যাকাত সম্পর্কিত আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (৬)
, ১১ রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৩ ছামিন, ১৩৯৩ শামসী সন , ০১ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ১৭ পৌষ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
যাকাত প্রদান করার ক্ষেত্রে শরয়ী খুঁতমুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানে প্রদান করতে হয়, নতুবা যাকাত আদায় হবে না। কেননা মহান আল্লাহ পাক তিনি নির্দেশ মুবারক প্রদান করেন-
تَعَاوَنُوْا عَلَى الْبِرّ وَالتَّقْوٰى ۖ وَلا تَعَاوَنُوْا عَلَى الاِثْـمِ وَالْعُدْوَانِ ۚ وَاتَّقُوا اللهَ ۖ اِنَّ اللهَ شَدِيْدُ الْعِقَابِ.
অর্থ : তোমরা নেক কাজে ও পরহেযগারীতে পরস্পর পরস্পরকে সাহায্য করো। বদ কাজে ও শত্রুতাতে পরস্পর পরস্পরকে সাহায্য করো না। আর এ বিষয়ে আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি কঠিন শাস্তিদাতা। (পবিত্র সূরা মায়িদা : আয়াত শরীফ ২)
সুতরাং যাকাত কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানে প্রদানের পূর্বে নি¤œলিখিত বিষয়গুলো অবশ্যই যাচাই করে নিতে হবে।
১. তাদের ঈমান-আক্বীদা বিশুদ্ধ কিনা,
২. সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার নামে দ্বীন উনাকে ক্ষতি করার কাজে লিপ্ত কিনা,
৩. নেককার-পরহেজগার কিনা।
যাকাতদাতার দায়িত্ব-কর্তব্য :
লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে যাকাত আদায় করা শিরক :
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عن حضرت ابى سعيدن الـخدرى رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم الرياء شرك خفى
অর্থ : হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, রিয়া হলো গোপন র্শিক। (ইহইয়াউ উলূমিদ্দীন)
খ¦লিক্ব, মালিক, রব, মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَمَا اُمِرُوْا اِلَّا لِيَعْبُدُوا اللهَ مُـخْلِصِيْنَ لَهُ الدّيْنَ
অর্থ : খালিছভাবে একমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদত করার জন্যই তাদেরকে আদেশ মুবারক করা হয়েছে। (পবিত্র সূরা বাইয়্যিনাহ্ : আয়াত শরীফ ৫)
সুতরাং একমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার জন্যই যাকাত দিতে হবে, লোক দেখানোর জন্যে বা দাতা খেতাব পাওয়ার জন্যে যাকাত আদায় করা রিয়ার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণে শিরকের অন্তর্ভুক্ত।
যাকাতের টাকা দিয়ে ব্যবহার অযোগ্য নি¤œমানের কাপড় ক্রয় ও তা গরীবের মাঝে বিতরণ যাকাত ইহানত করার শামীল :
বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, যাকাতের টাকা-পয়সা দিয়ে এমন নি¤œমানের শাড়ী-লুঙ্গি ক্রয় করে যা ব্যবহারের অযোগ্য। যা যাকাতদাতা ও তার পরিবার-পরিজন কখনোই সেটা পরিধান করবে না।
অথচ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে,
عَنْ حَضْرَت اَنَسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ عَنِ النَّبِيّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا يُؤْمِنُ اَحَدُكُمْ حَتَّى يُـحِبَّ لْاَخِيْهِ مَا يُـحِبُّ لِنَفْسِهِ.
অর্থ : হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আপনাদের কেউ ঈমানদার হতে পারবেননা যতক্ষণ পর্যন্ত নিজের জন্যে আপনারা যা পছন্দ করেন আপনার ভাইয়ের জন্যেও তা পছন্দ না করবেন। (বুখারী শরীফ : হাদীছ শরীফ নং ১৩; তিরমিযী শরীফ : হাদীছ শরীফ নং ২৭০৫)
সুতরাং যাকাত প্রদানের ক্ষেত্রে যাকাতদাতার উৎকৃষ্ট মাল থেকেই যাকাত দেয়া ফরয। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتّٰى تُنْفِقُوْا مِـمَّا تُـحِبُّوْنَ
অর্থ : মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় তোমরা তোমাদের সবচেয়ে প্রিয় বস্তু খরচ না করা পর্যন্ত কস্মিনকালেও কোন নেকী হাছিল করতে পারবে না। (পবিত্র সূরা আলে ইমরান : আয়াত শরীফ ৯২)
সুতরাং মালিকে নিছাব কখনোই তাদের খেয়াল-খুশি মুতাবিক যাকে তাকে ও যেখানে সেখানে যাকাতের অর্থ প্রদান করতে পারবে না। সে অধিকারও তাদের নেই। যাকাত ধনী-গরীবদের মাঝে পার্থক্য করার জন্যে আসেনি। তাহলে যাকাতের কাপড় বলতে আলাদা নাম থাকবে কেন? অতএব, বুঝা যাচ্ছে যাকাত উনাকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার জন্যই ‘যাকাতের কাপড়’ নামে নামকরণ করা হয়েছে। নাউযুবিল্লাহ!
কাজেই লোক প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে নি¤œমানের অব্যবহার্য শাড়ী-লুঙ্গি যাকাতের টাকা দিয়ে ক্রয় করে যাকাত দেয়া যাকাত উনাকে ইহানত বা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার শামীল। নাউযুবিল্লাহ!
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৩)
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা শক্ত হারাম, রয়েছে কঠিন শাস্তি
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা বেমেছাল মর্যাদার অধিকারী (১৫৫)
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারকসমূহ যারা পালন করেন উনাদেরকে অনেক ফযীলত দেয়ার সাথে সাথে তিনটি বিশেষ ফযীলত হাদিয়া করা হয়-
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ওলীআল্লাহ উনাদের সম্পর্কে বদ আক্বীদা পোষণ এবং উনাদের বিরুদ্ধাচরণের কারণে কঠিন পরিণতি
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৫)
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত মসজিদের মধ্যে উচ্চস্বরে কথা বলা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












