বাড়তি দামে ‘পোয়া-হালিতে’ সীমাবদ্ধ নিত্যপণ্যে বাজার
, ১৪ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৭ খ্বমিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রি:, ১০ কার্তিক, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) তাজা খবর
নিজস্ব সংবাদদাতা:
পকেটে টাকা কম তাই নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে সংসার চালাতে কেনাকাটায় কাটছাঁট করতে হচ্ছে ক্রেতাদের। একসময় যে বাজারে চাল-ডাল, আলু-পেঁয়াজ কেজি হিসেবে কেনা হতো, সেখানে ক্রেতারা এখন কিনছেন পোয়া, হালি কিংবা ৫০/১০০/২০০ টাকার পণ্য। বাজারের এই পরিবর্তনে শুধু ক্রেতারাই নন, বিক্রি কমে যাওয়া ও খাটুনি বেড়ে যাওয়ায় চাপে পড়ছেন বিক্রেতারাও।
রাজধানীর মালিবাগ রেলগেট কাঁচাবাজারে মুদিদোকানির সঙ্গে কথা বলছেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা প্রহরী জয়নুল ইসলাম। ফর্দটা বড় নয়, তবে অদ্ভুত ঠেকতে পারে আগের যেকোনো স্বাভাবিক সময়ের তুলনায়। ‘ভাই, এক হালি ডিম, এক পোয়া মসুর ডাল, আধা কেজি পেঁয়াজ আর ২/৩টা রসুন, দেন।’
দোকানি খলিল পলিথিনে মেপে মেপে জিনিসগুলো দিচ্ছেন। কোনো পণ্যের পরিমাণই কেজির ঘরে পৌঁছায়নি। পকেট থেকে টাকা বের করে জয়নুল দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, ‘মাস শেষ হতে এখনো দশ দিন বাকি। বেতনের টাকা বাড়ি ভাড়া আর বাচ্চার স্কুলে চলে গেছে। এখন ব্যাগভর্তি কেনার সামর্থ্য নেই ভাই, দিন এনে দিন খাওয়ার মতো অল্প অল্প কিনতে হচ্ছে।’
নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি ও আয়-ব্যয়ের চরম অসঙ্গতিতে পড়ে নিম্নবিত্ত তো বটেই, মধ্যবিত্তের বড় একটি অংশও বাজার করতে গিয়ে কেজির বা ডজনের বদলে ৫০/১০০/২০০ টাকার অঙ্কে হিসাব কষে পণ্য কিনছেন।
বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি কাটছাঁট হচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রধান কয়েকটি পণ্যে- তেল, মসুর ডাল, চিনি, মাছ, গোশত এবং কাঁচা শাকসবজি ও মসলায়। আগে যেখানে আলু-পেঁয়াজ পাল্লা (৫ কেজি) বা কেজিতে কেনা হতো, এখন ক্রেতারা কেজি প্রতি দাম ধরে ৫০-১০০ টাকায় যতটুকু মেলে তা নিচ্ছেন। কেউ কাঁচামরিচ কিনছেন ২০ বা ৩০ টাকার। যারা ডিম ডজন বা এক খাঁচি (৩০ টি) করে নিতেন, তারা নেমে এসেছেন হালিতে। এখন ব্রয়লার মুরগিও অনেকে টুকরো করে কিংবা শুধু পা-গিলা-কলিজা কিনছেন।
মগবাজারের একটি শোরুমের বিক্রয়কর্মী বলেন, আগে মাসে অন্তত দশ কেজি চাল, পাঁচ কেজি আলু, দুই কেজি করে ডাল ও পেঁয়াজ, এক কেজি চিনি একবারে কিনতাম। এখন প্রতিদিনেরটা প্রতিদিন কিনি। আজ ২৫০ গ্রাম মসুর ডাল, এক হালি ডিম, আর ২০ টাকার রসুন নিয়েছি। রাতে কোনোমতে ফুটিয়ে পাতলা ডাল, ডিম ভাজি আর ভাত খাব।
না পারি সইতে, না পারি টিসিবির লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে। বাধ্য হয়ে পরিচিত দোকান থেকে অল্প অল্প করে জিনিস কিনতে হয়, মাসের শেষে প্রায়ই বাকিতে কেনাকাটা করতে হয়।
মগবাজারের নয়াটোলায় গরুর গোশত বিক্রেতা সবুজ খান বলেন, আগে যিনি সাত কেজি গোশত নিতেন এখন তিন/চার কেজি নেন। যারা তিন/চার কেজি করে নিতেন তারা এক কেজি করে নেন। এর বাইরে অনেকেই এসে বলেন ৩০০-৫০০ টাকার গোশত দিতে। আমরা ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী কেজি প্রতি দাম ধরে ৩০০-৫০০ টাকার গোশত ওজন করে দেই। এখন নির্দিষ্ট ওজন না বরং নির্দিষ্ট টাকা দিয়ে গোশত কেনার লোকের সংখ্যা অনেক বেশি।
লাগামহীন এই বাজারে ক্রেতাদের ‘খুচরো’ কেনাকাটার প্রবণতা বিক্রেতাদের জন্যও স্বস্তির নয়। তাদের দাবি- এতে করে কমেছে বিক্রি ও মুনাফা , উল্টো বেড়েছে খাটুনি।
মগবাজারের নয়াটোলা এলাকার মুদি ব্যবসায়ী হারুন মিয়া জানান, আগে যেখানে দিনে ১৫-২০ কেজি মসুর ডাল এক-দুই কেজি করে কয়েকজনের কাছেই বিক্রি হয়ে যেত, এখন সেই পরিমাণ ডাল বিক্রি করতে অন্তত ৫০ জন ক্রেতা সামলাতে হয়। হারুন বলেন, আগে ১০০ গ্রাম বা আড়াইশ গ্রাম মসুর ডাল কেউ চাইলে আমরা বিরক্তি প্রকাশ করতাম। এখন সেই ক্রেতাই সবচেয়ে বেশি। দিনে কয়েকশ বার পাল্লায় ১০০-২০০ গ্রাম মাপতে গিয়ে সময় নষ্ট হয়, দোকানে ভিড় জমে কিন্তু বিক্রি বাড়ে না।
ব্যবসায়ীরা আরও জানান, ছোট ছোট পরিমাণে পণ্য দিতে গিয়ে পলিথিন ও ছোট প্যাকেটের ব্যবহার বেড়েছে তিন থেকে চার গুণ। এক কেজি চাল বা ডাল একবার প্যাক করতে যে খরচ ও সময় লাগে, তা চার বা আট ভাগে বিক্রি করতে বিক্রেতার বাড়তি কয়েক টাকা পলিথিন বাবদই খরচ হয়ে যায়।
সবজি বিক্রেতা সুজন মিয়া বলেন, অনেকে এসে বলে- মামা, দুইটা পটল আর একটা বেগুন দেন। এভাবে বিক্রি করলে বাকি সবজি শুকিয়ে নষ্ট হয়, লাভ তো দূরের কথা, লোকসান গুনতে হয়।
অর্থনীতির বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই খুচরো কেনাকাটায় ক্রেতার অজান্তেই খরচ আরও বেড়ে যায়। যেমন- এক কেজি মসুর ডালের দাম ১৫০ টাকা হলেও এক পোয়া (২৫০ গ্রাম) কিনতে গেলে নেওয়া হচ্ছে ৪০/৪৫ টাকা, যার ফলে কেজি পড়ে যায় ১৬০-১৮০ টাকা। অর্থাৎ নগদ টাকার টান সামলাতে গিয়ে নিম্ন আয়ের মানুষগুলোকে উল্টো বাড়তি মাশুল দিতে হচ্ছে।
বাজারের এই কাটছাঁটের সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি লাগছে পরিবারের শিশু ও বয়স্কদের ওপর। পুষ্টিবিদদের মতে, মাছ-গোশত বাদ দিয়ে শুধু পাতলা ডাল, আলুভর্তা বা এক টুকরো ডিম দিয়ে ভাত খাওয়ার ফলে নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি প্রোটিন ঘাটতি ও পুষ্টিহীনতা তৈরি হচ্ছে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
এবার পোশাকশিল্পে বেতন বাড়ানোর চাপ
২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পরিচালনার ব্যর্থতায় অপরাধ বেড়েছে’
২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
তেল-গ্যাস উত্তোলনে সুইডিশ কোম্পানিকে স্পিকারের আমন্ত্রণ
২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নাশতা কম দেয়া নিয়ে মারধরে গৃহবধূর মৃত্যু!
২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বাঘের আক্রমণে নারীসহ আহত ৩
২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
৯টি গুদাম ভস্ম, ক্ষতি ৩ কোটি টাকা
২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
১৭ বছর ধরে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় মাদকের আখড়া গড়ে তোলা হয়েছে’
২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মেট্রোরেল স্টেশনগুলোতে আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম স্থাপনের সিদ্ধান্ত
২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রশাসনে অস্থিরতায় গতি হারাচ্ছে উন্নয়ন
২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মালয়েশিয়ার সঙ্গে বসছে বাংলাদেশ
২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
অসৎ পুলিশে সর্বনাশ
২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
খুলনায় ক্লিনিকে হামলা-গুলিবর্ষণ, আটক ২
২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












