সম্পাদকীয়-১
ভারত সীমান্তে ১৫ বছরে নিহত স্বীকৃত হিসেবে ছয় শতাধিক বাংলাদেশি। প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশী। জ্বলন্ত প্রশ্ন হলো- বাংলাদেশিদের জীবনের কি কোনো মূল্য নেই? বিজিবির আত্মরক্ষার কি কোনো অধিকার নেই? বিজিবি কি দর্শকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে সীমান্ত পাহারা দিবে?
, ১৬ জুমাদাল ঊখরা শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৯ সাবি’, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ২৩ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) সম্পাদকীয়
সব প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সকল সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক।
সীমান্ত হত্যা থামছেই না। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বারবার কথা দিলেও তারা কথা রাখছে না। নিয়মিতই তাদের বন্দুকের গুলির শিকার হচ্ছে বাংলাদেশিরা। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত সীমান্তে অন্তত ২৮ জন বাংলাদেশি হত্যার শিকার হয়েছে।
আর গত ১৫ বছরে ছয় শতাধিক বাংলাদেশিকে হত্যা করেছে বিএসএফ। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, জবাবদিহির বাইরে থাকার কারণেই মূলত সীমান্ত হত্যা বন্ধ হচ্ছে না। আন্তর্জাতিক আইন কোনো বাহিনীকে বিশ্বের কোথাও নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের গুলি বা নির্যাতন করার অনুমতি দেয় না।
সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে সবুজ ইসলাম (২৫) এবং মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার দশটেকি এলাকায় সুকিরাম (২৫) নামের দুই বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার পচাভা-ার সীমান্ত পিলার ৮৬৪ সংলগ্ন এলাকায় ভারতের প্রায় ৩০ গজ ভেতরে সবুজ ইসলাম নিহত হন। আর কুলাউড়ার সুকিরাম নিহত হন সীমান্ত এলাকায় গরু চরানোর সময়।
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, কখনো গরু চোরাচালান, কখনো অনুপ্রবেশের অভিযোগ এনে গুলি চালানো হয়। অথচ আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, সীমান্তে কেউ অবৈধভাবে প্রবেশ করলে তাকে গ্রেপ্তার করে প্রচলিত আইনে বিচার করার কথা।
সীমান্ত হত্যা বন্ধে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যায়ে বহুবার বৈঠক হয়েছে। ভারত বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে তারা সীমান্তে নন-লেথাল উইপন (প্রাণঘাতী নয় এমন) ব্যবহার করবে এবং প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার বন্ধ করবে। কিন্তু এই প্রতিশ্রুতি রক্ষায় তাদের কোনো ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না।
দৈনিক আল ইহসান শরীফের অনুসন্ধানে জানা গেছে, সীমান্তে যারা নিহত হয়, তাদের বেশির ভাগই সীমান্তবর্তী এলাকার দরিদ্র মানুষ। অনেকে কৃষিকাজ করতে গিয়ে বা ভুলবশত জিরো লাইনের কাছে চলে গেলে গুলিবর্ষণের শিকার হয়।
ফেলানীর লাশ কাঁটাতারে ঝুলে থাকার দৃশ্য আজও বাংলাদেশের মানুষের মনে গেঁথে আছে, যা সীমান্তের নির্মমতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘ চার হাজার ৯৬ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। আর সেটা সীমান্তেই ভারত ভয়ানক হত্যাকান্ড ঘটায়।
মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সীমান্তে কমপক্ষে ২৮ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছে। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১৫ বছরে নিহত হয়েছে ৬০৭ জন।
ভারতের সঙ্গে অনুপ্রবেশকারীদের হত্যার পরিবর্তে গ্রেফতার ও হস্তান্তরের ব্যাপারে সমঝোতা ও চুক্তি থাকলেও বিএসএফ সে সবের কিছুই মানছে না। বিএসএফ বরং দেখামাত্র গুলি করার নীতিই অনুসরণ করে চলেছে। চাষাবাদ করার বা গরুকে ঘাস খাওয়ানোর মতো কোনো জরুরি প্রয়োজনে সীমান্তের কাছাকাছি নিজেদের জমিতে গেলেও বাংলাদেশীরা বিএসএফের গুলি ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। সেইসাথে কুড়িগ্রামের কিশোরী ফেলানীসহ কোনো একজনও বাংলাদেশী হত্যার বিচার ও শাস্তি হয়নি বলেই বিএসএফ ক্রমাগত আরো বেপরোয়া হয়ে উঠতে পেরেছে। সে জন্যই কমার পরিবর্তে সীমান্তে বাংলাদেশীদের হত্যাকা- আরো বেড়েছে। বিএসএফ শুধু হত্যাই করছে না, অনেক ক্ষেত্রে নিহতদের লাশও নিয়ে যাচ্ছে ভারতের অভ্যন্তরে। বলা দরকার, মানুষ হত্যা করে এবং তার লাশ নিয়ে গিয়েও সন্তুষ্ট হতে পারছে না বিএসএফ। আগের মতো মানুষ তো অপহরণ করছেই, বিএসএফের সৈনিকেরা বাংলাদেশের অনেক ভেতরে ঢুকে গরুও চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে প্রায় নিয়মিতভাবে।
বলাবাহুল্য, বাংলাদেশ সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে ভারতের বিএসএফ দীর্ঘকাল ধরে সীমান্তে নির্যাতন ও ত্রাসের পরিস্থিতি সৃষ্টি করলেও এর কোনো প্রতিবাদ করেনি সরকার। এমনকি বিজিবিও এর কোনো প্রতিবাদ জানায়নি। উল্টো বাংলাদেশের সীমান্তবাহিনী বিজিবি হাসিমুখে গিয়ে ফটোসেশন করে সেই অসহায় বাংলাদেশীদের লাশ ফেরত নিয়েছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, বাংলাদেশীদের জানের কোনো মূল্যই নেই। বুকে গুলি করে মারবে হানাদার বিএসএফ আর লাশ গ্রহণ করবে বিজিবি। এটা যেন একটা নিত্য আচারে পরিণত হয়েছে।
বিজিবি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করলেও ভারতীয় মিডিয়া বিজিবির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। কিন্তু এর বিরুদ্ধে ভারত পূজারী পতিত জালিম সরকারের মত বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শক্ত কোনো প্রতিবাদ জানাচ্ছেনা। যা দেশের ৪০ কোটি দেশপ্রেমিক জনগণকে হতাশ করেছে।
মূলত, এর পিছনে কারণ হলো স্বদেশের প্রতি মুহব্বতের ঘাটতি। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “স্বদেশের প্রতি মুহব্বত পবিত্র ঈমান উনার অঙ্গ। ” আজ যেহেতু আমাদের পবিত্র ঈমানী চেতনাই বিপর্যস্ত, সেহেতু স্বদেশের প্রতি মুহব্বতও বিলীনপ্রায়। তাই সীমান্ত সন্ধিক্ষণের এ সন্ধিক্ষণে আমাদের দরকার ঈমানদীপ্ত চেতনা। অমিত তেজা রূহানী জজবা। আর তার জন্য প্রয়োজন খাছ ফয়েজ তাওয়াজ্জুহ মুবারক।
ছহিবে সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্র্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারক-এ কেবলমাত্র তা লাভ করা সম্ভব। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। আমীন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
আজ পবিত্র ২৬শে যিলহজ্জ শরীফ। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল খ¦মিসাহ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নিসবাতে আযীমাহ শরীফ দিবস। সুবহানাল্লাহ! এ দিবসটির তাৎপর্য অনুধাবন গোটা মুসলিম উম্মাহর জন্য ফরয-ওয়াজিব।
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আজ মহামহিম ২৫শে যিলহজ্জ শরীফ। ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, বাবুল ইলম ওয়াল হিকাম, আসাদুল্লাহিল গালিব, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, মুরতাদ্বা, হায়দার, সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার সুমহান খিলাফত মুবারক গ্রহণ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সরকারের ঋণ গ্রহণের পরিমাণ ২৩ লাখ কোটি টাকা ঋণের টাকা ঋণের সুদ পরিশোধেই ব্যয় হচ্ছে বিদেশী ঋণ নির্ভরতা থেকে সরকারকে তওবা করতে হবে
১১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সরকার দলীয় শ্রমিক কর্মচারী তথা গণ আন্দোলনের মুখে সাবেক প্রতারক সরকার যেখানে ডিপিওয়ার্ল্ড নিষিদ্ধ করেছে সেখানে নির্বাচিত দাবীদার বর্তমান সরকার কী করে সে দেশ বিক্রির পথেই হেটে ডিপিওয়ার্ল্ডকে আনতে পারে?
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ভারত একটি চরম সন্ত্রাসী রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতি এবং দিপাক্ষিক চুক্তি- এমনকী নিজ দেশের সংবিধান সবই ভারত বর্বরতার সাথে লঙ্ঘন করে ও করছে। ভারতকে কঠিন শিক্ষা দিতে হবে এবং সাবেক উপদেষ্টা বিবৃত ২২ লাখ ভারতীয়কে অবিলম্বে পুশব্যাক করতে হবে।
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
তুরস্কের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কোন্নয়ন শুধু সামরিক বা ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বের ভিত্তিতেই নয় বরং ইসলামী মূল্যবোধের আলোকে মুসলিম ভ্রাতৃত্ববোধের জজবাকে সমুন্নত করার জন্য হতে হবে ইনশাআল্লাহ।
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আম্রিকা শকুনীরা চাচ্ছে বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষ তৈরী করতে। ডিপস্টেট আমলাদের দ্বারা প্রণীত হচ্ছে- রফতানী বাধাগ্রস্থ করার নীল নকশা। চা রফতানীর বাধাসমূহ অবিলম্বে দূর করতে হবে।
০৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
আজ সুমহান বেমেছাল বরকতময় ১৯শে যিলহজ্জ শরীফ! সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ আশার আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ! পাশাপাশি এই মহিমান্বিত দিনটি সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহ নাওয়াদী আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
০৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আজ সুমহান বরকতময় ১৮ই পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ! খলীফায়ে ছালিছ, আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক অর্থাৎ পবিত্র শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
০৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
আম্রিকা বাংলাদেশকে আরো বেশী তুলা আমদানিতে চাপ সৃষ্টি করছে। আম্রিকা থেকে তুলা আমদানি জটিল, অধিক ব্যয় ও সময় সাপেক্ষ। অথচ একটু উদ্যোগ নিলে বাংলাদেশই হতে পারে তুলায় স্ব-নির্ভর। ইনশাআল্লাহ।
০৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নানা নামে বিভিন্ন কর আরোপকে মহা জুলুম হিসেবেই দেখছেন ব্যবসায়ীরা। আসন্ন বাজেটে নানা কর পরিকল্পনা নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় ব্যবসায়ীরা। সরকারকে অন্যায্য কর মুক্ত বাজেট দিতে হবে।
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আজ সুমহান ও বরকতময় ১৫ই যিলহজ্জ শরীফ। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আশির মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












