সম্পাদকীয়-১
মুসলমানদের ভালো কিছু দেখলে কাফিররা কখনই খুশি হয় না দেশের ১০ কোটিরও বেশী শীতার্ত দরিদ্র জনসাধারণের জন্য মাত্র ১৫ কোটি টাকার কম্বল বরাদ্দ করা চরম বৈষম্য এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন
পাশাপাশি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনের চেতনার সাথে চরম সাংঘর্ষিক খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ্র চেতনা ও জজবা ধারণ করে এর অবসান ঘটাতে হবে ইনশাআল্লাহ
, ১১ রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৩ ছামিন, ১৩৯৩ শামসী সন , ০১ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ১৭ পৌষ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) সম্পাদকীয়
সব প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সকল সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক।
সারা দেশে ঘন কুয়াশার সঙ্গে অনুভূত হচ্ছে তীব্র শীত। তীব্র শীতে সারা দেশের জনজীবন অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। উত্তরাঞ্চল থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম, মধ্যাঞ্চল থেকে রাজধানীসহ সবখানেই শীতের দাপট। বিশেষ করে দুর্ভোগে পড়েছেন শ্রমজীবীসহ নিম্ন আয়ের মানুষেরা।
তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে দিনমজুর, রিকশাচালক, নির্মাণশ্রমিক ও খেটে খাওয়া মানুষ, যাদের বেশির ভাগকেই খোলা আকাশের নিচে কাজ করতে হয়। বিভিন্ন শ্রমবাজারে প্রতিদিন যেখানে ৩০০-৪০০ মানুষ কাজের আশায় জড়ো হয়, কাজকর্ম কম থাকায় সেখানে এখন সেই সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে। অনেকেই সকাল থেকে অপেক্ষা করে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরছে।
রিকশাচালক, নির্মাণশ্রমিক ও দিনমজুররা জানান, বেশি শীতের কারণে লোকজন ঘর থেকে কম বের হচ্ছে। নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজ তেমন হাতে নেওয়া হচ্ছে না। এতে তাদের কাজ কমে গেছে। কিন্তু আয় কমলেও সংসারের ব্যয় তো কমছে না। এ চিত্র বগুড়া, গাইবান্ধা, লালমনিরহাটসহ দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায়।
তিস্তার চরাঞ্চলের গোবর্ধন গ্রামের আবদুর রশিদ বলেন, ‘চরাঞ্চলে কুয়াশা আর হিমেল হাওয়া অনেক বেশি। রাতে বিছানাও বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে যায়। এক-দুইটা পাতলা কম্বলে শরীর গরম হচ্ছে না। ফলে রাতেও ঘুমাতে পারছি না।’
রিকশাচালক মকবুল বলছিলেন, ‘শীতের কষ্ট গায়ে সইলেও পেটে সয় না। একদিন কাজে না বের হইলে পেট চালানো মুশকিল। এমন শীতে রিকশা চালাইতেও হাত পা অবশ হয়ে আসে। গরিব হয়ে আছি বিপদে; আমাদের শীতও আটকায় না, পেটও মানে না।’
সংসার চালাতে তীব্র শীত উপেক্ষা করেও রিকশা নিয়ে বেরিয়েছেন মকবুল হোসেন। কিন্তু শীতের কারণে মানুষ খুব একটা রিকশায় উঠছে না। এতে করে শীতে কষ্ট করলেও কাঙ্খিত আয় হচ্ছে না তার।
উচ্চবিত্ত আর মধ্যবিত্তদের তেমন কোনো সমস্যা নেই। তারা মূলত শীতকে উদযাপন করে থাকে। কিন্তু নিম্নবিত্ত এবং সমাজে পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য এই শীত নিয়ে আসে এক ভয়াবহ দুর্ভোগ। তারা প্রয়োজনীয় শীতের কাপড় না থাকার করণে শীতে প্রচন্ড রকমের কষ্ট করে। বিশেষ করে গৃহহীন মানুষ, পথশিশুদের কষ্টের কোনো শেষ থাকে না এই শীতকালে। তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজ নিজ অবস্থান থেকে তাদের কষ্ট লাঘবের জন্য চেষ্টা করা। তাহলে হয়তো এই শীতার্ত মানুষের কষ্ট কিছুটা কমে আসবে। পথশিশুরা অবহেলিত, নির্যাতিত, সুবিধাবঞ্চিত ও শিক্ষার আলো থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছে। পথশিশুদের একটি বড় অংশের নেই অক্ষরজ্ঞান। বাকি যারা এনজিও কিংবা অন্য কোনো সহায়ক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাথমিক শিক্ষা নেয়, তাদের অবস্থাও ভালো নয়। ঢাকার রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে যখন পথশিশুদের চোখে পড়ে, তখন থমকে দাঁড়িয়ে যাই। তারা যখন খাবার কিংবা টাকা চায় তখনো মন খারাপ হয়ে যায়। ভাবী আমাদের শিশুর সঙ্গে এদের কত পার্থক্য। পথশিশুদের প্রতি আমাদের সহমর্মিতা নেই বললেই চলে। তারা যাবতীয় মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে পথশিশুর সংখ্যা ১৫ লাখ। এর মধ্যে আড়াই থেকে তিন লক্ষাধিক পথশিশু রাজধানী ঢাকার পিচঢালা পথে বাঁধা পড়ে গেছে।
জীবন আর জীবিকার তাগিদে রাস্তায় নামা এই বিপুল সংখ্যক শিশুরা উপেক্ষার শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত। যে শিশুর হাতে বই খাতা থাকার কথা ছিল, তাদের একটি বড় অংশ আজ জীবন সংগ্রামে পর্যদস্তু। বেঁচে থাকাই তাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। লাঞ্ছিত সুবিধাবঞ্চিত এই শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা দরকার। সমাজের আর ১০টা শিশুর মতো বেড়ে ওঠা ও বিকাশ লাভের সুযোগ করে দিতে হবে আমাদেরই। এ ক্ষেত্রে সরকারেরও যথেষ্ট করণীয় রয়েছে। সরকারের পরিকল্পিত উদ্যোগই পারে এদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সচ্ছল ব্যক্তিদেরও করণীয় রয়েছে। তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজ নিজ অবস্থান থেকে তাদের কষ্ট লাঘবের জন্য চেষ্টা করা। তাহলে হয়তো এই শীতার্ত মানুষের কষ্ট কিছুটা হলেও কমে আসবে।
সমাজে যারা বিত্তবান ব্যক্তি, তারা চাইলেই পথশিশুসহ ছিন্নমূল মানুষের এই হাড় কাঁপানো শীতের সময় একটু সাহায্য করতে পারেন। তারা একটু সহযোগিতার মাধ্যমেই সমাজে বসবাসরত গরিব অসহায় মানুষের মুখে একটু হাসি ফুটিয়ে তুলতে পারেন।
সুবিধাবঞ্চিত মানুষের প্রতি একটু মানবতা প্রদর্শন করা আমাদের কর্তব্য। এই কনকনে শীতে ফুটপাত, রেলস্টেশন ও বস্তিতে বসবাস করা মানুষ নিদারুণ কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
উল্লেখ্য শীত বস্ত্র নাগরিকের মৌলিক অধিকার। সে অধিকার পূরণে মাত্র ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেশের দরিদ্র সাধারণের প্রতি কঠিন উপহাসের শামিল। এটা বরদাশতের বাইরে। পবিত্র কুরআন শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, তোমরা জালিমও হয়ো না, মজলুমও হয়ো না।
এটা চরম বৈষম্যের প্রমাণ। গত একনেক বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় টেশসই সামাজিক সেবা প্রদান প্রকল্পে ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।
অপরদিকে সারাদেশের প্রায় ১০ কোটি শীতার্ত দরিদ্র জনগণের জন্য মাত্র ১৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটা পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য চট্টগ্রাম নির্ভর উপদেষ্টা সরকারের বিশেষ পক্ষাপাতিত্ব এবং সমতল ভূমির জনগণের প্রতি চরম বৈষম্য। যা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের আদর্শের সাথে চরম সাংঘর্ষিক। সুতরাং এটা হতে পারে না। শীতার্ত দরিদ্র জনসাধারণের জন্য শীত-বস্ত্রসহ জীবন-জীবিকার জন্য প্রয়োজনে ৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি বরাদ্দ দিতে হবে ইনশাআল্লাহ।
মূলত, এসব বিষয় বাস্তবায়নের অনুভূতি ও দায়িত্ববোধ আসে পবিত্র ঈমান ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাদের খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ্র চেতনা ও জজবা এবং পরিক্রমা থেকে ইনশাআল্লাহ।
ছহিবে সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্র্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারক-এ কেবলমাত্র তা লাভ করা সম্ভব। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। আমীন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
“মুসলিম বিশ্ব যদি ডলারের পরিবর্তে নিজেদের মধ্যে ‘ইসলামী দিনার’ চালু করে, তবে তা পশ্চিমাদের জন্য পারমাণবিক বোমার চেয়েও বড় ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।”
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আর জুলাই সনদের ৮ নং অনুচ্ছেদ খএইঞছ এর পরিপূর্ণ প্রতিফলন। তারপরেও ঈমান বিক্রী করে, ইসলামের ধ্বংস ডেকে তথাকথিত ইসলামী দল কী করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলনের ঘোষণা দিতে পারে? জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বি.এন.পির নির্বাচনী ইশতেহারে এর সাথে সাংঘর্ষিক। ইসলামী অনুভূতির প্রতি সহযোগী মনোভাবের চরম খেলাফ।
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুসলমান মায়েরা কেন সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াতে গাফলতি করবে?
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মূল্যবৃদ্ধির চাপে পিষ্ট জনগণ উৎপাদন বৃদ্ধি নয়, শুধুমাত্র মধ্যস্বত্য ভোগী, তথা সিন্ডিকেট নির্মূলেই দ্রব্যমূল্য সুলভ করা সম্ভব।
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ বছরে সাশ্রয় করতে পারে ১ বিলিয়ন ডলার।
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ব্যাংক শোষণের কারণে শুধু একজন মালিকই নয় বা লাখ লাখ শ্রমিকই নয় বরং গোটা আর্থ-সামাজিক খাত হয় ক্ষত-বিক্ষত, বিপর্যস্ত, লা’নতগ্রস্ত, বেকারত্বে জর্জরিত।
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মালদ্বীপের ৬১তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে বাংলাদেশের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ।
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় মাইক্রোচিপ বিজ্ঞানী, বাংলাদেশী এনায়েতুর রহমান এ শিল্পের বিকাশে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশীকে বিশেষ সহায়তা করতে চান।
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম, মহাসম্মানিত রবীউল আউওয়াল শরীফ মাস উনার মহিমান্বিত, মহাপবিত্র ১২ তারিখ উনার সাথে সম্পর্কযুক্ত মহাসম্মানিত ১২ই ছফর শরীফ এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুর রদ্বাআহ্ আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম উনার মহাপবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সমুদ্র অর্থনীতির সোনালী সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
শিশুর দেহে এন্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্টেন্সের ভয়ানক উপস্থিতি
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
শীতের সবজি, গ্রীষ্মের ফল, ফসল এখন বর্ষায় অকল্পনীয় বাম্পার ফলন হয়
২৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












