মালিকুত তামাম, ক্বাসিমুন নিআম, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাতহ মুবারক উনার বরকত (৩য় পর্ব)
, ০৩ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১৬ খ্বমিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রি:, ৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
অপর বর্ণনায় রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ عُثْمَانَ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ أَرْسَلَنِىْ اَهْلِىْ اِلٰى اُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ اَلسَّادِسَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ (حَضْرَتْ اُمِّ سَلَمَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ) بِقَدَحٍ مِنْ مَّاءٍ وَكَانَ إِذَا أَصَابَ الْإِنْسَانَ عَيْنٌ أَوْ شَيْءٌ بَعَثَ إِلَيْهَا مِخْضَبَه فَاَخْرَجَتْ مِنْ شَعْرِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَكَانَتْ تُمْسِكُه فِىْ جُلْجُلٍ مِنْ فِضَّةٍ فَخَضْخَضَتْهُ لَه فَشَرِبَ مِنْهُ قَالَ فَاطَّلَعْتُ فِى الْجُلْجُلِ فَرَأَيْتُ شَعَرَاتٍ حَمْرَاءَ
অর্থ: “হযরত উসমান ইবনে আবদুল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে আমার পরিবারের লোকেরা এক পেয়ালা পানিসহ উম্মুল মু’মিনীন হযরত আস সাদিসাহ আলাইহাস সালাম (হযরত উম্মু সালামাহ বিনতে আবী উমাইয়্যাহ আলাইহাস সালাম) উনার নিকট পাঠালেন। আর তখন এটা নিয়ম ছিলো যে, যখনই কারো চোখ লাগতো কিংবা কেউ অন্য কোনো রোগে আক্রান্ত হতো, তখন একটি পাত্রে পানি ঢেলে তা উম্মুল মু’মিনীন আস সাদিসাহ আলাইহাস সালাম উনার কাছে পাঠানো হতো। (কেননা উনার কাছে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কয়েকখানা মহাসম্মানিত নূরুল ফাতহ মুবারক ছিলেন।)
فَاَخْرَجَتْ مِنْ شَعْرِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَكَانَتْ تُمْسِكُه فِىْ جُلْجُلٍ مِنْ فِضَّةٍ فَخَضْخَضَتْهُ لَه فَشَرِبَ مِنْهُ
‘অতঃপর তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত নূরুল ফাত্হ মুবারক বের করতেন, যা তিনি রূপার নলের মধ্যে সংরক্ষণ করে রাখতেন এবং পানির মধ্যে ডুবিয়ে নাড়া দিতেন। তারপর ঐ পানি রোগী পান করতো। (যার বরকতে রোগী সুস্থ হয়ে উঠতো।)” সুবহানাল্লাহ! (মিশকাত শরীফ, মিরক্বাতুল মাফাতীহ ৭/২৮৮৮, জামউল ফাওয়াইদ ২/৪২২ ইত্যাদি)
হযরত ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ছেলে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-
رَاَيْتُ اَبِىْ يَاْخُذُ شَعْرَةً مِنْ شَعْرِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَضَعُهَا عَلٰى فِيْهِ يُقبِّلُهَا وَاَحْسِبُ اَنِّىْ رَاَيْتُه يَضَعُهَا عَلٰى عَيْنِهِ وَيَغْمِسُهَا فِى الْمَاءِ وَيَشْرَبُه يَسْتَشْفِىْ بِهِ
অর্থ: “আমি আমার পিতা উনাকে দেখেছি, তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত নূরুল ফাত্হ মুবারক নিয়ে উনার মুখে রেখে বুছা দিচ্ছেন। এছাড়াও তিনি নূরুল ফাত্হ মুবারক উনার চোখ মুবারকে রাখতেন এবং রোগমুক্তির জন্য মহাসম্মানিত নূরুল ফাত্হ মুবারক পানিতে ডুবিয়ে সেই পানি মুবারক পান করতেন।” সুবহানাল্লাহ! (সিয়ারু আ’লামিন নুবালা ২১/২৫৩)
হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বিজয় লাভের রহস্য:
হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বিজয়ের কথা কারোই অজানা নয়। প্রত্যেক জিহাদেই তিনি বিজয় লাভ করতেন। কিন্তু এই বিজয় লাভের মূল কারণ কী? এ বিষয়ে পবিত্র হাদীছ শরীফ ও তারীখের কিতাবে বিভিন্ন ওয়াকেয়া বর্ণিত রয়েছে। যা থেকে বুঝা যায় উনার বিজয় লাভের মূল কারণ ছিলো নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত নূরুল ফাত্হ মুবারক উনার বরকত। সুবহানাল্লাহ!
কিতাবে বর্ণিত রয়েছে- ইয়ারমুক জিহাদের দিন হযরত খালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বীরের বেশে কাফির সৈন্যদের দিকে অগ্রসর হলেন। অপর পক্ষে নাসতূর নামক কাফিরদের এক শক্তিশালী যোদ্ধা বের হলো। উভয়ের মধ্যে অনেকক্ষণ ধরে যুদ্ধ চলতে থাকলো। হঠাৎ হযরত খালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার ঘোড়া হোঁচট খেয়ে পড়ে গেলো। হযরত খালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ঘোড়ার মাথায় এসে পড়লেন এবং উনার টুপি মুবারক মাটিতে পড়ে গেলো। সুযোগ পেয়ে কাফির নাসতূর উনার পিছনে চলে আসলো। কিন্তু হযরত খালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বার বার চিৎকার করে উনার সাথীদের বলছিলেন, আমার টুপি মুবারক আমাকে দিন, আপনাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক তিনি রহমত মুবারক করুন। উনার গোত্র বনী মাখযূমের এক ব্যক্তি দৌড়ে এসে উনার হাতে টুপি মুবারক তুলে দিলেন। তিনি সাথে সাথে টুপি মুবারক মাথায় দিয়ে নাসতুরের সাথে পূনরায় যুদ্ধ শুরু করলেন। অবশেষে সেই কাফির নাসতূরাকে তিনি জাহান্নামে পাঠিয়ে দিলেন। এ ঘটনার পর উনাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, আপনি এটা কী করলেন, শত্রুতো আপনার পিঠের উপর এসে পড়েছিলো। কিন্তু আপনি টুপি মুবারক উনার চিন্তায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন এর কারণ কী?
সাইফুল্লাহিল মাসলূল, হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, ঐ টুপি মুবারকে যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত নূরুল ফাত্হ মুবারক (চুল মুবারক) রয়েছেন। যার বরকতে প্রত্যেক জিহাদে মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে বিজয় দান করেন। এজন্যই আমি ঐ টুপি মুবারক উনার সন্ধানে ব্যাকুল হয়ে পড়েছিলাম। মহান আল্লাহ পাক তিনি না করুন মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক উনার বরকত আমার কাছ থেকে চলে যেয়ে কোনো মুশরিকের হাতে যেয়ে পড়ে।’
-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (৮২)
১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা সৃষ্টির কারো মতো নন (২)
১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
আল হাদিয়্যাতুল ইলাহিয়্যাহ ফী সীরাতি হাবীব ওয়া মাহবূবিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (৬০)
১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (৮১)
১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা সৃষ্টির কারো মতো নন (১)
১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আল হাদিয়্যাতুল ইলাহিয়্যাহ ফী সীরাতি হাবীব ওয়া মাহবূবিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (৫৯)
১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি পশু-পাখিদের মহব্বত ও সম্মান প্রদর্শনের কিছু নমুনা (৫)
১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (৮০)
১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
আল হাদিয়্যাতুল ইলাহিয়্যাহ ফী সীরাতি হাবীব ওয়া মাহবূবিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (৫৮)
১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












