সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার নছীহত মুবারক:
যিকিরের মাধ্যমে ইলমে তাসাউফ অর্জন করা ফরয (২য় পর্ব)
, ০৬ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১৯ খ্বমিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রি:, ০২ কার্তিক, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) মহিলাদের পাতা
মহাসম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ ثَوْبَانَ رَضِىَ اللّٰهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ وَالَّذِيْنَ يَكْنِزُوْنَ الذَّهَبَ وَ الْفِضَّةَ كُنَّا مَعَ النَّبِىِّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِىْ بَعْضِ اَسْفَارِه فَقَالَ بَعْضُ اَصْحَابِه نَزَلَتْ فِىْ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ لَوْ عَلِمْنَا اَىُّ الْمَالِ خَيْرٌ فَنَتَّخِذُه فَقَالَ اَفْضَلُه لِسَانٌ ذَاكِرٌ وَ قَلْبٌ شَاكِرٌ وَ زَوْجَةٌ مُّؤْمِنَةٌ تُعِيْنُه علٰى اِيْمَانِه.
অর্থ: হযরত ছাওবান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, যখন وَالَّذِيْنَ يَكْنِزُوْنَ الذَّهَبَ وَ الْفِضَّةَ এই আয়াত শরীফ নাযিল হলো তখন আমরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে কোন এক সফরে ছিলাম। তখন কতিপয় ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা বললেন, এ আয়াত শরীফ সোনা-রূপা সম্পর্কে নাযিল হয়েছে, যদি আমরা জানতে পারতাম কোন মাল-সম্পদ উত্তম, অবশ্যই আমরা তা গ্রহণ করতাম। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, উত্তম সম্পদ হচ্ছে যিকির কারী যবান, শোকরগোজার অন্তর, দ্বীনদার-ঈমানদার আহলিয়া যে দ্বীনের কাজে সাহায্য করে । সুবহানাল্লাহ! (তিরমিযি শরীফ, মিশকাত শরীফ, ইবনে মাজাহ শরীফ)
এই মহাসম্মানিত হাদিছ শরীফ থেকে ইবরত-নছীহত হাছিলের বিষয় হলো, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে শ্রেষ্ঠ সম্পদ সম্পর্কে জানতে চাইলেন এবং বললেন, যদি আমরা জানতে পারতাম তাহলে সেটা গ্রহণ করতাম তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জানালেন, (যিকির কারী যবান, শোকরগোজার অন্তর, দ্বীনদার-ঈমানদার আহলিয়া যে দ্বীনের কাজে সাহায্য করে) এই তিনটি বিষয়ই শ্রেষ্ঠ সম্পদ। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সেটাই গ্রহণ করেছেন। কিন্তু এখন মানুষ সেটা গ্রহণ করতে দেখা যায় না। পছন্দও করেনা, ক্বদরও করেনা। নাউযুবিল্লাহ! মূলত জবানকে যিকিরে মশগুল রাখা সেটা করা হয় না। আবার অন্তর যে শুকরগোজারী করবে সে বিষয়টিও করা হয় না, আর নেককার আহলিয়া সেটাও অনেকে গ্রহণ করতে চায় না। নাউযুবিল্লাহ! আবার যদি কারো আহলিয়া নেককার হয়, তাহলে তার ক্বদরও করা হয়না। মূলত এই তিনটি হচ্ছে একজন মানুষের শ্রেষ্ঠ সম্পদ।
উল্লেখ্য, মানুষের অন্তর হচ্ছে মুক্ত মাঠে পালকের ন্যায়। এ সম্পর্কে মহাসম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ أَبِىْ مُوسَى الْأَشْعَرِىِّ رَضِىَ اللّٰهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ " مَثَلُ الْقَلْبِ كَرِيْشَةٍ بِأَرْضِ فُلَاةٍ يُقَلِّبُهَا الرِّيَاحُ ظَهْرَ الْبَطْنِ" (رواه احمد)
অর্থ : হযরত আবূ মুসা আল আশয়ারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বার্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,“মানুষের অন্তরের মেছাল বা দৃষ্টান্ত হচ্ছে, মুক্ত মাঠে পালকের ন্যায়। মাটির উপরে বাতাস তাকে ঘুরিয়ে থাকে। অর্থাৎ উন্মুক্ত মাঠে বাতাসের কারণে পালক যেমন ঘুরতে থাকে তেমন মানুষের অন্তরটাও শয়তানের ওয়াসওয়াসায় ঘুরতে থাকে, স্থির থাকতে পারেনা।
কারণ, ক্বলবে যতক্ষণ মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির হয় ততক্ষণ ক্বলব মহান আল্লাহ পাক উনার দিকে রুজু থাকে। আর যখন যিকির করা হয়না তখন শয়তান সঙ্গী হয়ে তাকে ওয়াসওয়াসা দেয়। আর সে মহান আল্লাহ পাক উনার অসন্তুষ্টি মূলক কাজ, কথা-বার্তা বলে থাকে এবং আমল করে থাকে।
তাই অন্তরকে স্থির রাখার জন্য বেশি বেশি মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির করতে হবে। যিকির ব্যতীত অনর্থক কথা বলা যাবে না। কেননা মহাসম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
وَعَنْ اُمِّ حَبِيْبَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَالَتْ قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ لَا تُكْثِرُوا الْكَلَامَ بِغَيْرِ ذِكْرِ اللّٰهِ فَاِنَّ كَثْرَةَ الْكَلَامِ بِغَيْرِ ذِكْرِ اللّٰهِ قَسْوَةٌ لِّلْقَلْبِ وَاِنَّ أبْعَدَ النَّاسِ مِنَ اللّٰهِ اَلْقَلْبُ الْقَاسِىْ. (رواه الترمذي)
অর্থ: উম্মুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত (উম্মে হাবীবাহ) হাদিয়া আশার আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির ব্যতীত অতিরিক্ত কথা বলো না। কেননা, অতিরিক্ত কথা বলার দ্বারা অন্তর কঠিন হয়ে যায়। আর যার অন্তর কঠিন হয়ে যায় সে মহান আল্লাহ পাক উনার থেকে দূরে সরে যায়। নাঊযূবিল্লাহ! (তিরমিযী শরীফ)
(সংকলনে : মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ বালিকা শাখা)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহিলাদের জামায়াতের জন্য মসজিদে ও ঈদগাহে যাওয়া হারাম ও কুফরী (৮)
১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইখলাছ অর্জন করা ফরজ; ইখলাছ ছাড়া ইবাদত-বন্দেগী কবুল হয় না
১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহিলাদের জন্য হাত, পা ও চেহারা আবৃত করে ঘর থেকে বের হওয়া ফরজ; খোলা রেখে বের হওয়া হারাম, জায়েয বলা কুফরী (৬)
১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ফায়সালা মুবারক তথা উনার সুন্নত মুবারক পালন করা ব্যতীত ঈমানদার হওয়া সম্ভব নয়
১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
যে ৪ শ্রেণীর লোকদের জন্য ক্বিয়ামতের দিন সুপারিশ ওয়াজিব হবে
১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
একসাথে তিন তালাক দেয়ার শরয়ী হুকুম (১)
১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পারিবারিক তা’লীমের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরী একটি বিষয়
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
যিকিরের মাধ্যমে ইলমে তাসাউফ অর্জন করা ফরয (১ম পর্ব)
১১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
১১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












