মন্তব্য কলাম
মুশরিক ভারতের প্রতি লা’নত ওদের জনসংখ্যা দিন দিন নিম্নমুখী পক্ষান্তরে ৯৮ ভাগ জনগোষ্ঠী মুসলমানের দেশ বাংলাদেশে খোদায়ী রহমত। (সুবহানাল্লাহ) বাংলাদেশে জনসংখ্যার এখন ৬৫ ভাগই কর্মক্ষম এবং জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার উর্ধ্বগামী বাংলাদেশ ভোগ করছে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের নিয়ামত। সুবহানাল্লাহ!
, ২১ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১১ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ১১ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ২৬ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) মন্তব্য কলাম
ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেলের স্যাম্পল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম (এসআরএস) রিপোর্টে একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ২০২৩ সালের একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে ভারতের জনসংখ্যার ক্রমবর্ধমান অনুপাতের মধ্যে কর্মক্ষম গোষ্ঠীর সংখ্যা হ্রাস পেয়ে বাড়ছে বয়স্কদের সংখ্যা। ০-১৪ বছর বয়সী জনগোষ্ঠীদের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল ভারতীয় নারীদের মধ্যে প্রজননের হার কমেছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, ০-১৪ বছর বয়সীদের হার ১৯৭১ সালে মোট জনসংখ্যার ৪১.২ শতাংশ ছিল। ১৯৮১ সালে ২০ বছরের মধ্যে সেটি কমে ৩৮.১ শতাংশে দাঁড়ায়। একইভাবে ১৯৯১-২০২৩ সালের মধ্যে ৩৬.৩ শতাংশ থেকে কমে ২৪.২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেলের এসআরএস তথ্য অনুসারে, দেশের মোট উর্বরতার হার ১৯৭১ সালে ৫.২ থেকে ২০২৩ সালে ১.৯ শতাংশে নেমে এসেছে। সমীক্ষায় দেখা গেছে প্রজনন হার হ্রাসের ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান উল্লেখযোগ্য। পঞ্চাশ বছর আগে যেখানে নারী পিছু ৫ সন্তান ছিল, সেটা এখন ২-এরও কমে এসে দাঁড়িয়েছে। এসআরএস বিশ্বের বৃহত্তম জনসংখ্যাতাত্ত্বিক জরিপগুলোর মধ্যে একটি, প্রায় ৮.৮ মিলিয়ন নমুনা জনসংখ্যাকে অন্তর্ভুক্ত করে এই জরিপ করা হয়েছে।
একটি দেশের প্রজনন ও মৃত্যুহার কমে আসার কারণে বয়স কাঠামোর মধ্যে একটা পরিবর্তন আসে। সে বয়স কাঠামোর পরিবর্তনের সময় কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা যখন নির্ভরশীল জনসংখ্যার অনুপাতে সর্বাধিক দাঁড়ায়, তখন নির্ভরশীল জনসংখ্যার হার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে অনুকূলে থাকে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে যদি বিদ্যমান অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি আরও বেশি ত্বরান্বিত করা যায়, তবে সেই বিষয়টিকে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনমিতিক লভ্যাংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এখানে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী বলতে ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়স পর্যন্ত ও নির্ভরশীল জনগোষ্ঠী বলতে ০ থেকে ১৪ বছর ও ৬৫ বছরের বেশি বয়সের মানুষদের বোঝানো হয়।
এ প্রেক্ষিতে বলতে হয় মুশরিক ভারতে জনসংখ্যাহীনতার লা’নতের বিপরীতে বাংলাদেশে প্রবাহিত হচ্ছে অজস্র ধারায় কর্মক্ষম জনসংখ্যা রহমত। সুবহানাল্লাহ!
বিবিএসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় ৩৫ শতাংশ, যেখানে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ৬৫ শতাংশ। এই হিসাবে দেখা যাচ্ছে, ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড নেয়ার সুবর্ণ সুযোগ এখন বাংলাদেশের সামনে। তবে শুধু জনসংখ্যার পরিসংখ্যানে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী বিপুল পরিমাণে থাকার মানেই কিন্তু নয় যে একটি দেশ এর সুযোগ গ্রহণ করতে পারবে, যদি-না তারা এই কর্মক্ষম জনশক্তিকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞে সম্পৃক্ত করতে পারে। বিপুল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ কর্মশক্তিতে পরিণত করে তাদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার ওপরই নির্ভর করছে ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ পাওয়ার বিষয়টি।
‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের কতগুলো বিষয় রয়েছে। এর অন্যতম প্রধান দিক হচ্ছে, নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর থেকে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বেশি থাকতে হবে। আমাদের দেশেও এখন কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বেশি। এর অন্যতম কারণ হলো আমাদের মৃত্যুহার কমেছে।
কোনো জনগোষ্ঠীতে যখন কর্মক্ষম জনসংখ্যার অনুপাত, নির্ভরশীল জনসংখ্যার চেয়ে বেশি থাকে তখন সেটাকে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বলা হয়ে থাকে। অর্থাৎ সেই জনগোষ্ঠীর নির্ভরশীল ব্যক্তির তুলনায় কর্মক্ষম ব্যক্তির সংখ্যা বেশি। সময়ের পরিক্রমায় প্রতিটি জনপদে পরিকল্পিত ও নিয়ন্ত্রিত জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনা বজায় থাকলে প্রতি ৮০ বছরে এমন একটা সময় আসে যখন সেই জনপদে কর্মক্ষম বয়সের জনগোষ্ঠীর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি হয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর বয়সের সীমা ১৫ থেকে ৬৪ পর্যন্ত।
আগে দেখা যেত ৩-৪-৫ জনের পরিবারে কর্মক্ষম ব্যক্তির সংখ্যা ১ জন। কিন্তু বর্তমানে কর্মক্ষম বয়সের ব্যক্তির অনুপাত বৃদ্ধির ফলে অনুপাত দাঁড়ায় ২:১ এ। অর্থাৎ ৩ জনের পরিবারে উপার্জনক্ষম ব্যক্তির সংখ্যা ২ আর নির্ভরশীল ব্যক্তির সংখ্যা ১। এমতাবস্থায় পরিবারের খরচের তুলনায় উপার্জন বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে সেই পরিবারের সঞ্চয় বাড়বে, নয়তো সেই পরিবারের জীবন মান উন্নয়নের মাধ্যমে শ্রেণি উন্নয়ন ঘটবে। এভাবে শ্রেণি উন্নয়নের ফলে নিম্নবিত্ত নিম্নমধ্যবিত্ত হয়, নিম্নমধ্যবিত্ত উচ্চ-মধ্যবিত্ত হয়, এবং উচ্চবিত্ত শ্রেণিতে প্রবেশ করে। দেশের ক্ষেত্রেও এটা প্রযোজ্য। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড সুবিধাপ্রাপ্ত দেশের একইভাবে সঞ্চয় বাড়বে এবং উন্নত দেশের কাতারে যুক্ত হবে যদি সঠিক ভাবে সুযোগ সুবিধাদি প্রণয়নের মাধ্যমে কর্মক্ষম জনসংখ্যার আধিক্যের এই সুযোগকে কাজে লাগানো যায়।
মূলত একটি দেশকে, জনসংখ্যাতাত্ত্বিক মুনাফায় প্রবেশের আগে থেকেই সম্ভাব্য অধিক কর্মক্ষম মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিতের লক্ষ্যে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হয়। অধিকাংশ রিপোর্ট থেকে দেখা যায়, বাংলাদেশ ২০০৭ সালে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডে প্রবেশ করেছে। আবার কিছু রিপোর্ট অনুসারে ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডে অবস্থান করছে। একটি দেশে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থান করে ৩০-৩৫ বছর। সে হিসাবে মোটামুটি ২০৪০ সাল পর্যন্ত আমরা এই সুবিধা পাব। কিন্তু বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডে প্রবেশ করার পর থেকে এ পর্যন্ত আমরা কি এ সুবিধাকে কাজ লাগাতে পেরেছি? অথবা যদি না পারি, তাহলে ভবিষ্যতে কি পারব? উত্তর হলো, রাষ্ট্র এ ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে আর ভবিষ্যতে পারব কি না, তা নির্ভর করছে সরকারের নীতিনির্ধারণ এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচিত সরকারের পলিসি ও কর্মকা-ের ওপর। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডকে কাজে লাগিয়েই জাপান, চীন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া আজ উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশের বিগত সরকার যদি এই সুবিধা কাজে লাগাতে পারত, তাহলে তরুণ প্রজন্ম কর্মসংস্থান কিংবা চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধি নিয়ে আন্দোলন করত না কিংবা ছাত্রদের কোটা মুক্তির আন্দোলন বা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন করতে হতো না। আসলে এ অবস্থা কেন সৃষ্টি হয়েছে তার কারণ কম-বেশি আমরা সবাই জানি। যে ভয়াবহ দুর্নীতি রাষ্ট্রকে উন্নয়নের নামে গ্রাস করেছে, লুটপাটের মাধ্যমে লাখ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে; যেখানে সব সিস্টেম দুর্নীতিবাজদের কারণে প্রায় অকেজো হয়ে পড়েছিল, সেখানে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড নিয়ে ভাবার মতো বিষয়টি ঈশপের গল্পের মতোই মনে হতে পারে।
যেখানে সিঙ্গাপুর, জাপান জনসংখ্যাতাত্ত্বিক মুনাফায় প্রবেশের সময় থেকে দক্ষ জনশক্তি তৈরির ওপর জোর দিয়ে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বাজেটের ৩৫-৪০ শতাংশ ব্যয় করে, সেখানে বাংলাদেশের গত ১০ বছরের বাজেটের দিকে তাকালে দেখা যায়, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ১৮-২০ শতাংশের আশপাশে ঘোরাফেরা করেছে। এই দুই খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকার কারণে কর্মক্ষম শিক্ষিত এবং দক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরি করা সম্ভব হয়নি। এই অদক্ষতার নেতিবাচকতা প্রবাসী জনগোষ্ঠীদের দিকে লক্ষ করলেই বোঝা যায়। একটি রিপোর্টে দেখা যায়, প্রায় ১ কোটি মানবসম্পদ রপ্তানি করে বছরে যেখানে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স আয় শুধু ১ হাজার ৬০৩ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার। সেখানে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত একই সংখ্যক মানবসম্পদ রপ্তানি করে আয় করছে ৭ হাজার ৯০০ কোটি মার্কিন ডলার।
অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের উপস্থিতিতে ৪টি দৃশ্যমান ফলাফল প্রকাশিত হবে। যথা এক. বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে শ্রম বিতরণ সিস্টেম উন্নত হবে; দুই. দেশে সামগ্রিক সঞ্চয় বৃদ্ধি পাবে; তিন. মানবপুঁজি শক্তিশালী হবে এবং চার. অভ্যন্তরীণ বাজার আরও সম্প্রসারিত হবে। কিন্তু এর প্রতিফলন বিগত সময়গুলোয় আমরা কতটুকু দেখেছি? এই প্রশ্নের উত্তর নিশ্চয়ই আপনিও খুঁজছেন?
তত্ত্ব ও তথ্যগত আলোচনার পর এবার বাস্তবতার আলোকে এবং ভবিষ্যতের নিরিখে কিছু বিষয় তুলে ধরছি।
ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কাজে লাগাতে হলে এ মুহূর্তে আমাদের হাতে সর্বোচ্চ সময় আছে ১৫ বছর। অর্থাৎ যে সময় আছে এর মধ্যেই পরিকল্পনা মাফিক দ্রুত এটা বাস্তবায়ন করতে হবে। আগেই বলেছি, ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কাজে লাগাতে হলে আমাদের সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের ওপর। এ দুটি খাতে সরকারকে সর্বোচ্চ বাজেট নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষাক্ষেত্রে সর্বপ্রথম গুরুত্ব দিতে হবে কর্মমুখী ও তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার ওপর। এ ক্ষেত্রে বিগত সরকারের আমলে ২০১২ সাল থেকে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধি, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার প্রভৃতি আন্দোলনগুলোর মাধ্যমে আমাদের কর্মসংস্থানের করুণ বাস্তবতা উঠে এলে বিগত সরকার কর্মমুখী ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে। কিন্তু অব্যাহত দুর্নীতির কারণে বিষয়গুলো সে অর্থে আলোর মুখ দেখেনি।
আমাদের দেশের বিভিন্ন কোম্পানির ম্যানেজেরিয়াল পোস্টের জন্য বিদেশ থেকে লোক আনতে হচ্ছে। এর মূল কারণ আমাদের দক্ষতার অভাব। অনেক শিক্ষিত মানুষ আছে; কিন্তু তারা দক্ষ নয়। তাই যদি পরিকল্পিত উপায়ে ভাগ ভাগ করে সেক্টরওয়াইজ চিন্তা করি, সেভাবে টেকনিক্যাল প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, তাহলে আমরা খুব দ্রুত এর সুফল পাব। এ ক্ষেত্রে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কাজে লাগাতে হলে দুই ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। একটি হলো বিদেশ, অন্যটি দেশে। আমাদের দেশের যেসব লোক বিদেশে যেতে চায়, তাদের জন্য দূতাবাসগুলো ভালো ভূমিকা রাখতে পারে। পৃথিবীর কোন দেশে কত লোক লাগবে, এটা তারা বের করতে পারে। আর সে আলোকে প্রশিক্ষণ দিয়ে যদি দক্ষ লোক পাঠানো যায়, তাহলে বেশি পরিমাণে অর্থ আমাদের দেশে আসবে; দেশ সমৃদ্ধ হবে। আর দেশের জন্য দক্ষ লোক তৈরির একটি মাস্টারপ্ল্যান প্রয়োজন। এজন্য প্রয়োজন শিক্ষাব্যবস্থারও আমূল পরিবর্তন।
স্বাধীনতার পর অর্থাৎ, ১৯৭২ সালে দেশের টোটাল ফার্টিলিটি রেট ছিল গড়ে ৬ দশমিক ৭ পয়েন্ট। অর্থাৎ প্রতিটি নারী তার সন্তান ধারণক্ষমতাকালে গড়ে ৭টি করে সন্তান জন্ম দিত। বর্তমানে তা গড়ে দুইয়ের নিচে চলে এসেছে। অর্থাৎ প্রতিটি নারী এখন গড়ে দুটি করে সন্তান জন্ম দিচ্ছে। এখন টোটাল ফার্টিলিটি রেইট ১ দশমিক ৯ পয়েন্ট। একটি শিশু জন্মগ্রহণ করলেই তো আর কর্মক্ষম হয় না। কর্মক্ষম হওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।
প্রসঙ্গত উল্লেখ করতে হয় বাংলাদেশের জনসংখ্যা কমানোর জন্য পরিবার পরিকল্পনা প্রয়োগ ছিল একটা বৈশ্বিক ষড়যন্ত্র। এ ষড়যন্ত্রের বীজ এখনই বন্ধ করতে হবে ইনশাআল্লাহ।
ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড সুবিধা কাজে লাগিয়ে উন্নয়ন অর্জনের ক্ষেত্রে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হচ্ছে জাপান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থার সৃষ্টি হয়। জাপান ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড সুবিধাকে পরিকল্পিতভাবে তাদের উন্নয়নের ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পেরেছে। একইভাবে চীন ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড সুবিধার সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারছে। যে কারণে চীন এখন বিশ্ব অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে চলে গেছে।
বাংলাদেশে, ২০০০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে, মোট শ্রমজীবী জনসংখ্যা এবং মোট শ্রমশক্তি বার্ষিক প্রায় দুই মিলিয়ন করে বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও, মোট কর্মসংস্থান বার্ষিক মাত্র ১.৫ মিলিয়ন বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক খাতে তুলনামূলকভাবে সীমিতসংখ্যক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ার কারণে বেশির ভাগ বৃদ্ধি অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে। বাংলাদেশের কর্মসংস্থান কাঠামো, নিম্ন-উৎপাদনশীলতা, কম মজুরি ও অনানুষ্ঠানিক খাত (মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৮০ শতাংশ শোষণ করে) এর প্রাধান্য থাকায় দারিদ্র্য হ্রাসে খুব বেশি অবদান রাখতে পারছে না।
ব্যক্তির আয়, পরিবারের আয় বৃদ্ধি আর জীবন মানের উন্নতি ঘটলেই হবে শ্রেণি উন্নয়ন। নিম্নবিত্তের উল্লম্ফন হবে মধ্যবিত্ত শ্রেণিতে আর মধ্যবিত্ত শ্রেণির উল্লম্ফন হবে উচ্চবিত্ত শ্রেণিতে। রাষ্ট্রের উন্নয়নের একমাত্র লক্ষ্যই হচ্ছে জনসাধারণের শ্রেণি উন্নয়নের পথ নিষ্কণ্টক করতে পারা।
সকল অর্থনৈতিক সূচক এটাই নির্দেশ করে যে উন্নত দেশ হবার মতো সকল নিয়ামক বর্তমানে বাংলাদেশে উপস্থিত, শুধুমাত্র দরকার এই নিয়ামকসমূহকে সঠিকভাবে পরিচালিত করতে পারা। অন্তত আগামী ১০ বছর এই ধারা ধরে রাখতে পারলে বাংলাদেশের অর্থনীতি হবে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি, যেখানে থাকবে প্রচুর কর্মসংস্থান থাকবে প্রচুর দক্ষ শ্রমিক আর শ্রেণি উন্নয়নের অপার সম্ভাবনা।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোপনীয় বাণিজ্য চুক্তি: জনগণের অজান্তে জিএমও খাদ্য অর্থাৎ বিষ ও রোগ জীবাণু ঢোকানোর ষড়যন্ত্র
১৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
“সর্বশক্তিমান আল্লাহ পাক উনার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস” ব্যক্ত করার সরকারকে অবিলম্বে কুরআন শরীফে হারাম ঘোষিত শুকরের গোশত আমদানীর বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করতে হবে ইনশাআল্লাহ।
১৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
দেশি আম বাজারে আসার আগেই শুরু হয়েছে কথিত কেমিক্যাল অপপ্রচার : দেশীয় ফলের বিরুদ্ধে বিদেশী দালাল চক্রের এই অপপ্রচার রুখতে হবে।
১২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
‘ইউনিসেফ’ এর ভয়ংকর তৎপরতা। বাংলাদেশের শিশু ও শিক্ষার্থীদের পশ্চিমা দাস বানানোর প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ইউনিসেফ। (১)
১২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
উচ্চ আদালতে ‘ডেড ল’ বা অকার্যকর ঘোষিত ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি ১৯০০’ পুণঃবহালের অপচেষ্ঠা চলছে। উচ্চ আদালত, সেনাবাহিনী এবং সরকারের উচিত দেশবিরোধী এই চক্রান্ত ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া। (৩)
১১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
৭১ এ তারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলো ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরোধীতার নামে। তবে তারা ২০২৬- এ আমেরিকার আধিপত্যবাদী বাণিজ্য চুক্তির বিরোধিতায় নামছে না কেন?
১১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মৃত আইন- “পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি-১৯০০”: অখ-তার পথে এক ঔপনিবেশিক কাঁটা
১০ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার বরকতে- দেশের বুকে স্থলে, নদীতে, পাহাড়ে, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে, বঙ্গোপসাগরে রয়েছে বিপুল পরিমাণ মহামূল্যবান ইউরেনিয়াম। বাংলাদেশের ইউরেনিয়াম অনেক বেশী গুণগত মান সম্পন্ন ভারতসহ দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রের কারণেই তা উত্তোলন হচ্ছে না। হিন্দুস্থান টাইমস ও কুখ্যাত প্রথম আলো তথা ভারত আমেরিকার কুচক্রীরা একযোগে ষড়যন্ত্র করছে। জনগণকে জনসচেতন হতে হবে ইনশাআল্লাহ। (৩য় পর্ব)
০৯ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
প্রধানমন্ত্রীকে সাবধান থাকতে হবে- তার মন্ত্রী বা উপদেষ্টাদের দ্বারা যেনো দেশের ভাবমর্যাদা নষ্ট না হয়! বি.এন.পি ক্ষমতায় আসলেই দেশ, সন্ত্রাসবাদের ঝুকিতে পড়ে এই ধরণের প্রচারণার জন্য তথ্য উপদেষ্টার, ‘দেশে সন্ত্রাসবাদ আছে’- এই মিথ্যা উক্তিই কী যথেষ্ট নয়?
০৯ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আত্মঘাতী ঋণের কঠিন শর্তের বেড়াজালে আটকে যাচ্ছে সরকার। দেশবাসী কেনো নির্বিকার?
০৮ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পূর্ব তিমুর কেনো মুসলমানদের হারানো ভূমি? পূর্ব তিমুরের ঘটনা কী শিক্ষা দেয়। উপজাতিরা কেনো খ্রীস্টান হয়? উপজাতিরা কেনো মুসলমান হয় না? কেনো কঠিন হয়রানির মুখোমুখি হয়। স্বাধীন জুমল্যান্ড তথা খ্রীস্টান রাজ্য বানানোর বিপরীতে ৯৮ ভাগ জনগোষ্ঠী মুসলমানকে গর্জে উঠতে হবে ইনশাআল্লাহ।
০৭ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ইউনুসের দেশদ্রোহীতার বয়ান : এক সাংবাদিকের জবানবন্দি (৩)
০৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












