তারকা সংযোগ বা স্টারলিংক:
বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসী ইহুদী-খ্রিস্টানদের নজরদারী, তথ্যচুরি, ফিৎনা সৃষ্টিকারী, সন্ত্রাস সৃষ্টিকারী এবং বিমান হামলার কাজে ব্যবহৃত সন্ত্রাসী আমেরিকা ভিত্তিক মুসলিম বিদ্বেষী এক তথ্যজালিকা (৪)
, ০৮ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২১ খ্বমিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ২০ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রি:, ০৪ কার্তিক, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
“মুসলিম উম্মাহর এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তারকা সংযোগ বা স্টারলিংক কতটা ভয়াবহ: একটি দ্বীনী সমঝ এবং ঈমানী দৃষ্টিভঙ্গি”
চীন, রাশিয়া তারা নাস্তিক-কাফির-মুশরিক হওয়ার পরেও নিজেদের দেশে তারকা সংযোগ (স্টারলিংক)কে প্রবেশাধিকার দেয়নি।
আবার ভারত আমেরিকার নিকটতম বন্ধু হওয়ার পরেও তারকা সংযোগ বা স্টারলিংককে কঠোর হিন্দুত্ববাদী শর্তসাপেক্ষে এবং কঠোর নিরাপত্তা শর্তাবলী মেনে চলার অঙ্গীকার করার পর পরীক্ষামূলক সীমিত পরিসরে কার্যক্রম করার অনুমতি দিয়েছে। উল্লেখ্য ইহুদী আর মুশরিকরা মুসলমানদের সবচেয়ে বড় শত্রু এবং তারা একে অপরের বন্ধু।
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَالَّذِينَ كَفَرُوا بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ ۚ إِلَّا تَفْعَلُوهُ تَكُن فِتْنَةٌ فِي الْأَرْضِ وَفَسَادٌ كَبِيرٌ
“আর যারা কাফির তারা একে অপরের বন্ধু। যদি তোমরা (মু’মিনরা) একে অপরের সাহায্য না করো, তবে পৃথিবীতে ফিতনা ও বড় ধরনের অশান্তি সৃষ্টি হবে। (কাফির-মুশরিক-মুনাফিকরা বড় ধরণের ফিতনা ও অশান্তি সৃষ্টি করবে, তোমাদেরকে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্র করবে।)”
কাফিররা সবসময় পরস্পরের সহায়ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে। তাই মুসলমানদেরকেও পরস্পর ঐক্যবদ্ধ হতে হবে; নতুবা মুসলমানরা দুর্বল হয়ে পড়বে।
তারকা সংযোগ (স্টারলিংক) মুশরিক ভারতকে মুসলমানদের উপরে জুলুম করার জন্য তথ্য-প্রযুক্তিগত সহায়তা দিবে। কেননা ইহুদী আর মুশরিক তারা উভয়েই চায় মুসলমানদের ক্ষতি করতে। তারপরও মুশরিক ভারত তার নিজের নিরাপত্তা এবং হিন্দুত্ববাদী শর্ত জুড়ে দিয়ে কাট্টা ইহুদী মাস্ককে তারা ভারতের প্রধান শহরগুলিতে স্যাটেলাইট যোগাযোগের পরিকাঠামো তৈরির অংশ হিসেবে মাত্র নয়টি গেটওয়ে আর্থ স্টেশন স্থাপনের অনুমতি দিয়েছে।
ইহুদীরা হিন্দুদের মতাদর্শগত বন্ধু হওয়ার পরেও যদি ভারত এতো কঠোর শর্ত দিয়ে তারকা সংযোগকে নিয়ন্ত্রণ করে! তাহলে বাংলাদেশ এবং অন্যান্য মুসলিম দেশগুলো কেনো স্টারলিংকের তথ্য জালিকা সংযোগ এর আওতায় প্রবেশ করবে?
যেখানে তারকা সংযোগের (স্টারলিংকের) তথ্য সরবরাহ বা পাচারের উপরে বাংলাদেশ সরকারের বা গোয়েন্দাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ রাখা বা নজরদারী করা সম্ভব নয় সেখানে কেনো তারকা সংযোগ বা স্টারলিংক এর হাতে আমাদের তথ্য প্রবাহ ছেড়ে দেওয়া হবে? জাতীয় নিরাপত্তা এবং তথ্যের গোপনীয়তা বিদেশীদের এবং বিশেষ করে ইহুদীদের হাতে কতটুকু নিরাপদ?
অমুসলিম সম্প্রদায় একে অপরের সহযোগী ও মিত্র, তাই মুসলমানদের উচিত- তাদের সাথে অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, প্রযুক্তিগত, আদর্শিক বা যে কোনো ধরনের বন্ধুত্ব করা থেকে কিংবা সম্পর্ক স্থাপন করা থেকে দূরে থাকা।
যেখানে বাংলাদেশের থেকে আয়তনে ভারত প্রায় ২২গুণ বড়। তারপরেও তারা তাদের ইহুদী বন্ধু মাস্কের কোম্পানী স্পেসএক্স এর প্রকল্প তারকা সংযোগ (স্টারলিংক) কে দিয়েছে মাত্র ৯টি গেটওয়ে, তাও আবার পরীক্ষামূলক। আর বাংলাদেশে ইতিমধ্যেই স্টারলিংক চারটি গেটওয়ে স্থাপন করে ফেলেছে।
বাংলাদেশের অনুপাতে ভারতে গেটওয়ে স্থাপন করলে ভারতে গেটওয়ে হওয়ার কথা ছিলো কমপক্ষে ৯০টি। কীভাবে ইহুদীরা কবজাবন্দি করে নিয়েছে বাংলাদেশের তথ্য-প্রযুক্তি অঙ্গন এবং বাংলাদেশের তথ্য ভান্ডার।
এখন খুব সহজেই-
জুয়া-অশ্লীলতা ছড়ানো যাবে।
অপসংস্কৃতির বিস্তার ঘটিয়ে সামাজিক অবকাঠামো ভেঙে দেয়া যাবে।
সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার চোখকে ফাঁকি দিয়ে ব্যাংক একাউন্ট হ্যাক করা যাবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে রিজার্ভ বিদেশে পাচার করা যাবে।
নির্ভুল শনাক্ত করে ড্রোন হামলা করা যাবে।
পার্বত্য অঞ্চলকে আরো উত্তপ্ত ও অস্থির করা যাবে।
এই রকম নানান ইহুদী সাম্রাজ্যবাদী আক্রমণের শিকার হতে পারে বাংলাদেশ!!! বিষয়টি অনেক উদ্বেগের। কী ভয়ানক তথ্যগত নিরাপত্তাহীনতার ভিতরে প্রবেশ করছে বাংলাদেশ?
আবার সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে বিছানো আন্ত:মহাদেশীয় আলোক তন্তু তার (অপটিক ফাইবার ক্যাবল) বা সমুদ্রতল তথ্য যোগাযোগ তার (সাবমেরিন ক্যাবল) এর মাধ্যমে নির্মিত তথ্যজালিকার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে ইহুদীদের হাতেই। ইহুদী-নাছারা, কাফির-মুশরিকদের অদৃশ্য হাতের মুঠোয় রয়েছে মুসলমানদের তথ্য! গুগল, মেটা, মাইক্রোসফট, আমাজন, চায়না মোবাইল ইত্যাদি ইহুদী-নাছারাভিত্তিক বহুজাতিক টেক জায়ান্ট কোম্পানি বা প্রযুক্তি-দানব (প্রযুক্তি সন্ত্রাসী) প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতেই রয়েছে পৃথিবীর আন্ত:মহাদেশীয় তথ্য জালিকার নিয়ন্ত্রণ!
এমতাবস্থায় মুসলমানদের তথ্যগত নিরাপত্তা কতটুকু? এমতাবস্থায় আবার কাট্টা ইহুদীবাদী প্রকল্প তারকা সংযোগ (স্টারলিংক)-কে প্রবেশাধিকার দিলে মুসলমানদের নিরাপত্তা, আমাদের দেশের জাতীয় নিরাপত্তা, আমাদের তথ্যভান্ডারের গোপনীয়তা কতটুকু থাকবে?
আরো উল্লেখ্য, কাফিররা মুসলমানদের ক্ষতি করার ক্ষেত্রে কোন প্রকার ত্রুটি করে না। (সংকলিত)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মূর্তি নির্মাণ করা এবং নির্মাণে সমর্থন করা ও এর সাথে সশ্লিষ্টতা হারাম ও কুফরী (১৩)
২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রত্যেক মু’মিন মুসলমানকে কাফির-মুশরিকদের অনুসরণ থেকে দূরে থাকতে হবে
২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মসজিদে ইবাদত করতে বাধা দেয়া বা মসজিদ উচ্ছেদ করা কুফরী
১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
একমাত্র মহান আল্লাহ পাক ব্যতিত অন্য কারও অনুসরণ করার বিষয়ে বাতিলপন্থীদের বিভ্রান্তির জাওয়াব
১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
খাদিমু রসূলিল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৭)
১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন
১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠের বিস্ময়কর বাস্তব ঘটনাসমূহ
১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












