সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার নছীহত মুবারক:
রাগ ও লোভকে অনুপযুক্ত স্থানে প্রয়োগ না করে উপযুক্ত স্থানে প্রয়োগ করা উচিত
, ০১ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) মহিলাদের পাতা
আত্মসংযম বা রাগ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন কাজ এবং এ সময় ছবর করা এবং মন্দ ব্যবহারকারীকে ক্ষমা করা এক বিশেষ গুণ। যে ব্যক্তি এই গুণ অর্জন করতে পারবে তার জন্য রয়েছে ইহ-পরকালীন কামিয়াবী। অর্থাৎ অবশ্যই স্বীয় শত্রু তার অনুগত হয়ে যাবে এবং সে সর্বকালীন বিপদ-আপদ থেকে মুক্তি লাভ করতে পারবে।
উল্লেখ্য, মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা আল-ইমরান শরীফ উনার ১৩৪ নং আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,
وَالْكَاظِمِينَ الْغَيْظَ وَالْعَافِينَ عَنِ النَّاسِ ۗ وَاللَّـهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ
অর্থ: যারা রাগ সংবরণ করেন এবং মানুষকে ক্ষমা করেন (উনারাই মুহসিনীন) আর মহান আল্লাহ পাক তিনি মুহসিনীনগণ উনাদেরকে মুহব্বত করেন।
আর রাগ সংবরণ করার পদ্ধতি সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ أَبِيْ ذَرٍّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا غَضِبَ أَحَدُكُمْ وَهُوَ قَائِمٌ فَلْيَجْلِسْ فَإِنْ ذَهَبَ عَنْهُ الْغَضَبُ وَإِلَّا فَلْيَضْطَجِعْ. رواه أبو داود
অর্থ: হযরত আবু যর গিফারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যখন তোমাদের কেউ দাঁড়ানো অবস্থায় রাগানি¦ত হয় সে যেন বসে পড়ে, যদি এতে রাগ দূরীভূত হয় (তাহলে ভাল)। অন্যথায় সে যেন শুয়ে পড়ে। (আবু দাউদ শরীফ)
বলাবাহুল্য, প্রত্যেক বিষয়েই ভাল-মন্দ দুটি দিক রয়েছে ; অনুরূপভাবে রাগেরও ভাল-মন্দ দুটি দিক রয়েছে। এর মধ্যে যে ভালো দিকটা গ্রহণ করবে সে কামিয়াবী হাছিল করতে পারবে।
এই রাগ যথোপযুক্ত স্থানে প্রয়োগ করা উচিত। যেমন: কাফির-মুশরিকরা মুসলমানদের উপর অন্যায়ভাবে জুলুম-অত্যাচার করে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে মুসলমানদের উপর অবশ্যই ফরজ হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে এই রাগকে ব্যবহার করত: প্রতিবাদ করা। বিপরীত দিকে, রাগকে এমন স্থানে প্রয়োগ করা যাবেনা, যেটা তার ক্ষতির কারণ। যেমন: কেউ নামায আদায় করার কারণে তাকে শাস্তি দেয়া হয় অথবা পর্দা করার কারণে তাকে অপদস্ত করা হয় এক্ষেত্রে যদি সে রাগের বশবর্তী হয়ে নামায আদায় করা অথবা পর্দা করা ছেড়ে দেয় এটা তার ক্ষতির কারণ।
একইভাবে মানুষ সাধারণত দুনিয়ার চাকচিক্য দেখে তা হাছিলের জন্য ঈমান ও আমল পর্যন্ত নষ্ট করে ফেলে। নাউজুবিল্লাহ! যেমন: টাকা-পয়সার লোভে মানুষ অনেক কিছু সহ্য করে। একজন চাকুরীজীবি যদি কখনো তার উপরের পদস্থ ব্যক্তির কাছ থেকে খারাপ ব্যবহার পায়; তবুও সে তা সহ্য করে নেয়। এর কারণ হলো- চাকুরীজীবি স্বীয় পদে বহাল থাকা কিংবা উচ্চ পদে নিয়োগ হওয়া। তেমনিভাবে বিভিন্ন শ্রমিক যাদের সাথেও তাদের উপরের পদস্থ ব্যক্তিরা খারাপ ব্যবহার করলে, তারা এর কোন প্রতিবাদ করে না। কারণ একটাই, তা হলো টাকা। যদিও তারা বিনা পরিশ্রমে এই টাকা-পয়সা পাচ্ছে না বরং পরিশ্রমের বিনিময়েই পাচ্ছে।
সারকথা, টাকা-পয়সার লোভ থাকার কারণেই তারা এর কোন প্রতিবাদ করে না অর্থাৎ করতে পারে না।
এসব শ্রমিকরা তাদের পারিশ্রমিক একাই ভোগ করে তা কিন্তু নয়; বরং দেখা যায় এই টাকা-পয়সা জমা করে সন্তানদের জন্য রেখে যায়, বাড়ি-গাড়ি করে যায়।
সে আর কতটুকু সময়ই বা সুখ-শান্তিতে কাটাতে পারে! বিপরীতে সে যদি এই টাকা-পয়সা পরকালের জন্য জমা করে রাখত অর্থাৎ নেক কাজে খরচ করত তবে তার জন্য পরকালের পাথেয় হতো। কাজেই পরকালের পাথেয় তথা উত্তম নিয়ামত লাভের আশায় এই লোভকে ব্যবহার করতে পারলে; ইহাই কামিয়াবীর কারণ।
এই প্রকার লোকদের পরকালীন পাথেয় সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা কাহাফ শরীফ উনার ১০৭ ও ১০৮ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনাদের মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,
إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ كَانَتْ لَهُمْ جَنَّاتُ الْفِرْدَوْسِ نُزُلًا ﴿١٠٧﴾ خَالِدِينَ فِيهَا لَا يَبْغُونَ عَنْهَا حِوَلًا ﴿١٠٨﴾
অর্থ : নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছেন এবং আমলে ছলেহ করেছেন উনাদের জন্য জান্নাতুল ফিরদাউসে মেহমানদারীর ব্যবস্থা রয়েছে। উনারা সেখানে অনন্তকাল ধরে থাকবেন বা অবস্থান করবেন এবং সেখান থেকে ফিরে আসতে চাবেন না।
জানা আবশ্যক যে, দুনিয়াবী ফায়দা লাভ করতে হলে অথবা টাকা-পয়সা পেতে হলে যদি এত কষ্ট সহ্য করতে হয়, তাহলে মৃত্যুর পর নেয়ামতে পরিপূর্ণ অনন্তকালের জান্নাত লাভ করতে হলে আমাদের কতটুকু রিয়াযত-মাশাক্কাত বা কঠোর পরিশ্রম করতে হবে? বিষয়টি আমাদের প্রত্যেকেরই ফিকির করা উচিত।
(সংকলনে : মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ বালিকা শাখা)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
০১ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
দ্বীন ইসলামে হালাল ও হারামের গুরুত্ব (১)
৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইখলাছ অর্জন করা ফরজ; ইখলাছ ছাড়া ইবাদত-বন্দেগী কবুল হয় না
৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহিলাদের জন্য হাত, পা ও চেহারা আবৃত করে ঘর থেকে বের হওয়া ফরজ; খোলা রেখে বের হওয়া হারাম, জায়েয বলা কুফরী (৮)
৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ফায়সালা মুবারক তথা উনার সুন্নত মুবারক পালন করা ব্যতীত ঈমানদার হওয়া সম্ভব নয়
৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনাকে অনুসরণ করার আদব
২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যে ৪ শ্রেণীর লোকদের জন্য ক্বিয়ামতের দিন সুপারিশ ওয়াজিব হবে
২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
একসাথে তিন তালাক দেয়ার শরয়ী হুকুম (৩)
২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলতের অধিকারী
২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












