যাকাত সম্পর্কিত আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (১০)
, ০৯ শাবান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ৩১ ছামিন, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ১৫ মাঘ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
মালে তেজারত বা ব্যবসায়িক মালের যাকাত:
(পূর্বে প্রকাশিতের পর)
কোন ব্যবসায়ের আনুসঙ্গিক বিষয়ের উপর যাকাত দিতে হয় না : কেউ মুরগীর ফার্ম করলো। সেখানে সে ৫ লাখ টাকার মুরগী কিনলো। এই ৫ লাখ টাকা তার পুঁজি। এটার জন্যে কি খরচ করলো না করলো সেটা এখানে আসবে না। একটা ঘর বানালো। ঘরের তো যাকাত দিতে হবে না। যেই মালটা দিয়ে বেচা-কেনা বা ব্যবসা করবে সেটার যাকাত দিতে হবে। এখন মুরগীর ফার্ম করতে গিয়ে ১ কোটি টাকার ঘর বানালো সেটার যাকাত দিতে হবেনা। বিল্ডিং তো বিল্ডিংয়ের জায়গায় রয়ে গেছে। যদি বিল্ডিং বেচা কেনা করে তাহলে সেটার যাকাত দিতে হবে। এখানে পটুজি হচ্ছে ৫ লাখ টাকার মুরগী। এটার উপর যাকাত দিতে হবে। বেশি বিক্রি করলে বেশি, যখন বিক্রি করবে তখন দিতে হবে। যদি দাম কমে যায় তখন ওটার উপরই যাকাত দিতে হবে।¬¬
পাওনা ও আটকে পড়া সম্পদের যাকাতের বিধান :
এ সম্পর্কে হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছে-
عن حضرت الـحسن البصرى رحمة الله عليه قال اذا حضر الوقت الذى يودى فيه الرجل زكاته ادى عن كل مال و عن كل دين الا ما كان ضمارا لا يرجوه.
অর্থ : বিশিষ্ট তাবিয়ী হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, যখন যাকাত প্রদানের সময় উপস্থিত হবে, তখন যাকাত আদায়কারী ব্যক্তি তার সকল সম্পদের উপর এবং সকল পাওনার উপর যাকাত দিবেন। তবে যে পাওনা সম্পদ আটকে রাখা হয়েছে এবং যা ফেরত পাওয়ার সে আশা করে না, সেই সম্পদের যাকাত দিতে হবে না। তবে যখন পাবে তখন (শুরু থেকে পাওয়া পর্যন্ত) তার যাকাত আদায় করবে। (ইমাম হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার এ মতটি হযরত আবূ উবাইদ কাসিম ইবনে সালাম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সংকলন করেছেন)
ঋণগ্রস্তদের ঋণের বদলা হিসেবে যাকাতের অর্থ কেটে নেয়ার বিধান : কোন ঋণদাতা-মালদার ব্যক্তি যদি ঋণগ্রস্তদের ঋণের বদলা হিসেবে যাকাতের অর্থ কেটে নেয় তাহলে তার যাকাত আদায় হবে না। কেননা ফিকাহ ও ফতওয়ার কিতাবসমূহে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যাকাতদাতা যাকাত প্রদানের মাধ্যমে বাড়তি কোন ফায়দা লুটাতে পারবে না। এভাবে যাকাতের অর্থ কেটে নেয়া প্রকাশ্য ফায়দা হাছিলের শামিল। আর যাকাতের মাল বা অর্থ অবশ্যই যাকাত পাওয়ার হকদার ব্যক্তিদেরকে হস্তান্তর করতে হবে তথা তাদেরকে মালিক করে দিতে হবে। এরপর যদি তারা ঋণ প্রদানকারীকে হস্তান্তর করে তবে তাতে কোন অসুবিধা নেই। তবে এক্ষেত্রে শর্ত হচ্ছে যে, যাকাত গ্রহণকারী তথা ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিকে অবশ্যই আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনার আক্বীদায় আক্বীদাভুক্ত হতে হবে। অন্যথায় যাকাত এভাবে আদায়ে আদায় হবে না। (ফিকাহ ও ফতোয়ার কিতাবসমূহ)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
শ্রেষ্ঠ উসমানীয় সুলতান মুরাদ আল রাবির ন্যায়পরায়নতা এবং এক রাতের ঘটনা
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সম্মানিত তিনটি বিষয়
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া কবীরা গুনাহ
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহান আল্লাহ পাক উনাকে যদি কেউ হাক্বীক্বী ভয় করতে চায়, তার তিনটি দায়িত্ব
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (৯)
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












