পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
(রাজারবাগ শরীফ উনার সম্মানিত মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার ওয়াজ শরীফ থেকে সংকলিত)
, ১৭ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ৩০ খ্বমিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রি:, ১৩ কার্তিক, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) মহিলাদের পাতা
(ধারাবাহিক)
এ প্রসঙ্গে বলা হয় যে, একবার মহান আল্লাহ পাক উনার নবী হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি ওহী করলেন। ওহী করে বললেন যে, হে আমার নবী হযরত কালীমুল্লাহ্ আলাইহিস সালাম! যে সন্তান পিতা-মাতার বাধ্য হবে সে যদি আমার হক্বের কিছু ত্রুটিও করে তথাপিও আমি সেটা ক্ষমা করে দিয়ে তাকে আমার বাধ্য বান্দা হিসেবে গ্রহণ করে নেব। সুবহানাল্লাহ! আর যদি কোন ব্যক্তি আমার হক্ব পুরা আদায় করা সত্ত্বেও তার পিতা-মাতার হক্ব সে যথাযথ আদায় না করে তাহলে আমি তাকে আমার বাধ্যগত বান্দা হিসেবে কবুল করবো না।
অর্থাৎ কোন ব্যক্তি যদি মহান আল্লাহ পাক উনার হক্ব যথাযথ আদায় করার পর পিতা-মাতার হক্ব আদায় না করে, তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে বাধ্য সন্তান হিসেবে কবুল করবেন না। আর যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতার হক্ব পরিপূর্ণ আদায় করবে এরপর মহান আল্লাহ পাক উনার হক্ব আদায়ে তার অনিচ্ছাকৃত কিছু ত্রুটি হয়ে যায় তথাপিও মহান আল্লাহ পাক তিনি সেটা ক্ষমা করে দিবেন।
এখন উপরের বিষয়টা ফিকির করতে হবে। কারণ এটা মহান আল্লাহ পাক তিনি ওহী করেছেন, মহান আল্লাহ পাক উনার নবী হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার প্রতি। আর এটা বর্ণনা করেছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি।
কাজেই পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের যে দায়িত্ব রয়েছে সেটা প্রত্যেক সন্তানেরই উচিৎ যথাযথভাবে আদায় করা।
এ প্রসঙ্গে বলা হয় যে, সন্তান তার পিতা-মাতার দেখাশুনা করবে। কতটুকু দেখাশুনা করবে? কি দেখাশুনা করবে?
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُمَا قَالَ: مَرَّ رَجُلٌ عَلَى أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، رَجُلٌ لَهُ جِسْمٌ وَخَلْقٌ، فَقَالُوا: لَوْ كَانَ هٰذَا فِي سَبِيلِ اللهِ، وَجَاءَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالُوا: لَوْ كَانَ هٰذَا فِي سَبِيلِ اللهِ، فَقَالَ: لَعَلَّهُ يَكُدُّ عَلٰى أَبَوَيْنِ شَيْخَيْنِ كَبِيرَيْنِ، فَهُوَ فِي سَبِيلِ اللهِ، لَعَلَّهُ يَكُدُّ عَلٰى صِبْيَةٍ صِغَارٍ، فَهُوَ فِي سَبِيلِ اللهِ، لَعَلَّهُ يَكُدُّ عَلَى نَفْسِهٖ لِيُغْنِيَهَا عَنِ النَّاسِ، فَهُوَ فِي سَبِيلِ اللهِ
হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, একদিন স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বসা ছিলেন। আমরাও উনার সঙ্গে বসা ছিলাম। একজন লোক স্বাস্থ্যবান উনি হেঁটে গেলেন আমাদের সামনে দিয়ে। হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম বললেন-
لَوْ كَانَ هٰذَا فِي سَبِيلِ اللهِ
যদি সে মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় হতো, কত উত্তম হতো!
فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَعَلَّهُ يَكُدُّ عَلٰى أَبَوَيْنِ شَيْخَيْنِ كَبِيرَيْنِ، فَهُوَ فِي سَبِيلِ اللهِ، لَعَلَّهُ يَكُدُّ عَلٰى صِبْيَةٍ صِغَارٍ، فَهُوَ فِي سَبِيلِ اللهِ، لَعَلَّهُ يَكُدُّ عَلَى نَفْسِهٖ لِيُغْنِيَهَا عَنِ النَّاسِ، فَهُوَ فِي سَبِيلِ اللهِ
যখন হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম একথা বললেন যে, লোকটা যদি মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় হতো তাহলে কত উত্তম হতো! তখন মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, হে আমার ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম আপনারা জেনে রাখুন,
لَعَلَّهُ يَكُدُّ عَلٰى أَبَوَيْنِ شَيْخَيْنِ كَبِيرَيْنِ
যদি সে তার বৃদ্ধ পিতা-মাতার রিযিক তালাশের জন্য বের হয়ে থাকে, অর্থাৎ সে যদি তার বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে খাওয়ানোর জন্য রিযিক তালাশের উদ্দেশ্যে বের হয়ে থাকে
فَهُوَ فِي سَبِيلِ اللهِ
তাহলে সে মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় রয়েছে।
لَعَلَّهُ يَكُدُّ عَلٰى صِبْيَةٍ صِغَارٍ
অথবা সে যদি তার বাচ্চা শিশু-সন্তানদেরকে খাওয়া-পরানোর জন্য রিযিক অন্বেষণের উদ্দেশ্যে বের হয়ে থাকে তাও সে
فَهُوَ فِي سَبِيلِ اللهِ
মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায়ই রয়েছে অথবা
لَعَلَّهُ يَكُدُّ عَلَى نَفْسِهٖ لِيُغْنِيَهَا عَنِ النَّاسِ
সে যদি তার নিজেকে স্বচ্ছল করার জন্য, মানুষ থেকে ফিরিয়ে রাখার জন্য, মানুষের কাছে হাত পাতা থেকে বেঁচে থাকার জন্য, হালাল কামাই করার জন্য বের হয়ে থাকে
فَهُوَ فِي سَبِيلِ اللهِ
তাহলেও সে মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় রয়েছে।
মূলতঃ মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এটা বুঝাতে চেয়েছেন যে, যে ব্যক্তি হালাল কামাই করার জন্য, তার নিজের স্বচ্ছলতার জন্য যাতে পরের কাছে হাত পাততে না হয়, বা তার ছোট শিশু সন্তানদেরকে খাওয়া-পরানোর জন্য অথবা তার বৃদ্ধ-বৃদ্ধা মাতা-পিতাকে খাওয়ানো-পরানোর জন্য রিযিক তালাশ করার উদ্দেশ্যে বের হয়, তাহলে সে মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় রয়েছে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সম্মানিত শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনাকে অনুসরণ করার আদব
২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যে ৪ শ্রেণীর লোকদের জন্য ক্বিয়ামতের দিন সুপারিশ ওয়াজিব হবে
২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
একসাথে তিন তালাক দেয়ার শরয়ী হুকুম (৩)
২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলতের অধিকারী
২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
যিকিরের মাধ্যমে ইলমে তাসাউফ অর্জন করা ফরয (৩য় পর্ব)
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল উনার ইন্তিজামকারী বিনা হিসাবে সম্মানিত জান্নাতে প্রবেশ করবেন
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
তিন ধরনের লোক বেহেশতে প্রবেশ করবে না
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












