বুখারী শরীফে রহমাতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র শান মুবারক উনার খিলাফ একটি জাল বর্ণনা রয়েছে যা পরিতাজ্য (১)
-আল্লামা মুহম্মদ নূরউদ্দীন।
, ২২ রবিউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৬ খমীছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৫ অক্টোবর, ২০২৫ খ্রি:, ৩০ আশ্বিন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
এখন ফিকিরের বিষয় হলো হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মত এত বড় একজন হাদীছ শরীফ বিশেষজ্ঞ, যিনি প্রায় ১৬ বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করে বুখারী শরীফ সংকলন করেছেন সেখানেও উনার অনিচ্ছা স্বত্ত্বে জাল রেওয়ায়েত ঢুকে গেছে। তেমনি আরেকটি রেওয়ায়েত যা হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বুখারী শরীফের কিতাবুত তা’বীর অধ্যায়ের প্রথমেই বর্ণনা করেছেন। ওহী মুবারক বিষয়ে দীর্ঘ একটি হাদীছ শরীফ বর্ণনা করে শেষের দিকে এসে এই বর্ণনা সংযুক্ত করেছেন-
بَلَغَنَا حُزْنًا غَدَا مِنْهُ مِرَارًا كَىْ يَتَرَدَّى مِنْ رُءُوسِ شَوَاهِقِ الْجِبَالِ، فَكُلَّمَا أَوْفَى بِذِرْوَةِ جَبَلٍ لِكَىْ يُلْقِيَ مِنْهُ نَفْسَهُ، تَبَدَّى لَهُ جِبْرِيلُ فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ إِنَّكَ رَسُولُ اللَّهِ حَقًّا. فَيَسْكُنُ لِذَلِكَ جَأْشُهُ وَتَقِرُّ نَفْسُهُ فَيَرْجِعُ، فَإِذَا طَالَتْ عَلَيْهِ فَتْرَةُ الْوَحْىِ غَدَا لِمِثْلِ ذَلِكَ، فَإِذَا أَوْفَى بِذِرْوَةِ جَبَلٍ تَبَدَّى لَهُ جِبْرِيلُ فَقَالَ لَهُ مِثْلَ ذَلِكَ
অর্থ: এমনকি আমরা এ সম্পর্কে তার থেকে জানতে পেরেছি যে, তিনি (হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পর্বতের চূড়া থেকে নিচে পড়ে যাবার জন্য একাধিকবার দ্রুত সেখানে চলে গেছেন। (নাঊযুবিল্লাহ!) যখনই নিজেকে ফেলে দেয়ার জন্য পর্বতের চূড়ায় পৌঁছতেন (নাঊযুবিল্লাহ!), তখনই হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তিনি উনার সামনে আত্মপ্রকাশ করে বলতেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! নিঃসন্দেহে আপনি মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এতে উনার অস্থিরতা দূর হতো এবং নিজ মনে শান্তিবোধ করতেন..........।” নাঊযুবিল্লাহ!
নাস্তিক ও বাতিল ফিরকার লোকেরা এই বর্ণনা দিয়ে তাদের নিকৃষ্ট অভিযোগ উত্থাপন করে বলে থাকে- সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছিলেন। নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ!
অথচ উপরোক্ত রেওয়ায়েত সম্পর্কে বলা হয়েছে-
بهذه الرواية وزيادتها، طعن أعداء السنة والسيرة العطرة قديماً وحديثاً فى المحدثين زاعمين أن فى هذه الرواية طعن فى نبوة رسول الله صلى الله عليه وسلم وعصمته
অর্থ: এই রেওয়ায়েত খানা বৃদ্ধি করা হয়েছে। পবিত্র সুন্নাহ, সিরাত ও পবিত্রতার বিরুদ্ধে এর আক্রমণ সীমা অতিক্রম করেছে। পরবর্তী হাদীছ শরীফ বিশারদগণ এই বর্ণনা সম্পর্কে বলেছেন- এই বর্ণনা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নবুওওয়াত ও মা’ছুমিয়াত বা পবিত্রতার সাথে সাংঘর্ষিক।” (রদ্দু শুবহাত হাওলু ওয়া ইছমাতু লি’ন্নাবীয়্যি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ১/৩০৪)
الزيادة الواردة فى سند حديث عائشة رضى الله عنها غير ثابتة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم -، ولم يقل شيئاً منها، ولا فعلها، فهى لا تصح سنداً ولا متناً لما يلى
অর্থ: উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত সনদে বর্ধিত অন্তর্ভুক্ত অংশ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে প্রমাণিত নয়। উনি এ ধরনের কোন কিছুই বলেননি। এধরনের কোন কাজও করেননি। এধরনের কোন কিছু সহীহ সনদ ও মতনে বর্ণিত নেই। (রদ্দু শুবহাত হাওলু ওয়া ইছমাতু লি’ন্নাবীয়্যি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ১/৩০৪)
উক্ত কিতাবে আরো বর্ণিত আছে-
فأما الدليل على عدم صحة هذه الرواية سنداً فهو ما ورد فى الرواية ذاتها إذ فيها "حزن النبى صلى الله عليه وسلم، فيما بلغناৃ" والقائل "فيما بلغنا" هو الإمام الزهرى وهو أعلم الحفاظ، ولكن لا يقبل ما رواه من غير سند!
অর্থ: দলীল দেয়ার জন্য এই রেওয়ায়েতে সনদগত বিশুদ্ধতার কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায় না। বর্ণনাকারীর বক্তব্য ‘আমরা এ সম্পর্কে তার থেকে জানতে পেরেছি’ তিনি হচ্ছেন হযরত ইমাম যুহরী রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি হাফিজুল হাদীছ ছিলেন। ‘আমরা তার থেকে জানতে পেরেছি’ (কার কাছ থেকে জানতে পেরেছেন তার নাম উল্লেখ করেননি) এ মর্মে সনদবিহীন বক্তব্যটি কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। (রদ্দু শুবহাত হাওলু ওয়া ইছমাতু লি’ন্নাবীয়্যি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ১/৩০৭) (অসমাপ্ত)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
যেই ২৬ খানা আয়াত শরীফ বাদ দেয়ার জন্য ভারতের আদালতে রিট করেছিলো ইসলামবিদ্বেষীরা
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যাকাত সম্পর্কিত আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (১৪)
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যে নিজে পর্দা করে না ও অধীনস্থদের পর্দা করায় না সে দাইয়ূছ
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (৮)
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মসজিদে ইবাদত করতে বাধা দেয়া বা মসজিদ উচ্ছেদ করা কুফরী
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র সূরা দুখান শরীফে বর্ণিত লাইলাতুম মুবারকাই হচ্ছে পবিত্র শবে বরাত; যে রাত্রি মুবারকে সমস্ত প্রজ্ঞাময় বিষয়সমূহের ফায়ছালা করা হয় (৬)
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (৭)
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ক্বমীছ বা জামা নিছফে সাক্ব পর্যন্ত প্রলম্বিত হওয়া সম্মানিত সুন্নত মুবারক
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












