বিডিআর বিদ্রোহে জিম্মি কিশোরীর স্মৃতিতে পিলখানার ৩৬ ঘণ্টা
, ১০ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ৩০ তাসি, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ১৫ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) দেশের খবর
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬শে ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় বিদ্রোহের নামে যে নৃশংস সেনা হত্যাযজ্ঞ হয় সেদিন পিলখানার ভেতরে আটকা পড়েছিলেন অনেকে। তখন ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী ফাবলিহা বুশরা তাদেরই একজন।
তার বাবা তৎকালীন বিডিআর হাসপাতালের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ লেফটেন্যান্ট কর্নেল লুৎফর রহমান খানও ওইদিন বিদ্রোহীদের হাতে খুন হন।
১৪ বছর বয়সে বাবাকে হারানো এবং নৃশংসতার মধ্যে মা ও ভাইয়ের সঙ্গে ৩৬ ঘণ্টা পিলখানা কোয়ার্টার গার্ডে জিম্মি ছিলেন বুশরা। বুশরা বয়স এখন ২৩। ৯ বছর আগের ওই হৃদয়বিদারক ঘটনার ভয়াল স্মৃতি গণমাধ্যমকে তুলে ধরেছেন ফাবলিহা বুশরা।
সেদিন যা দেখেছিলেন:
দিনটা আসলে গোলাগুলির শব্দ দিয়ে শুরু হয়। আমি তখন ব্রেকফাস্ট করছিলাম। ওইদিন আমার ছুটি ছিল। আমাদের বাসাটা ছিল ডিজি আঙ্কেলের বাসাটার ঠিক পাশে। তো বাবা যখন কলটা দেয় তখন ফোনটা আমিই রিসিভ করেছিলাম। আমার সাথে তেমন কথা হয় নাই, শুধু বলছিলেন যে তোমার আম্মুকে দাও তোমার আম্মুর সঙ্গে কথা বলব।
তারপর বেশি গোলাগুলি শুরু হয়ে গেল। আমরা চারতলার উপর থাকতাম। একটা বুলেট এসে আমাদের জানালার রডটা বেকে ঘরে ঢুকে গেল। আমাদের বাসার নিচে তিনটা গাড়ি ছিল, গাড়িতে ওরা আগুন লাগিয়ে দিল।
বুশরা বলছিলেন, সৈনিকরা কেউ মুখে কাপড় বেঁধে, কেউ মাস্ক পরে ছিল। এতবেশি সৈনিক পিলখানায় তারা আগে কখনোই দেখেননি। তখন পর্যন্ত কোনো ধারণাও করতে পারেননি আসলে বাইরে কী ঘটছে বা তাদের জন্য কী অপেক্ষা করছে।
দুজন সৈনিক এসে আমাদেরকে ঘর থেকে বের করে নিয়ে যাচ্ছিল। এসময় একজন সৈনিক এসে আমার মায়ের বুকে বন্দুক ধরে বলছিল তুই শেষ, তুই শেষ। তোর জামাই কে? তোর জামাইতো শেষ। এসময় আমার মা’র দুই হাতে আমি ও আমার ছোট ভাই ধরা।
বুশরা বলেন, আমি জানতাম না কোয়ার্টার গার্ড কী জিনিস বা সেখানে কী করা হয়। আমাদের আগে পুরাতন ডিজি কোয়ার্টার থেকে কিছু ফ্যামিলি নিয়ে আসা হয়েছিল। আমাদের সামনে লাইন ধরে ধরে রুমটার মধ্যে যখন সবাইকে ঢুকাচ্ছিল।
সবচেয়ে বীভৎস যেটা লাগছিল যে, তারা বেধড়কভাবে অফিসারের মিসেস যারা, ইভেন মা এবং সন্তানদের পেটাচ্ছিল। তখন আমার পেছনে একটা লাথি লাগে। আমার কানের পেছনে বন্দুকের বাঁট দিয়ে একটা আঘাত করে।
বুশরা জানান, একটা রুমে ৭০/৮০ জনকে গাদাগাদি করে রাখা হয়। এ সময় বিডিআর জওয়ানরা উল্লাস করছিল এবং কে কয়জনকে মেরেছে সেটি জানান দিচ্ছিল। জিম্মি অবস্থায় অল্প বয়সে নৃশংস ঘটনার চাক্ষুষ সাক্ষী হয়েছিলেন কিশোরী বুশরা।
একজন ধুপী ছিলেন উনি একজন অফিসারকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু উনি সৈন্যদের হাতে ধরা পড়ে যান। আমরা বাইরে বসে দেখছিলাম যে, তার ওপর জাস্ট ২০-২৫ জন লোক ঝাঁপিয়ে পড়লো। এবং তাকে যে যে জিনিস পাচ্ছে তাই দিয়ে পেটাচ্ছে। লোকটার চিৎকার আমি কোনোদিন ভুলবো না। আমি অনেক রাত ঘুমাতে পারি নাই এই জিনিসটা এক্সপিরিয়েন্স করার পর।
কোয়ার্টার গার্ডে বুশরা তার মা ও ভাইয়ের সঙ্গে একরুমে অবরুদ্ধ ছিলেন। সেখানে এক ঘটনা কিশোরী বুশরার জন্য মারাত্মক ভীতির সঞ্চার করেছিল।
আমি আর আমার মা পাশাপাশি বসে ছিলাম। গরাদের দরজার ভেতর দিয়ে বন্দুক ঢুকিয়ে নল দিয়ে আমার দিকে তাক করে একজন বলছিলেন, চোখ বন্ধ কর, চোখ বন্ধ কর। হাসতেছে আর বলতেছে যে, কিছু বোঝা যাবে না, চোখ বন্ধ কর।
দে ওয়্যার লাফিং দ্যাট ইট ওয়াজ অ্যা জোক। আমি যে ভয় পাচ্ছি, আমি যে গুটিয়ে যাচ্ছি - এই জিনিসটা দেখে ওরা খুব আনন্দ পাচ্ছিল।
আমাদের কোনো ডাউট ছিলনা যে ওরা আমাদের মেরে ফেলবে। আমরা শুধু ওয়েট করছিলাম যে কখন মারবে।
বুশরা জানান, ৩৬ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার সময় তারা দোয়া-কলেমা পড়েছেন। শুধু পানি খেয়ে কাটিয়েছেন পুরোটা সময়। রাতে একটু ঘুমিয়েছিলেন স্যান্ডেল মাথায় দিয়ে। যখন পিলখানা থেকে বের হন তখনো আতঙ্ক কাটেনি তাদের।
আমাদেরকে যখন বলা হয়ছিল যে, তোমরা চলে যাও। ট্রাকে করে উঠিয়ে দেয়া হচ্ছিল আমাদের। আমরা তখন যেতে চাচ্ছিলাম না। ঘটনার বীভৎসতাটা এত বেশি ছিল যে আমাদের মনে হচ্ছিল যে, আমরা গাড়িতে উঠবো আর আমাদের পেছন থেকে গুলি করবে।
বুশরা বলেন, আমার কাছে মনে হয় যে, এই সময়টা নিজেদের জিম্মি থাকার অভিজ্ঞতাটা যতটা কষ্টকর ছিল, তার চাইতে মনে হয় আমার বাবার জন্য অপেক্ষা করা- আর তারপরে তার লাশ পাওয়ার অভিজ্ঞতাটা আরো কষ্টকর ছিল।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সময় গেলেও শেষ হয়নি ফসল রক্ষা বাঁধের নির্মাণকাজ
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পুলিশের নতুন ইউনিফর্ম: কাপড়ের মানের ঘাটতির অভিযোগ
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে বিএনপির আরও ৪ প্রার্থী
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
রাজধানীতে মাদক কারবারিদের গুলিতে ইন্সপেক্টর গুলিবিদ্ধ
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
‘১৮০ দিনের মধ্যে এক হাজার কি.মি. খাল খনন দৃশ্যমান হবে’
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
‘নাবিকদের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার’
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
‘বিনা কারণে স্বাধীন দেশে হামলা ভয়াবহ বার্তা দেয়’
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
‘সংসদে আলোচনা ছাড়া কোনো বিদেশি চুক্তি নয়’
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
‘ঢাবি উপাচার্যের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছে সরকার’
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
‘অপারেশন নয়, আগে বিকল্প ভাবুন’ -নিজের অভিজ্ঞতা জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
‘সংবিধান মেনে সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি’
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঈদে রেলে যুক্ত হচ্ছে ১১২ কোচ, সৈয়দপুরে চলছে মেরামত
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












