মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক পালন করাই কামিয়াবীর একমাত্র উছীলা মুবারক
, ২০ মুহররমুল হারাম শরীফ, ১৪৪৪ হিজরী সন, ০৯ ছালিছ, ১৩৯১ শামসী সন , ০৮ আগস্ট, ২০২৩ খ্রি:, ২৪ শ্রাবণ, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
قُلْ اِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّوْنَ اللهَ فَاتَّبِعُوْنِيْ يُحْبِبْكُمُ اللهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوْبَكُمْ وَاللهُ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ.
অর্থ: আয় আমার মহাসম্মানিত হাবীব ও মাহবূব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলে দিন, যদি তোমরা যিনি খ্বালিক্ব, মালিক, রব, মহান আল্লাহ পাক উনাকে মুহব্বত মুবারক করে থাকো, তাহলে তোমরা আমার অনুসরণ মুবারক করো। তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে মুহব্বত মুবারক করবেন এবং তোমদের গুনাহখতা ক্ষমা করে দিবেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি ক্ষমাশীল ও অসীম দয়ালু। সুবহানাল্লাহ! (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ: মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আয়াত শরীফ নং ২১)
সুতরাং যারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণ করবে তারা মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত মুবারক লাভ করবে এবং ক্ষমাপ্রাপ্ত হবে। এছাড়াও আরো অসংখ্য নিয়ামত মুবারক লাভে ধন্য হবে। যেমন মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَاِنْ تُطِيْعُوْهُ تَهْتَدُوْا
অর্থ: আর যদি তোমরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণ মুবারক করো, তাহলেই তোমরা সম্মানিত হিদায়েত মুবারক লাভ করবে। সুবহানাল্লাহ! (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সূরা নূর শরীফ: মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আয়াত নং:-৪৫)
তাহলে আমরা বুঝতে পারলাম যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণ বা ইত্তেবা মুবারক করলেই হাক্বীক্বী হিদায়েত মুবারক লাভ করা যাবে। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক উনার অনেক ফযীলত মুবারক রয়েছে। এ প্রসঙ্গে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَنَسٍ رَضِىَ الله تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ اَحَبَّ سُنَّتِىْ فَقَدْ اَحَبَّنِىْ وَمَنْ اَحَبَّنِىْ كَانَ مَعِىَ فِى الْجَنَّةِ.(رواه الترمذى)
অর্থ: হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার মহসম্মানিত রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি আমার মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনাকে মুহব্বত মুবারক করল সে অবশ্যই আমাকে মুহব্বত মুবারক করল আর যে আমাকে মুহব্বত করল সে আমার সাথে জান্নাতে প্রবেশ করবে। সুবহানাল্লাহ! (তিরমিযী শরীফ)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَبِىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ تَمَسَّكَ بِسُنَّتِىْ عِنْدَ فَسَادِ أُمَّتِىْ فَلَهٗ أَجْرُ مِائَةِ شَهِيْدٍ.(رواه بيهقى)
অর্থ: হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি আমার উম্মতের ফিতনা-ফাসাদের যামানায় একটি মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক আঁকড়ে ধরবে, তার জন্য রয়েছে একশত শহীদ উনার ছওয়াব। সুবহানাল্লাহ! (বাইহাক্বী শরীফ)
উল্লেখিত ফযীলত মুবারক গুলো লাভ করতে হলে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার ইত্তেবা বা অনুসরণ মুবারক করতে হবে। মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অনুসরণ বলতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদর্শ মুবারক উনার অনুসরণ-অনুকরণ করাকেই বুঝানো হয়েছে। নিজস্ব কোনো মতাদর্শকে বুঝানো হয়নি। আর এর দ্বারা কোনো ফযীলতও লাভ করা যাবেনা।
অতএব আমরা বুঝতে পারলাম যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণ বা ইত্তেবা মুবারক অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক উনার অনুসরণ বা ইত্তেবা মুবারক করলেই ইহকাল ও পরকালে কামিয়াবি হাছিল করা যাবে। সুবহানাল্লাহ!
কাজেই যিনি খ্বালিক্ব, মালিক, রব, মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন আমাদেরকে সর্বাবস্থায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক পালন করার তাওফীক্ব দান করেন। (আমীন)
-মুহম্মদ আবরার হুসাইন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মুছাফাহা করা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক। যা গুনাহ মাফের মাধ্যম
৩১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
খেজুর ও তরমুজ একত্রে খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক
৩০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাসে ৬টি রোযা রাখা খাছ সুন্নত মুবারক এবং বেমেছাল ফযীলত মুবারক লাভের মাধ্যম (৪)
২৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাসে ৬টি রোযা রাখা খাছ সুন্নত মুবারক এবং বেমেছাল ফযীলত মুবারক লাভের মাধ্যম (৩)
২৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাসে ৬টি রোযা রাখা খাছ সুন্নত মুবারক এবং বেমেছাল ফযীলত মুবারক লাভের মাধ্যম (২)
২৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাসে ৬টি রোযা রাখা খাছ সুন্নত মুবারক এবং বেমেছাল ফযীলত মুবারক লাভের মাধ্যম (১)
২৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র ঈদুল ফিতর সংক্রান্ত মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল সমূহ (২)
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র ঈদুল ফিতর সংক্রান্ত মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল (১)
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র শবে ক্বদর শরীফ পালন করার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৫)
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (৩)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












