যে সমাজ ব্যবস্থায় সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক, প্রজাতন্ত্রের মালিক ‘জনগণকে’ করা হয় সে সমাজব্যবস্থায়, অপরাধীরা নিয়ন্ত্রিত হয়না ও অপরাধ নির্মূল হয়না। সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং ভয় করার মালিক মহান আল্লাহ পাক তিনি। কেবলমাত্র এই অনুভূতি সমাজ থেকে সব অপরাধ নির্মূল করতে পারে।
, ২৭ ছফর শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ১৫ রবি’ ১৩৯১ শামসী সন , ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ খ্রি:, ৩০ ভাদ্র, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) মন্তব্য কলাম
প্রশ্ন হচ্ছে সমাজে খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল থেকে আরম্ভ করে চিকিৎসা ক্ষেত্রে প্রতারণা, রাস্তা-ঘাটে দুর্ঘটনা, স্বামী-স্ত্রী প্রতারণা, বাবা কর্তৃক ছেলেকে হত্যা, পরকীয়ার কারণে মা কর্তৃক সন্তান হত্যা, সেনাবাহিনী-পুলিশ-মন্ত্রী কর্তৃক দুর্নীতি এসবের পিছনে মূল কারণ কী?
কারণ হলো ভয়হীনতা অথবা সঠিক শক্তিকে ভয় না করা। উপরিল্লিখিত যত অপরাধ আছে এবং সে অপরাধে জড়িত যত মানুষ তারা ভয় পাওয়ার মত কাউকে দেখেনা। এসব অপরাধ থেকে বিরত থাকার জন্য যে শক্তির বর্ণনা দরকার তা তাদের সামনে নেই।
প্রসঙ্গত: উপরিল্লিখিত অপরাধীদের ভয়ের বিষয় হলো রাষ্ট্র। আর রাষ্ট্রের মালিক হলো জনগণ। সংবিধানে রাষ্ট্র বা প্রজাতন্ত্রের সব ক্ষমতার মালিক জনগণ। অর্থাৎ উপরিল্লিখিত অপরাধীদের যদি ভয় পেতে হয় তাহলে তাদের মতো জনগণকেই ভয় পেতে হবে। তারা সব ক্ষমতার মালিক জনগণের পক্ষে ক্ষমতা প্রয়োগকারী, পুলিশ, বিচারক ইত্যাদিকে ভয় পাবে। অথচ এরা অপরাধীদের মতোই অনুভূতি, প্রবৃত্তিগত ও প্রকৃতিগতভাবে প্রায় একই ধরনের মানুষ।
সেক্ষেত্রে সঙ্গতকারণেই অপরাধীরা তাদেরকে খুব একটা ভয় পায়না। বরং ম্যানেজ করার অবকাশ পায়। অথবা মন্ত্রী থেকে বিচারক তারাও অপরাধীদের মতোই অন্যভাবে অপরাধই করে যায়। এ কারণে স্বাধীনতা উত্তর এ প্রজাতন্ত্রে অদ্যাবধি দুর্নীতি ও অপরাধ কমার পরিবর্তে উল্টো বেড়েছে। আর সব অঘটনের পিছনে এই একই বিষয়।
কারণ যে লঞ্চ দুর্ঘটনা ঘটে, যে সড়ক দুর্ঘটনা হয় তাতে সংশ্লিষ্টের মনে যদি জনগণের প্রতি জবাবদিহিতার পরিবর্তে মহান আল্লাহ পাক উনার ভয় থাকতো তাহলে সে এত ঢিলেঢালা ডিউটি করত না। সমাজের কোথাও এত অনাচার হতোনা। এখন যেটা হচ্ছে সংবিধান মোতাবেক প্রজাতন্ত্রের মালিক, সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক জনগণ। কাজেই জনগণ কতটুকু ক্ষমতার মালিক হতে পারে অথবা কতটুকু ভয়ের কারণ হতে পারে সেটা সংশ্লিষ্ট অপরাধীরা ভালো করে বুঝেই অনাচার বা অনিয়মে গা ভাসিয়ে দেয়। আর এ কারণেই সমাজ আজ অন্যায় আর অনিয়মের স্রোতে ভেসে যাচ্ছে।
অথচ রাষ্ট্রদ্বীন পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার এ দেশে পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আইন অনুযায়ী আমাদের সর্বাগ্রে বিশ্বাস করতে হয় ‘সব সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক মহান আল্লাহ পাক তিনি।’ পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে অনেক পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ‘মহান আল্লাহ পাক তিনি’ তা ব্যক্ত করেছেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তুমি কি জান না যে, মহান আল্লাহ পাক উনার জন্যই নভোম-ল ও ভূম-লের সার্বভৌমত্ব? মহান আল্লাহ পাক ব্যতীত তোমাদের কোন বন্ধু ও সাহায্যকারী নেই।” (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১০৭)
“বলুন ইয়া আল্লাহ পাক! আপনিই সার্বভৌম শক্তির অধিকারী। আপনি যাকে ইচ্ছা রাজ্য দান করেন এবং যার কাছ থেকে ইচ্ছা রাজ্য নিয়ে নেন এবং যাকে ইচ্ছা সম্মান দান করেন আর যাকে সম্মান দান করেন না সে অপমানিত হয়। আপনারই হাতে রয়েছে যাবতীয় কল্যাণ। নিশ্চয়ই আপনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাশীল।” (পবিত্র সূরা আল ইমরান শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ২৬)
আর মহান আল্লাহ পাক উনার জন্যই হল আসমান ও যমিনের বাদশাহী। মহান আল্লাহ পাক তিনিই সর্ব বিষয়ে ক্ষমতার অধিকারী। (পবিত্র সূরা আল ইমরান শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১৮৯)
উল্লেখ্য, সার্বভৌমত্ব ক্ষমতার মালিক যেমন মহান আল্লাহ পাক তিনি, একমাত্র ভয় করার হক্বদারও মহান আল্লাহ পাক উনি। এ বিষয়েও পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে অনেক পবিত্র আয়াত শরীফ রয়েছে। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “হে ঈমানদারগণ! মহান আল্লাহ পাক উনাকে যেমন ভয় করা উচিত ঠিক তেমনিভাবে ভয় করতে থাকুন এবং অবশ্যই মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করবেন না।” (পবিত্র সূরা আল ইমরান শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১০২)
“এরা যে রয়েছে, এরাই হলে শয়তান, এরা নিজেদের বন্ধুদের ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন করে। সুতরাং তোমরা তাদেরকে ভয় করো না। তোমরা যদি ঈমানদার হয়ে থাক, তবে আমাকে ভয় কর।” (পবিত্র সূরা আল ইমরান শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১৭৫)
হে মুমিনগণ! মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করুন, উনার নৈকট্য অন্বেষণ করুন এবং উনার পথে জিহাদ করুন যাতে আপনারা সফলকাম হন।” (পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৫)
বলাবাহুল্য, সার্বভৌমত্ব ক্ষমতার মালিক মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং একমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনাকেই ভয় করতে হবে- এ দুটো মূল্যবোধ যদি আমাদের থাকে এবং আমাদের আইন, শিক্ষা, বিচার ব্যবস্থায় যদি সর্বাত্মক ফলিত হয় তবে সমাজ থেকে খুব সহজেই সব অনাচার-অনিয়ম-অন্যায় ইত্যাদি দূর হয়ে যাবে, সমাজে ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা পাবে।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোপনীয় বাণিজ্য চুক্তি: জনগণের অজান্তে জিএমও খাদ্য অর্থাৎ বিষ ও রোগ জীবাণু ঢোকানোর ষড়যন্ত্র
১৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
“সর্বশক্তিমান আল্লাহ পাক উনার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস” ব্যক্ত করার সরকারকে অবিলম্বে কুরআন শরীফে হারাম ঘোষিত শুকরের গোশত আমদানীর বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করতে হবে ইনশাআল্লাহ।
১৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
দেশি আম বাজারে আসার আগেই শুরু হয়েছে কথিত কেমিক্যাল অপপ্রচার : দেশীয় ফলের বিরুদ্ধে বিদেশী দালাল চক্রের এই অপপ্রচার রুখতে হবে।
১২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
‘ইউনিসেফ’ এর ভয়ংকর তৎপরতা। বাংলাদেশের শিশু ও শিক্ষার্থীদের পশ্চিমা দাস বানানোর প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ইউনিসেফ। (১)
১২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
উচ্চ আদালতে ‘ডেড ল’ বা অকার্যকর ঘোষিত ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি ১৯০০’ পুণঃবহালের অপচেষ্ঠা চলছে। উচ্চ আদালত, সেনাবাহিনী এবং সরকারের উচিত দেশবিরোধী এই চক্রান্ত ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া। (৩)
১১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
৭১ এ তারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলো ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরোধীতার নামে। তবে তারা ২০২৬- এ আমেরিকার আধিপত্যবাদী বাণিজ্য চুক্তির বিরোধিতায় নামছে না কেন?
১১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মৃত আইন- “পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি-১৯০০”: অখ-তার পথে এক ঔপনিবেশিক কাঁটা
১০ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার বরকতে- দেশের বুকে স্থলে, নদীতে, পাহাড়ে, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে, বঙ্গোপসাগরে রয়েছে বিপুল পরিমাণ মহামূল্যবান ইউরেনিয়াম। বাংলাদেশের ইউরেনিয়াম অনেক বেশী গুণগত মান সম্পন্ন ভারতসহ দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রের কারণেই তা উত্তোলন হচ্ছে না। হিন্দুস্থান টাইমস ও কুখ্যাত প্রথম আলো তথা ভারত আমেরিকার কুচক্রীরা একযোগে ষড়যন্ত্র করছে। জনগণকে জনসচেতন হতে হবে ইনশাআল্লাহ। (৩য় পর্ব)
০৯ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
প্রধানমন্ত্রীকে সাবধান থাকতে হবে- তার মন্ত্রী বা উপদেষ্টাদের দ্বারা যেনো দেশের ভাবমর্যাদা নষ্ট না হয়! বি.এন.পি ক্ষমতায় আসলেই দেশ, সন্ত্রাসবাদের ঝুকিতে পড়ে এই ধরণের প্রচারণার জন্য তথ্য উপদেষ্টার, ‘দেশে সন্ত্রাসবাদ আছে’- এই মিথ্যা উক্তিই কী যথেষ্ট নয়?
০৯ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আত্মঘাতী ঋণের কঠিন শর্তের বেড়াজালে আটকে যাচ্ছে সরকার। দেশবাসী কেনো নির্বিকার?
০৮ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পূর্ব তিমুর কেনো মুসলমানদের হারানো ভূমি? পূর্ব তিমুরের ঘটনা কী শিক্ষা দেয়। উপজাতিরা কেনো খ্রীস্টান হয়? উপজাতিরা কেনো মুসলমান হয় না? কেনো কঠিন হয়রানির মুখোমুখি হয়। স্বাধীন জুমল্যান্ড তথা খ্রীস্টান রাজ্য বানানোর বিপরীতে ৯৮ ভাগ জনগোষ্ঠী মুসলমানকে গর্জে উঠতে হবে ইনশাআল্লাহ।
০৭ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ইউনুসের দেশদ্রোহীতার বয়ান : এক সাংবাদিকের জবানবন্দি (৩)
০৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












