সুওয়াল-জাওয়াব:
প্রসঙ্গ মূর্তি-ভাস্কর্য দ্বীন ইসলামে নিষিদ্ধ (৪)
, ০৭ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৩ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ২২ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ০৭ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
عَنْ حَضْرَتْ اُمِّ الْـمُوْمِنِيْنَ الثَّالِثَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ اَنَّهَا اِشْتَرَتْ نُمْرَقَةً فِيْهَا تَصَاوِيْرُ فَلَمَّا رَاٰهَا رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَامَ عَلَى الْبَابِ فَلَمْ يَدْخُلْ فَعَرَفَتْ فِىْ وَجْهِهِ الْكَرَاهِيَّةَ قَالَتْ فَقُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَتُوْبُ اِلَى اللهِ وَاِلٰى رَسُوْلِهِ مَا ذَا اَذْنَبْتُ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا بَالُ هٰذِهِ النُّمْرَقَةِ قُلْتُ اِشْتَرَيْتُهَا لَكَ لِتَقْعُدَ عَلَيْهَا وَتَوَسَّدَهَا فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِنَّ اَصْحَابَ هٰذِهِ الصُّوَرِ يُعَذَّبُوْنَ يَوْمَ الْقِيٰمَةِ يُقَالُ لَهُمْ اَحْيُوْا مَا خَلَقْتُمْ وَقَالَ اِنَّ الْبَيْتَ الَّذِىْ فِيْهِ الصُّوْرَةُ لَا تَدْخُلُهُ الْمَلٰئِكَةُ
অর্থ: “হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত, একবার তিনি একটি আসন খরিদ করলেন। তাতে প্রাণীর অনেকগুলো ছবি ছিল। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি (বাহির থেকে) সেটা দেখে; ঘরে প্রবেশ না করে দরজায় দাঁড়িয়ে রইলেন। আমি উনার চেহারা মুবারকে অসন্তুষ্টির ভাব দেখতে পেলাম। হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, তখন আমি বললাম, ইয়া রসূলাল্লাহ! ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের নিকট তওবা করছি। বলুন, অসন্তুষ্টির কি কারণ? তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, এই আসনটি কেন? আমি বললাম, আপনার বসার এবং বিছানা হিসেবে ব্যবহার করার জন্য আমি এটা খরিদ করেছি। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, এই সমস্ত ছবি যারা তৈরী করেছে, ক্বিয়ামতের দিন তাদেরকে শাস্তি দেয়া হবে এবং তাদেরকে বলা হবে, যা তোমরা বানিয়েছ তাতে জীবন দান কর, অতঃপর তিনি বললেন, হযরত ফেরেশ্তা আলাইহিমুস সালাম কখনো এমন ঘরে প্রবেশ করেন না, যেই ঘরে (প্রাণীর) ছবি থাকে।” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ, মিরকাত শরীফ)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের এতসব সুস্পষ্ট দলীল থাকার পরও উক্ত মুসলমান নামধারী কাট্টা মুনাফিক ব্যক্তিটি বলেছে, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম নাকি মূর্তির বিরুদ্ধে নয়। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ!
দ্বিতীয়ত: উম্মুল মু’মিনীন হযরত আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার বরাত দিয়ে উক্ত কাট্টা মুনাফিক বলেছে, তিনি নাকি পুতুল ব্যবহার করেছেন। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! এমনকি সে ‘বুখারী শরীফ’-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘ফতহুল বারী’-এর লেখক হযরত ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকেও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেছে। নাউযুবিল্লাহ!
অথচ মূর্তি, ছবি বা ভাস্কর্যকে জায়িয প্রমাণ করতে গিয়ে সে দলীল হিসেবে যে পবিত্র হাদীছ শরীফ উল্লেখ করেছে, উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফখানা মানসূখ (রহিত) হওয়ার ব্যাপারে সকলেই একমত। যেমন উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যায় ‘শরহুল কিরমানী আলাল বুখারী’তে উল্লেখ আছে-
قَوْلُهُ اَلْعَبُ بِالْبَنَاتِ اَىْ بِالتَّمَاثِيْلِ الْمُسَمَّاةِ بِلَعْبِ الْبَنَاتِ وَاسْتَدَّلَّ بِالْحَدِيْثِ عَلٰى جَوَازِ اِتِّخَاذِ اللَّعْبَةِ مِنْ اَجْلِ لَعْبِ الْبَنَاتِ بِهِنَّ وَخَصَّ ذٰالِكَ مِنْ عُمُوْمِ النَّهْىىِ عَنْ اِتِّخَاذِ الصُّوَرِ وَبِهِ جَزَمَ الْقَاضِىُ عَيَاضُ وَنَقَلَهُ عَنِ الْجُمْهُوْرِ قِيْسَ وَقِيْلَ اِنَّهُ مَنْسُوْخٌ بِحَدِيْثِ الصُّوَرِ
অর্থাৎ- শিশুদের জন্য খেলনা পতুল বা মূর্তি ব্যবহার করাকে বৈধ প্রমাণ করতে গিয়ে কেউ কেউ দলীল হিসেবে এ পবিত্র হাদীছ শরীফখানা পেশ করে থাকে। উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফখানা ছবি ও মূর্তি সম্পর্কিত অসংখ্য পবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আর এক্ষেত্রে হযরত কাজী আয়ায রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি জমহূর উলামায়ে কিরাম উনাদের উদ্ধৃতি দিয়ে গুরুত্ব সহকারে বর্ণনা করেছেন যে, বহু সংখ্যক পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের দ্বারা উক্ত হাদীছ শরীফখানা মানসূখ বলে সাব্যস্ত হয়েছে। অর্থাৎ এর হুকুম এখন আর বলবৎ নেই।” (হাশিয়াতুল বুখারী ২য় খ- ৯০৫ পৃষ্ঠা ৬নং হাশিয়াহ)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
প্রাণীর ছবি তোলা হারাম ও নাফরমানীমূলক কাজ
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
যেই ২৬ খানা আয়াত শরীফ বাদ দেয়ার জন্য ভারতের আদালতে রিট করেছিলো ইসলামবিদ্বেষীরা
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
১৩ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (১)
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কদমবুছী করা খাছ সুন্নত মুবারক
২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র “মাক্বামে মাহমূদ” উনার বেমেছাল তাফসীর বিষয়ে খারেজী জাহমিয়া ফিরকার মুখোশ উম্মোচন (২)
২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা হারাম ও নাজায়িজ
২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












