২ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ০৭ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার ফতওয়া অনুযায়ী ফুটবল-ক্রিকেটসহ সমস্ত খেলাধুলাই হারাম। মাঠে গিয়ে হোক আর টিভিতে হোক সর্বাবস্থায়ই খেলা দেখা হারাম ও কবীরাহ গুনাহের অন্তর্ভুক্ত।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার বিখ্যাত কিতাব, মুস্তাদরাকে হাকিম শরীফে বর্ণিত আছে, হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত আছে যে, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
كُلُّ لَعِبٍ حَرَامٌ اِلَّا ثَلَاثٍ: مُلَاعَبَةُ الرَّجُلِ أَهْلَهُ وَرَمْيُهُ بِقَوْسِهِ وَتَأْدِيبُهُ فَرَسَهُ
“সর্বপ্রকার খেলা নিষিদ্ধ তিনটি বিষয় ব্যতীত- যা খেলার অন্তর্ভুক্ত নয়। (১) নিজ আহলিয়া বা স্ত্রীর সাথে শরীয়তসম্মত হাসি-খুশী করা। (২) তীর ধনুক চালনা করা। (৩) অশ্বকে প্রশিক্ষণ দান করা।
“আবু দাউদ শরীফ, তিরমিযী শরীফ, নাসাঈ শরীফ, ইবনে মাজাহ্ শরীফ” ইত্যাদি পবিত্র হাদীছ শরীফের কিতাবেও হযরত উকবা ইবনে আমির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে অনুরূপ পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণিত রয়েছে। তবে শব্দের কিছু তারতম্য রয়েছে।
কাজেই, খেলাধুলার ফিতনা থেকে ঈমান-আমল হিফাজত করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরজ-ওয়াজিব।
(ধারাবাহিক)
ফুটবল খেলা বিধর্মীদের প্রবর্তন, যা কোন মুসলমান কখনোই করতে পারেনা :
ফুটবল খেলার আদি নাম সু-চু। আজ হতে প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে চীনে এ খেলার প্রচলন ছিলো। ‘সু’ অর্থ বলকে পা দিয়ে লাথি মারা এবং ‘চু’ অর্থ চামড়া দিয়ে তৈরী বল। জাপানে সপ্তম শতাব্দীর দিকে ফুটবল খেলাটি ক্যাসারি নামে পরিচিত ছিলো। মাত্র চৌদ্দ বর্গমিটার জায়গা জুড়ে ৮ জন খেলোয়াড় হুড়োহুড়ি করে খেলতো এ খেলা।
রোমদের মধ্যে এ খেলার প্রচলন করে জুলিয়াস সীজার। গ্রীকরা এর নাম দিয়েছিল ‘অ্যাপিসকিরোস।’ রোমানরা একে বলতো ‘হ্যারাপাসতুম।’ উইলিয়াম হেস্টিংস ১০৬৬ সালে ইংল্যান্ডে খেলাটির প্রচলন করে।
ইংল্যান্ডে প্রচলিত খেলাটিতে নিয়ম-কানুনের কোন বালাই ছিলোনা। দু’দলে প্রতিটিতে প্রায় ৫০০ জন ব্যক্তির মধ্যে দুপুরে শুরু হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত খেলা চলত। মাঠের দৈর্ঘ্য হত প্রায় আধা মাইল। এর মধ্যে প্রায়ই রক্তারক্তি ও বীভৎসতার রূপ লাভ করত। বিপদজনক এই গণফুটবলের নাম ছিলো মিলিস কিংবা মেলাস। হিংস্র এবং উন্মত্ততার কারণে ১৩১৪ সালে প্রথমবারের মত ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় এডওয়ার্ড আইন করে এ খেলা ইংল্যান্ডে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। কারণ এমন বিপদজনক খেলায় বহু যুবকের জীবনাবসান ঘটত এবং বহু যুবক আহত ও পঙ্গু হত। ফলে সেনা দলে ভাল যুবকের অভাব পড়বে ভেবে এ খেলা নিষিদ্ধ করা হয়।
ষোড়শ শতাব্দীতে কিছু নিয়ম তৈরি করে আর কুশলতার মধ্য দিয়ে ইটালিতে প্রথম ফুটবল খেলা প্রচলিত হয়। ইটালিতে এ খেলার নাম ছিল ক্যাসালিও। এ সময় এ খেলা পরিচালনা করত ইংল্যান্ডের একজন হেডমাস্টার রিচার্ড মূল কাস্টমার। যার নির্দেশে বিরোধ নিষ্পত্তি ঘটত। সে এ খেলার প্রশিক্ষকও বটে।
ইংল্যান্ডের ইটন, হ্যারো ও ইউনচেস্টার প্রমূখ স্কুল ফুটবলকে একটি আধুনিক খেলা হিসেবে সংগঠিত করে। ১৮৪৮ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল নিয়ন্ত্রণের জন্য সর্বপ্রথম কিছু নিয়ম-কানুন প্রবর্তন করে। এটি কেমব্রিজ রুলস নামে খ্যাত। এ ব্যাপারে ফুটবল ইতিহাসে জে.সি থিঙ্কস-এর নাম আলোচিত। সে ১৮৬২ সালে ফুটবলের ১০টি মৌলিক আইন প্রবর্তন করে।
১৮৫৫ সালে ইংল্যান্ডে শিফিল্ড ইউনাইটেড ফুটবল ক্লাব ১ম গড়ে উঠে ১৮৬৩ সালে ‘লেদার বল’ নামে একটি সংগঠন প্রথম ফুটবলের রীতি-নীতি প্রণয়ন করে। ১৮৬৩ সালে ডিফ্রিংগ রচিত ফুটবলের উপর প্রথম বই প্রকাশিত হয়। ১৮৭২ সালে স্কটল্যান্ড ও ইংলান্ডের মধ্যে প্রথম আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। স্কটল্যান্ডের প্রাসগো শহরে এ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।
২১ মে ১৯০৪ সালে ফিফা গঠিত হয়। ফিফা’র বর্তমান সদস্য দেশ ২০৪টি। ফিফার মূলে ফরাসি ব্যক্তিত্ব হেনরি ডেলনে ও জুলে রিমে। ফিফা’র বর্তমান সদর দফতর সুইজারল্যান্ডের জুরিখে।
উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, বিধর্মী কর্তৃক মারামারি-কাটাকাটি আর বিশৃঙ্খলার মাধ্যমে ফুটবল খেলা চালু হয়। যা কখনোই কোন মুসলমান অনুসরণ করতে পারেনা। কেননা, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
فَلَا تُطِعِ الْكَافِرِينَ
অর্থ: অতএব, কাফিরদের অনুসরণ করোনা। (পবিত্র সূরা ফুরক্বান শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ ৫২)
অর্থাৎ কাফিরদেরকে কোনভাবেই অনুসরণ করা যাবেনা। যা সুস্পষ্ট হারাম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
প্রাণীর ছবি তোলা হারাম ও নাজায়িজ
২২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
কদমবুছী করা খাছ সুন্নত মুবারক
২২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ঈমানী কুওওয়াত বা শক্তি বৃদ্ধিকারী কতিপয় ঘটনা
২২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্রতা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল (৩)
২১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহিলাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার বিশেষ নির্দেশনা মুবারক- পর্দা পালন করা
২১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান শান মুবারক উনার খিলাফ যারা বলবে তাদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদন্ড
২১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
২১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ মহাসম্মানিত ১২ই শরীফ রাত্র ও দিবসে এবং সাইয়্যিদুশ শুহূর, শাহরুল আ’যম, মহাসম্মানিত রবীউল আউওয়াল শরীফ মাসে যত রহমত বরকত সাকীনা নাযিল হয় অন্য কোন সময় এত রহমত নাযিল হয় না
২১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
ঈমানী কুওওয়াত বা শক্তি বৃদ্ধিকারী কতিপয় ঘটনা
২১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
খরচ করার ব্যাপারে মহান আল্লাহ পাক উনার ফায়সালা
২১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












