মাটির হনন ও খাদ্য-সার্বভৌমত্বের সংকট: বিষচক্র থেকে ফেরার ডাক
, ২৯ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১২ খ্বমিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ১১ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রি:, ২৬ আশ্বিন, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) আপনাদের মতামত
আজ থেকে তিন দশক আগেও বাংলাদেশের রূপ ছিলো ভিন্ন। গ্রাম শুধু মানুষের থাকার জায়গা ছিলো না; তা ছিলো জীববৈচিত্রের এক পরম আশ্রয়স্থল। প্রাকৃতিক নিয়মেই এক জমিতে বছরে পাঁচ রকমের ফসল ফলাতো কৃষক-তিল, কাউন, আউশ, আমন ও নানা পদের ডাল। জমিতে চাষ দেওয়া হতো কম, ফলে মাটির কার্বন ও আর্দ্রতা রক্ষা পেতো। তিল মাটির এসিড-ক্ষার (ঢ়ঐ) সামলাতো, আর ডালজাতীয় ফসল বাতাস থেকে নাইট্রোজেন টেনে মাটির উর্বরতা বাড়াতো। রাসায়নিক সার বা কীটনাশকের কোনো প্রয়োজনই হতো না। সেই মাটি ও ফসল ছিলো পুষ্টিতে ভরপুর। আমাদের কালামানিক বা পরাঙ্গির মতো ঐতিহ্যবাহী দেশি ধানে ছিলো প্রচুর জিংক ও আয়রন। কেবল মানুষের জন্য নয়, এই পুষ্টি ছড়িয়ে পড়তো পাখিসহ প্রকৃতির প্রতিটি প্রাণের মাঝে।
কিন্তু ইসলামবিদ্বেষী চক্রান্তের ফলে সেই হাজার বছরের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যকে ছুড়ে ফেলেছে মুনাফিকরা। তথাকথিত উচ্চফলনশীল ও হাইব্রিড বীজের মোহে পড়ে আমরা হারিয়েছি স্বাবলম্বিতা। যে বীজ একসময় কৃষকের নিজের হাতে সংরক্ষিত থাকতো, আজ তা বহুজাতিক কোম্পানির বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত হয়েছে। আর এই বীজের পেছনেই ঢুকে পড়েছে সার ও বিষের দানবীয় প্যাকেজ।
পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি বছর বাংলাদেশে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ টন রাসায়নিক সার এবং প্রায় ৪০ হাজার টন তীব্র কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। হিসাব করলে দেখা যায়, এ দেশে জন্ম নেওয়া প্রতিটি শিশুর ভাগেই এক বছরে নির্ধারিত হয়ে যাচ্ছে প্রায় ৫০০ গ্রাম বিষ!
এই মাত্রাতিরিক্ত বিষ আর সারের কারণে আজ মাটির অণুজীব, কেঁচো ও উপকারী ছত্রাক ধ্বংস হয়ে গেছে। ফলে মাটি তার প্রাকৃতিক উর্বরতা ও মাইক্রোনিউট্রিশন হারিয়ে এসিডিক হয়ে পড়েছে। মাটি থেকে অণুপুষ্টি হাওয়া হয়ে যাওয়ায় আমাদের জাতীয় স্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে। খাবার খেয়েও আমাদের শরীরে মিলছে না প্রয়োজনীয় জিংক ও আয়রন। কৃত্রিমভাবে আমাদের খেতে হচ্ছে জিংক ও ক্যালসিয়ামের ট্যাবলেট। তারচেয়েও ভয়ানক বিষয় হলো, যে কৃষক মাঠে বিষ ছড়াচ্ছেন, তিনি নিজেই আজ এর প্রথম শিকার। এক সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, দেশে ক্যান্সার আক্রান্তদের ৬৪ শতাংশই আমাদের কৃষক সমাজ! বিষ বিক্রি থেকে শুরু করে ওষুধ ও হাসপাতাল-সবকিছুই আজ নির্দিষ্ট কিছু করপোরেট প্যাকেজের অংশ।
আমরা যখন গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে তাকাই, তখন দেখা যায় আধুনিক গবেষণার নামে দেশি শস্য ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিগুলোকে ‘অনুৎপাদনশীল’ (ঁহঢ়ৎড়ফঁপঃরাব) বা ‘অলাভজনক’ বলে তকমা দেওয়া হচ্ছে। কারণ একটাই-প্রাকৃতিক উপায়ে চাষ করলে কৃষককে সার, বীজ বা বিষ কিনতে হয় না, ফলে কোম্পানিগুলোর লুটের রাজত্ব বন্ধ হয়ে যায়। মাটি, পরিবেশ ও মানুষের যে ক্ষতি হচ্ছে, তার কোনো আর্থিক হিসাব এই বাণিজ্যিক কৃষিব্যবস্থা আমাদের সামনে আনে না।
এখনই যদি আমরা এই কৃত্রিম ও বিষাক্ত চক্র থেকে বেরিয়ে না আসি, তবে আমাদের আগামী প্রজন্ম এক পুষ্টিহীন ও ব্যাধিগ্রস্ত জাতিতে পরিণত হবে। সমাধান একটাই-মাটির প্রাণ ফিরিয়ে আনা এবং ঐতিহ্যবাহী দেশি বীজ ও প্রাকৃতিক সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থায় প্রত্যাবর্তন। মাটির প্রাণ বাঁচলে বাঁচবে কৃষক, আর কৃষক বাঁচলে তবেই নিশ্চিত হবে আমাদের অন্ন ও সার্বিক অস্তিত্ব।
-মুহম্মদ মুশফিকুর রহমান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
জাহান্নাম সম্পর্কে সবারই চিন্তা-ফিকির করা উচিত
০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
অন্যান্য দেশে উড়াল সেতু ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে; আর বাংলাদেশ সরকার ফ্লাইওভার তৈরি করছে
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
উশর কি? পবিত্র দ্বীন ইসলামে উনার গুরুত্ব
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বিজ্ঞাপন
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
শিক্ষানীতির পরিবর্তন ছাড়া মুসলমানদের অধিকার কখনোই প্রতিষ্ঠিত হবে না
২৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হে উন্মাদের দলেরা! খেলাচ্ছ্বলে তোমরা কাদেরকে সমর্থন দিচ্ছো ও মহব্বত করছো দেখে নাও; তোমাদের হাশর নশর কাদের সাথে হতে যাচ্ছে তাও বুঝে নাও!
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বাংলাদেশ সরকারের আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২৪’- এ গরু-ছাগল-মহিষের গোশত আমদানি নিষিদ্ধ। প্রাণী সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সচিব জানে না, অধিদপ্তরের ট্রেড পরিচালক জানে না- অথচ ভারত সরকারী-বেসরকারীভাবে জানে- ভারতের পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়-
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুনশী মুহম্মদ মেহেরুল্লাহ সাহেব উনার ঈমানী লড়াই এবং আজকের প্রেক্ষাপট
২৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বাংলাদেশের ৫০ লক্ষ পদাতিক বাহিনীর জন্য ৩য় প্রজন্মের এটিজিএম রোডম্যাপ (পর্ব ৮)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
১০০০ নতুন সেনাক্যাম্প স্থাপনের কৌশলগত অপরিহার্যতা (২)
২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (১২)
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
একবিংশ শতাব্দীর কৌশলগত প্রতিরক্ষা রূপরেখা (২)
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












