সুন্নত মুবারক তা’লীম
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক পালনের ক্ষেত্রে আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার বেমেছাল দৃঢ়তা মুবারক (২)
, ০৭ ছফর শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৩ ছালিছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ০২ আগস্ট, ২০২৫ খ্রি:, ১৯ শ্রাবণ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
ইহুদীরা পবিত্র তাওরাত শরীফ কিতাবের বর্ণনার সাথে সবকিছু মিলাচ্ছিল। যখন দেখলো পবিত্র তাওরাত শরীফ কিতাবের বর্ণনার সাথে সব মিলে গিয়েছে তখন তারা উনার নিকট পবিত্র বাইতুল মুক্বাদ্দাস শরীফ উনার চাবি হস্তান্তর করলো।
চাবি হস্তান্তরের পর ইহুদীরা আরজু করলো, হে আমীরুল মু’মিনীন আলাইহিস সালাম! আপনি এতো দূর থেকে এসেছেন; আপনার সম্মানার্থে আমরা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার নিয়মেই কিছু মেহমানদারীর ব্যবস্থা করতে চাই, যদি আপনি সম্মতি মুবারক প্রকাশ করেন।
সম্মতি মুবারক পেয়ে ইহুদীরা মেহমানদারীর ব্যবস্থা করলো। আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি সকলকে নিয়ে যথাসময়ে সেখানে উপস্থিত হলেন। উনার সম্মুখে চামড়ার সুন্নতী দস্তরখানা বিছিয়ে দেয়া হলো এবং তাতে রুটি ও একটি পাত্রে গোশত দেয়া হলো। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি দস্তরখানা থেকে রুটি নিয়ে গোশত দিয়ে খাবার খেলেন। খাওয়া শেষে দস্তরখানায় পড়ে থাকা রুটির টুকরোগুলো টুকিয়ে টুকিয়ে খাচ্ছিলেন।
এটা দেখে জনৈক ব্যক্তি বললেন, হে আমীরুল মু’মিনীন! এখানে অনেক রাজা-বাদশা, আমীর-উমরা উপস্থিত, আপনি যদি তাদের সম্মুখে এরূপভাবে রুটির টুকরা টুকে টুকে খান, তবে কেমন দেখা যায়? জবাবে আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি জালালী তবীয়তে বলেন-
اَأَتْرُكُ سُنَّةَ حَبِيْبِيْ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِأَجْلِ هٰذِهِ الْحُمَقَاءِ .
অর্থ: আমি কি এ সকল আহমকদের জন্য আমার মহাসম্মানিত রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক পরিহার করবো? সুবহানাল্লাহ!
অর্থাৎ দস্তরখানায় খাদ্য খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক এবং খাওয়ার পর দস্তরখানা বা প্লেট পরিষ্কার করে খাওয়া “সুন্নতে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। ” আমীরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি সর্বাবস্থায় সবকিছুর উপর মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনাকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি আমাদেরকে শিক্ষা দিলেন সর্বাবস্থায় মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনাকে প্রাধান্য দিতে হবে। খাদ্য খাওয়ার সময় দস্তরখানা ব্যবহার করতে হবে এবং দস্তরখানার খাবার পড়ে গেলে তা উঠিয়ে খেতে হবে; এটাই মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক। এই মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক পালন করতে কোন লজ্জাবোধ করা যাবে না। বর্তমান সময়ে অনেকেই নিজের দুনিয়াবী শান-শওক্বত, বরত্ব প্রকাশের জন্য দস্তরখানায় নয়; বরং তারা ডাইনিং টেবিলে বেজাতীদের সাথে মিল রেখে আহার করতে পছন্দ করে। নাউযুবিল্লাহ!
অথচ, সমস্ত শান-শওক্বত, বরত-মহত্ব¡, ইজ্জত-সম্মানের মালিক হচ্ছেন স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার মহাসম্মানিত হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারাই। আর উনাদেরকে যারা ইত্তেবা করবে, আমলগুলো মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীবে করবে অর্থাৎ মু’মিনগণ উনারাও সেই ইজ্জত-সম্মান, শান-শওক্বতের অধিকারী হবেন।
এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কাল্লামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন-
وَلِلّٰهِ الۡعِزَّةُ وَلِرَسُوۡلِهٖ وَلِلۡمُؤۡمِنِيۡنَ وَلٰـكِنَّ الۡمُنٰفِقِيۡنَ لَا يَعۡلَمُوۡنَ.
অর্থ: সমস্ত ইজ্জত-সম্মান ও মর্যাদা মুবারক উনার অধিকারী মহান আল্লাহ পাক তিনি ও উনার মহাসম্মানিত হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং মু’মিন বান্দাগণ; কিন্তু মুনাফিকরা তা জানে না। (পবিত্র সূরা মুনাফিকূন শরীফ; পবিত্র আয়াত শরীফ নং: ৮)
কাজেই, মুসলমানদের জন্য দস্তরখানায় খাদ্য খাওয়ার ক্ষেত্রে এবং যাবতী মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার ইত্তেবা করার ক্ষেত্রে কোন অবস্থাতেই হিনমন্যতায়ভোগা যাবেনা; বরং মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার আমল করতে পারাটাই হচ্ছে শান-শওক্বত ও গর্বের বিষয়।
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে সম্মানিত ই’তিকাফ করা খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র যাকাত-ফিতরা, উশর আদায়ের হুকুম আহকাম ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুবারক (১)
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইফতার ও সাহরীতে খেজুর খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কালোজিরা (হাব্বাতুস সাওদা) - ১
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কাফির-মুশরিকদের পণ্য পরিত্যাগ করে মহাসম্মানিত সুন্নতী পণ্য ব্যবহার করতে হবে
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচারকেন্দ্রের সাথে সংযুক্ত-সম্পৃক্ত থাকা সকলের জন্য আবশ্যক
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
রোযাদারদের জন্য প্রতিদিন সাহরী খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত সন্তুষ্টি মুবারক সকল নেয়ামতের মূল
২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
রোযাদারদের জন্য প্রতিদিন সাহরী খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত আদায় করাই খাছ সুন্নত মুবারক, এর কম আদায় করা চরম গোমরাহী (৩)
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত আদায় করাই খাছ সুন্নত মুবারক, এর কম আদায় করা চরম গোমরাহী (২)
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












