কিয়ামত পর্যন্ত মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক উনার কোন পরিবর্তন-পরিবর্ধন হবে না
, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
فَـلَنْ تَـجِدَ لِسُنَّتِ اللهِ تَـبْدِيْلًا ۖ وَلَنْ تَـجِدَ لِسُنَّتِ اللهِ تَحْوِيلًا
অর্থ: “আপনি মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক বা হুকুম মুবারক উনার কখনও পরিবর্তন পাবেন না এবং মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক বা হুকুম মুবারকে কোন রকম বিচ্যুতিও পাবেন না।” (পবিত্র সূরা ফাতির শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৪৩)
অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনারও কোন পরিবর্তন, কোন রকম বিচ্যুতি পাওয়া যাবে না। কারণ তিনি পবিত্র ওহী মুবারক বা মহান আল্লাহ পাক উনার আদেশ মুবারক ছাড়া কোন কথা মুবারক বলেন না, কোন কাজ মুবারক করেন না এবং কোন সম্মতি মুবারকও দেন না। সুবহানাল্লাহ!
এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَمَا يَـنْطِقُ عَنِ الْـهَوٰى. اِنْ هُوَ اِلَّا وَحْيٌ يُـوْحٰى
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র ওহী মুবারক ব্যতীত কোন কথা মুবারক বলেন না, কোন কাজ মুবারক করেন না এবং কোন সম্মতি মুবারক দেন না।” (পবিত্র সূরা নজম শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৩-৪)
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অনুসরণের ক্ষেত্রেও কোন পরিবর্তন-পরিবর্ধন করা যাবে না। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ قَالَ جَاءَ ثَلَاثَةُ رَهْطٍ اِلَى ازْوَاجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْأَلُوْنَ عَنْ عِبَادَةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَـلَمَّا اُخْبِرُوْا بِـهَا كَأَنَّـهُمْ تَـقَالُّوْهَا فَـقَالُوْا وَاَيْنَ نَـحْنُ مِنَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ غُفِرَ لَهُ مَا تَـقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَا تَأَخَّرَ؟ فَـقَالَ اَحَدُهُمْ اَمَّا اَنَا فَاِنّـِيْ اُصَلِّىْ اللَّيْلَ اَبَدًا وَقَالَ اٰخَرُ اَنَا اَصُوْمُ الدَّهْرَ وَلَا اُفْطِرُ وَقَالَ اٰخَرُ اَنَا اَعْتَزِلُ النِّسَاءَ فَلَا اَتَـزَوَّجُ اَبَدًا فَجَاءَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَـقَالَ اَنْـتُمُ الَّذِيْنَ قُـلْتُمْ كَذَا وَكَذَا؟ اَمَا وَاللهِ اِنِّـيْ لَاَخْشَاكُمْ لِلّٰهِ وَاَتْـقَاكُمْ لَهُ لَكِنِّي اَصُوْمُ وَاُفْطِرُ وَاُصَلِّيْ وَاَرْقُدُ وَاَتَـزَوَّجُ النِّسَاءَ فَمَنْ رَغِبَ عَنْ سُنَّتِيْ فَـلَيْسَ مِنِّيْ
অর্থ: “হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত খিদমত মুবারকে একদিন তিনজন হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা আসলেন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ইবাদত মুবারক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন।
উনাদেরকে যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আমল-ইবাদত মুবারক সম্পর্কে সংবাদ দেয়া হলো, তখন উনারা বললেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অল্প আমল করলেও চলবে (অর্থাৎ তিনি কোন আমলের মুহতাজ নন) উনার তুলনায় আমরা কোথায়? মহান আল্লাহ পাক তিনি, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পূর্বের ও পরের সমস্ত গুনাহ খাতা ক্ষমা করে দিয়েছেন। অর্থাৎ উনার তো কোন গুনাহ-খাতা নেই। তিনি মা’ছুম-নিষ্পাপ, তিনি পুত-পবিত্র, পবিত্রতা দানকারী। অতএব, আমাদের অনেক আমল করতে হবে। সে লক্ষ্যে অতঃপর উনাদের মধ্যে একজন বললেন, আমি সারা রাত্র নামায পড়ব একটুও ঘুমাব না। আরেকজন বললেন, আমি সারা বছর রোযা রাখবো একদিনও ভাঙ্গব না। আরেকজন ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, আমি আহলিয়া থেকে দূরে থাকবো এবং কখনো বিয়ে শাদী করবো না।
এমন সময় সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাদের নিকট মহাসম্মানিত তাশরীফ মুবারক নিলেন এবং ইরশাদ মুবারক করেন, ‘হে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম! আপনারাই কি এরূপ কথা বলেছেন যে, সারারাত্র নামায পড়বেন, সারা জীবন রোযা রাখবেন এবং বিবাহ করবেন না।’ তখন উনারা বললেন, হ্যাঁ আমরা এগুলো বলেছি।
তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, সাবধান! মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! আমি আপনাদের চেয়ে মহান আল্লাহ পাক উনাকে বেশী ভয় করি এবং আপনাদের চেয়ে আমি বেশী মুত্তাকী পরহেযগার। তথাপি আমি রাত্রে নামায পড়ি, আবার ঘুমাই, রোযা রাখি ও ভঙ্গ করি এবং আমি মহাসম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ সম্পন্ন করেছি। এটাই আমার মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক। সুতরাং যে আমার মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক হতে ফিরে যাবে সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়।” (বায়হাক্বী শরীফ)
সুতরাং মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার কোন পরিবর্তন-পরিবর্ধন করা যাবে না। নিজের মনগড়া কোন আমল করা যাবে না; হুবহু মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অনুসরণ করতে হবে। নইলে উম্মত থেকে খারিজ হয়ে যাবে।
মহান আল্লাহ পাক তিনি সকলকে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার পরিপূর্ণ ইত্তেবা করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (১)
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (৯)
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কিছ্ছা
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ফলমূল খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক পালন করা ফরয
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ফলমূল খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার পরিচয় ও প্রকারভেদ (২)
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার পরিচয় ও প্রকারভেদ (১)
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
কোনো ব্যক্তির উপর সূর্য উদিত হয়নি, যে ব্যক্তি সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার থেকে উত্তম
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পুরুষের জন্য দাড়ি ও গোঁফ রাখার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নতী তারতীব মুবারক
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
“পেট পূর্ণ করে নয়, বরং পেটের এক-তৃতীয়াংশ আহার করাই মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক।”
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পানি পান করার সময় তিন ঢোকে পান করা ও পাত্রে নিঃশ্বাস না ফেলা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক
১১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












