মন্তব্য কলাম
বাংলার ঈমানি জমিনে গেরুয়াধারী বিষাক্ত থাবা: উগ্র হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাস ও রাষ্ট্রদ্রোহী ষড়যন্ত্রের শিকড় উপড়ে ফেলা এখন সময়ের দাবি
, ২৮ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৭ হাদী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি:, ০৪ বৈশাখ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) মন্তব্য কলাম
পরাবাস্তব এক ঘোর অমানিশার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে ৯৮ ভাগ মুসলিমের এই প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। যে জমিন ওলী-আল্লাহগণের পদধূলিতে ধন্য, যেখানে রিসালাত উনার ঝা-া চিরকাল সমুন্নত; আজ সেখানে বিজাতীয় উগ্র হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর রাষ্ট্রবিরোধী আস্ফালন এক ভয়ংকর রূপ পরিগ্রহ করেছে। তথাকথিত ‘ইস্কন’ এবং উগ্রবাদী ‘সনাতন জাগরণ মঞ্চ’র ব্যানারে যে বিশৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়ানো হচ্ছে, তা কেবল শান্তি বিঘিœত করছে না, বরং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের মূলে কুঠারাঘাত করার এক ইহুদীবাদি নীল নকশা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত ৫ই আগস্টের পরবর্তী প্রেক্ষাপটে এই উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলো পাশর্^বর্তী বিজাতীয় শক্তির মদদে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এটি কেবল রাজনৈতিক অস্থিরতা নয়, বরং এক রূহানী আগ্রাসন। পবিত্র কুরআন শরীফ-উনাতে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন:
“নিশ্চয়ই তোমরা মুমিনদের প্রতি শত্রুতার দিক থেকে ইহুদী ও মুশরিকদেরকেই সবচেয়ে কঠোর পাবে।” (পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ: আয়াত শরীফ নং ৮২) এই আয়াত মুবারক-উনার হাক্বীকত আজ বাংলার রাজপথে দৃশ্যমান। যখনই এদেশের মুসলিমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চায়, তখনই এই গেরুয়াধারী দালালেরা সাম্প্রদায়িকতার কার্ড খেলে আন্তর্জাতিক মহলে মিথ্যাচার শুরু করে। তারা নিজেরা মূর্তিপূজা ও কুসংস্কারের অন্ধকারে নিমজ্জিত থেকেও প্রগতির বুলি আওড়ায়, যা এক চরম ভ-ামি ও ইহুদীবাদি ধোঁকাবাজি ছাড়া আর কিছুই নয়।
বাংলাদেশে উগ্র হিন্দুত্ববাদী নখর-রক্তাক্ত চট্টগ্রাম ও রাষ্ট্রদ্রোহী ষড়যন্ত্রের চালচিত্র
১. আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের বর্বরোচিত শাহাদাত:
গত ২৬শে নভেম্বর ২০২৪ চট্টগ্রামের আদালত চত্বরে উগ্র ইস্কন সন্ত্রাসীরা যে পৈশাচিকতা প্রদর্শন করেছে, তা আধুনিক ইতিহাসের এক পরাবাস্তব কলঙ্ক। রাষ্ট্রদ্রোহী ইস্কন নেতা চিন্ময় দাসের জামিন নামঞ্জুর হওয়ার পর তার অনুসারীরা আদালত চত্বরে তা-ব চালায়। তারা প্রকাশ্য দিবালোকে মসজিদ ও ঈমানি জনতার ওপর চড়াও হয় এবং অত্যন্ত নৃশংসভাবে সরকারি আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে শহাদাতবরণ করায়। এটি কেবল একটি হত্যাকা- নয়, বরং বাংলাদেশের বিচার বিভাগ ও সার্বভৌমত্বের গালে এক চপেটাঘাত। একজন নিরপরাধ মুমিনের রক্তে রঞ্জিত রাজপথ আজ আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে বিচার চাইছে।
২. সেনাবাহিনী ও পুলিশের ওপর হীন এসিড হামলা:
চট্টগ্রামের হাজারী লেনে যৌথ বাহিনীর ওপর উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের এসিড নিক্ষেপের ঘটনাটি ছিল এক সুপরিকল্পিত সামরিক কায়দায় আক্রমণ। যখন দেশের গর্ব সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী তাদের নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছিল, তখন ‘শ্রীরাম’ স্লোগান দিয়ে উপর থেকে এসিড ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। ৯৮ ভাগ মুসলিমের এই দেশে সেনাবাহিনীর ওপর বিজাতীয় মদদে এমন দুঃসাধ্য হামলা প্রমাণ করে যে, তাদের শিকড় অনেক গভীরে এবং তারা এক সশস্ত্র বিদ্রোহের নীল নকশা তৈরি করছে।
৩. জাতীয় পতাকা অবমাননা ও বিজাতীয় আস্ফালন:
চট্টগ্রামের নিউ মার্কেট মোড়ে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত জাতীয় পতাকার ওপর জাফরানধারী উগ্রবাদী পতাকা উড়িয়ে তারা রাষ্ট্রদ্রোহিতার চূড়ান্ত সীমালঙ্ঘন করেছে। সার্বভৌমত্বের প্রতীককে নিচে নামিয়ে বিজাতীয় ধর্মীয় উগ্রবাদের প্রতীক তুলে ধরা স্পষ্টতই একটি ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের ইঙ্গিত। এটি মূলত ‘অখ- ভারত’ গড়ার সেই ইহুদীবাদি স্বপ্নেরই এক বিভীষিকাময় মহড়া।
৪. ইস্কনের আড়ালে সন্ত্রাসী প্রশিক্ষণ ও সাম্প্রদায়িক উস্কানি:
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে, ইস্কনের বিভিন্ন মন্দিরে ‘নিরামিষ আহার’ বা ‘সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান’-এর আড়ালে তরুণদের মগজধোলাই করা হচ্ছে। তাদের শেখানো হচ্ছে যে, এই ভূমি তাদের এবং মুসলিমরা এখানে বহিরাগত। এই বিষাক্ত প্রচারণার ফলেই তারা আজ রাজপথে নেমে সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষতি করতে দ্বিধা করছে না। তাদের প্রতিটি সমাবেশ থেকে দেওয়া উস্কানিমূলক বক্তব্য মূলত দাঙ্গা বাধানোর এক সূক্ষ্ম ‘সাইকোলজিক্যাল ওয়ারফেয়ার’।
৫. বিজাতীয় মিডিয়া ও প্রপাগান্ডা মেশিন:
যখনই এই সন্ত্রাসীরা অপরাধ করে ধরা পড়ছে, তখনই বিজাতীয় মিডিয়া ও গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ (জঅড)-এর প্রপাগান্ডা মেশিন একে ‘সংখ্যালঘু নির্যাতন’ হিসেবে বিশ^ দরবারে প্রচার করছে। এটি এক পরাবাস্তব মিথ্যাচার। অপরাধী যখন হিন্দু হয়, তখন তাকে ‘সংখ্যালঘু’ তকমা দিয়ে আড়াল করা মূলত ইহুদীবাদি ধোঁকাবাজি। এই প্রপাগান্ডার মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের পথ প্রশস্ত করতে চায়, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য এক অশনিসংকেত।
উগ্রবাদীরা আজ গোপনে অস্ত্র মজুদ করছে এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ের আড়ালে সন্ত্রাসী প্রশিক্ষণ ক্যাম্প পরিচালনা করছে। তাদের লক্ষ্য হলো-দাঙ্গা লাগিয়ে বিজাতীয় আগ্রাসনের পথ প্রশস্ত করা। আমরা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে হুশিয়ার করছি-৯৮ ভাগ মুসলিমের এই দেশে কোনো উগ্রবাদী হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসবাদ সহ্য করা হবে না। এদের প্রতিটি আস্তানা খুঁজে বের করে সমূলে উৎপাটন করা এখন ঈমানি ও জাতীয় দায়িত্ব।
এ থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় হচ্ছে-অবিলম্বে ‘ইস্কন’-এর মতো সমস্ত রাষ্ট্রদ্রোহী বিধর্মী সংগঠনগুলোকে নিষিদ্ধ করা, আইনজীবী হত্যার সাথে জড়িত প্রতিটি খুনিকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা এবং বিজাতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসন বন্ধ করা। ঈমানি জনতাকে নূরী শক্তিতে বলীয়ান হয়ে সজাগ থাকতে হবে।
-মুহম্মদ কুররাতুল আইন হায়দার।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সরকারের এক মূর্খ মন্ত্রী বলেছে তেলের দাম বৃদ্ধিতে মূল্যস্ফীতি হবে না। অথচ তেলের দাম বৃদ্ধিতে প্রথম দাম বাড়বে খাদ্যের।
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অপসংস্কৃতি রোধ করতে হলে কথিত ফ্যাশন হাউজগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
উগ্র হিন্দুত্ববাদী ভারত এবং পতিত আওয়ামীলীগ চাচ্ছে বাংলাদেশে তথাকথিত জঙ্গী তৎপরতা প্রমাণ করতে।
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুসলমানকে ‘মুসলমানিত্ব’ বুঝতে হবে। ‘আশহাদু আন্না মুহম্মাদার রসূলুল্লাহ’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাক্বীক্বীভাবে বলতে হবে ও আমলে আনতে হবে।
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রতি বছর শুধু অসুস্থতার কারণে প্রায় ৬৪ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের শিকার হচ্ছে।
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রধানমন্ত্রী নিজেই ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেয়া শুরু করেছেন। বাতিল হয়েছে ‘রাষ্ট্রপতির’ সাথে ‘মহামান্য’ শব্দ ব্যবহারও।
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বাংলাদেশের সামরিক ব্যয় গত দশকগুলোতে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৃদ্ধি মূলত বেতন, স্থায়ী খরচ এবং চলমান পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়েছে। তবে সামরিক আধুনিকায়ন, সমরাস্ত্র ক্রয় এবং নতুন প্রযুক্তি সংযোজনের জন্য মোট বাজেটের মাত্র ২-৪ শতাংশ ব্যয় হয়েছে।
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ্র পরিক্রমায় চললেই সে প্রজ্ঞা পাওয়া সম্ভব ইনশাআল্লাহ
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক বৈদ্যুতিক সংকটকে আরো ঘণীভূত করেছে, দেশকে টাল-মাটাল করেছে আমেরিকান কোম্পানী এক্সিলারেট এনার্জি। তাদের ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটতরাজের টেকসই পরিকল্পনা।
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক বৈদ্যুতিক সংকটকে আরো ঘণীভূত করেছে, দেশকে টাল-মাটাল করেছে আমেরিকান কোম্পানী এক্সিলারেট এনার্জি। তাদের ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটতরাজের টেকসই পরিকল্পনা।
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আর ড্রোন সক্ষমতা বাড়াতে বাজেট মাত্র ৫৭০ কোটি টাকা!!!!!!!!!!!!!!
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
আর ড্রোন সক্ষমতা বাড়াতে বাজেট মাত্র ৫৭০ কোটি টাকা!!!!!!!!!!!
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












