মালিকুত তামাম, ক্বাসিমুন নিআম, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাতহ মুবারক উনার বরকত (২য় পর্ব)
, ২৭ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১০ খ্বমিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৯ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রি:, ২৪ আশ্বিন, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল হুদা মুবারক (মাথা মুবারক) হলক্ব করার পর হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের কারো হাত মুবারকে সেই হলক্বকৃত নূরুল ফাত্হ মুবারক দিয়ে আদেশ মুবারক করতেন সবার মাঝে বন্টন করে দেয়ার জন্য। সুবহানাল্লাহ!
যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ لَمَّا رَمٰى رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْجَمْرَةَ وَنَحَرَ نُسُكَه وَحَلَقَ نَاوَلَ الْحَالِقَ شِقَّهُ الأَيْمَنَ فَحَلَقَه ثُمَّ دَعَا حَضْرَتْ أَبَا طَلْحَةَ الأَنْصَارِىَّ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ فَأَعْطَاهُ إِيَّاهُ ثُمَّ نَاوَلَهُ الشِّقَّ الأَيْسَرَ فَقَالَ ্রاحْلِقْগ্ধ فَحَلَقَه فَأَعْطَاهُ حَضْرَتْ أَبَا طَلْحَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ فَقَالَ اقْسِمْهُ بَيْنَ النَّاسِ
অর্থ: “হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জামরায় কংকর নিংক্ষেপ করলেন। নিজের কুরবানীর পশু যবেহ করলেন। তারপর হলক্ব করার জন্য ক্ষৌরকারের দিকে নূরুল হুদা মুবারক উনার ডান দিক বাড়িয়ে দিলেন। ক্ষৌরকার উনার মহাসম্মানিত নূরুল হুদা মুবারক হলক্ব করলেন। অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত আবূ তালহা আল আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে ডেকে হলক্বকৃত মহাসম্মানিত নূরুল ফাত্হ মুবারক দিয়ে দিলেন। এরপর ক্ষৌরকারের দিকে মহাসম্মানিত নূরুল হুদা মুবারক উনার বামদিক বাড়িয়ে দিয়ে হলক্ব করতে বললেন। তিনি তা হলক্ব করলেন। এই অংশ মুবারকও তিনি হযরত আবূ তালহা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে দিলেন এবং বললেন, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মাঝে বন্টন করে দিন।” সুবহানাল্লাহ! (মুসলিম শরীফ : হাদীছ শরীফ নং ৩২১৫, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৫/১৩৪)
অপর বর্ণনায় রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَ الْحَلَّاقَ فَحَلَقَ رَأْسَه وَدَفَعَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلٰى حَضْرَتْ أَبِىْ طَلْحَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ الشِّقَّ الأَيْمَنَ ثُمَّ حَلَقَ الشِّقَّ الاٰخَرَ فَأَمَرَهُ أَنْ يَّقْسِمَه بَيْنَ النَّاسِ
অর্থ: “হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ক্ষৌরকারকে আদেশ মুবারক করলেন, উনার মহাসম্মানিত নূরুল হুদা মুবারক (মাথা মুবারক) হলক্ব করার জন্য। ক্ষুরকার উনার মহাসম্মানিত নূরুল হুদা মুবারক হলক্ব করলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার ডান দিকের নূরুল ফাত্হ মুবারক উনার অংশ মুবারক হযরত আবূ তালহা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে দিলেন। অতঃপর বাকী অংশের মহাসম্মানিত নূরুল ফাত্হ মুবারক হলক্ব করলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত আবূ তালহা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মাঝে মহাসম্মানিত নূরুল ফাত্হ মুবারক বন্টন করে দেয়ার জন্য আদেশ মুবারক করলেন।” সুবহানাল্লাহ! (মুস্তাখরাজে আবী আওয়ানাহ্ ৪/২১০)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক উনার বরকতে আরোগ্য লাভ:
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম এবং উনাদের পরবর্তীগণ রোগ থেকে মুক্তি লাভের জন্য নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত নূরুল ফাত্হ মুবারক পানিতে ভিজিয়ে সেই পানি মুবারক পান করতেন এবং উনার বরকতে আরোগ্য লাভ করতেন। সুবহানাল্লাহ!
যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَوْهَبٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ أَرْسَلَنِىْ أَهْلِىْ إِلٰى اُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ اَلسَّادِسَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ (حَضْرَتْ أُمِّ سَلَمَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ) بِقَدَحٍ مِنْ مَّاءٍ وَقَبَضَ إِسْرَائِيْلُ ثَلاَثَ أَصَابِعَ مِنْ فِضَّةٍ فِيْهِ شَعَرٌ مِنْ شَعَرِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَكَانَ إِذَا أَصَابَ الْإِنْسَانَ عَيْنٌ أَوْ شَيْءٌ بَعَثَ إِلَيْهَا مِخْضَبَه فَاطَّلَعْتُ فِي الْجُلْجُلِ فَرَأَيْتُ شَعَرَاتٍ حُمْرًا
অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাওহাব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে আমার পরিবারের লোকেরা এক পেয়ালা পানিসহ উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আস সাদিসাহ আলাইহাস সালাম (হযরত উম্মু সালামাহ বিনতে আবী উমাইয়্যাহ আলাইহাস সালাম) উনার নিকট পাঠালেন। (উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আস সাদিসাহ আলাইহাস সালাম উনার নিকট রক্ষিত) একটি পানির পাত্র থেকে (হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সম্মানিত আওলাদ) হযরত ইসরাঈল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার তিন আঙ্গুল দিয়ে কিছু পানি তুলে নিলেন। ঐ পাত্র মুবারকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কয়েকখানা নূরুল ফাত্হ মুবারক ছিলেন। কারো চোখ লাগলে কিংবা অন্য কেনো রোগ দেখা দিলে, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আস সাদিসাহ আলাইহাস সালাম উনার নিকট থেকে পানি আনার জন্য একটি পাত্র পাঠিয়ে দিতেন। (রাবী বলেন,) আমি (সেই পাত্র মুবারকে) লাল রংয়ের কয়েকখানা মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক দেখেছি।” সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ, হাদীছ শরীফ নং-৫৮৯৬)
-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত (৬১)
০৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (৭৭)
০৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
আল হাদিয়্যাতুল ইলাহিয়্যাহ ফী সীরাতি হাবীব ওয়া মাহবূবিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (৫৫)
০৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
০৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত (৬০)
০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (৭৬)
০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
আল হাদিয়্যাতুল ইলাহিয়্যাহ ফী সীরাতি হাবীব ওয়া মাহবূবিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (৫৪)
০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (৭৫)
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আল হাদিয়্যাতুল ইলাহিয়্যাহ ফী সীরাতি হাবীব ওয়া মাহবূবিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (৫৩)
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত (৫৯)
০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (৭৪)
০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












