সুওয়াল-জাওয়াব:
প্রসঙ্গ মূর্তি-ভাস্কর্য দ্বীন ইসলামে নিষিদ্ধ (২)
, ২৩ মুহররম শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১০ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৯ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ২৫ আষাঢ়, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
সুওয়াল:
এক মুনাফিক কিছু বাতিল ও মনগড়া দলীল জোগাড় করে মূর্তিকে জায়িয প্রমাণ করার অপচেষ্টা করেছে। তার মূল বক্তব্য হচ্ছে, যে মূর্তিকে পূজা, আরাধনা, ইবাদত করা হয়, যেটা মানুষকে মুশরিক বানায়; সেটা নিষেধ। কিন্তু যে মূর্তিকে আরাধনা ইবাদত করা হয় না বরং যে মূর্তি সৌন্দর্য বাড়ায়, সুসজ্জিত করে সেটা নিষেধ নয়।
অতএব, উক্ত ব্যক্তির এ ধরণের যুক্তি কতটুকু ইসলামসম্মত? দলীলসহ জাওয়াব দিয়ে বিভ্রান্তি নিরসন করবেন।
জাওয়াব (২য় অংশ):
অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে- হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণনা করেন যে, একদিন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট এসে বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমরা ইহুদীদের থেকে তাদের কিছু ধর্মীয় কথা শুনে থাকি, যাতে আমরা আশ্চর্যবোধ করি, এর কিছু আমরা লিখে রাখবো কি? নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, আপনারাও কি দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন? যে রকম ইহুদী-নাছারারা দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন? অবশ্যই আমি আপনাদের নিকট পরিপূর্ণ, উজ্জ্বল ও পরিষ্কার দ্বীন নিয়ে এসেছি। হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনিও যদি হায়াতে থাকতেন, তাহলে আমাকে অনুসরণ করা উনার জন্য ফরয হতো। সুবহানাল্লাহ! (মুসনাদে আহমদ শরীফ, বাইহাক্বী শরীফ, মিশকাত শরীফ, মিরকাত শরীফ, আশয়াতুল লুময়াত, লুময়াত, শরহুত্ ত্বীবী, তালীকুছ ছবীহ্ ইত্যাদি)
প্রতিভাত হলো, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম আসার পর আর কোন দ্বীন-ধর্ম বা মতবাদের নিয়ম-নীতি, তর্জ-তরীক্বা, আইন-কানুন তা অতীতে সম্মানিত ওহী মুবারক দ্বারা নাযিলকৃত হোক অথবা অতীতে, বর্তমানে বা ভবিষ্যতে মানবরচিত হোক তা মুসলমানদের জন্য কখনো গ্রহণযোগ্য, অনুসরনীয় অনুকরণীয় বা আমলযোগ্য নয়। বরং তা সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাজ্য ও পরিহারযোগ্য। অর্থাৎ তা থেকে মুসলমানদের দূরে থাকা ফরয-ওয়াজিব উনাদের অন্তর্ভুক্ত।
উল্লেখ্য, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার উছূল বা দলীলসমূহ ৪ খানা। (এক) পবিত্র কুরআন শরীফ, (দুই) পবিত্র হাদীছ শরীফ, (তিন) পবিত্র ইজমা শরীফ, (চার) পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ।
অর্থাৎ মুসলমানদেরকে কোন কিছু করতে হলে উক্ত ৪ খানা দলীলের ভিত্তিতেই করতে হবে।
অতএব, যে ইতিহাস বা ঐতিহাসিকের বর্ণনা উক্ত সম্মানিত দলীল চুতষ্ঠয়ের মুখালিফ তা মোটেই অনুসরণীয়, অনুকরণীয়, গ্রহণযোগ্য এবং আমলযোগ্য নয়।
আরো উল্লেখ্য, পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে প্রসিদ্ধ মতে ৬৬৬৬ আয়াত শরীফ উনাদের মধ্যে এক হাজার আয়াত শরীফ ওয়াদা সংক্রান্ত, এক হাজার আয়াত শরীফ ভীতি প্রদর্শন সংক্রান্ত, এক হাজার আয়াত শরীফ আদেশ সংক্রান্ত, এক হাজার আয়াত শরীফ নিষেধ সংক্রান্ত, এক হাজার আয়াত শরীফ ঘটনা সংক্রান্ত, এক হাজার আয়াত শরীফ সংবাদপূর্ণ, পাঁচশ আয়াত শরীফ হালাম-হারাম তথা আহকাম সম্পর্কে, একশ আয়াত শরীফ দুআ ও তাসবীহ সংক্রান্ত এবং ছেষট্টি আয়াত শরীফ নাসিখ-মানসূখ সংক্রান্ত। (তাফসীরে কাশশাফ, মারাকিউল ফালাহ, হাশিয়ায়ে তাহতাবী আলা দুররিল মুখতার)
স্মরণীয় যে, হালাল-হারাম তথা আহকাম সাব্যস্তকারী পাঁচশ আয়াত শরীফ উনাদের অন্তর্ভুক্ত বিশেষ একখানা আয়াত শরীফ হচ্ছেন পবিত্র সূরা হজ্জ শরীফ উনার ৩০ নং পবিত্র আয়াত শরীফ। উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
فَاجْتَنِبُوا الرِّجْسَ مِنَ الْاَوْثَانِ
অর্থ: তোমরা মূর্তিসমূহের খারাবী, অপবিত্রতা, নাপাকী, নিষিদ্ধতা বা শাস্তি থেকে বেঁচে থাকো। (তাফসীরে আহকামুল কুরআন লিল জাসসাস)
...
অনুরূপ আরো একখানা পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
يَآ أَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنصَابُ وَالْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِّنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوْهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ
অর্থ: হে ঈমানদারগণ! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, মূর্তি, বেদী, ভাগ্য নির্ধারণকারী তীর এসবগুলোই শয়তানের কাজ। অতএব, এগুলো থেকে তোমরা বিরত থাকো। অবশ্যই তোমরা সফলতা লাভ করবে। (পবিত্র সূরা মায়িদাহ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৯০)
মূর্তি, প্রতিমা, ভাস্কর্য, ম্যানিকিন ও ছবি নাজায়িয ও হারাম এ সম্পর্কে বহু পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণিত রয়েছে।
যেমন এ সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ اَخْبَرَهُ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَ اِنَّ الَّذِيْنَ يَصْنَعُوْنَ هٰذِهِ الصُّوَرَ يُعَذَّبُوْنَ يَوْمَ الْقِيٰمَةِ يُقَالُ لَهُمْ اَحْيُوْا مَا خَلَقْتُمْ
অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যারা প্রাণীর মূর্তি তৈরী করবে, ক্বিয়ামতের দিন তাদের কঠিন শাস্তি দেয়া হবে এবং তাদেরকে বলা হবে, যে মূর্তিগুলো তোমরা তৈরী করেছ, সেগুলোর মধ্যে প্রাণ দান করো।” (বুখারী শরীফ ২য় জি:, ৮৮০ পৃষ্ঠা, মুসলিম শরীফ ২য় জি:, ২০১ পৃষ্ঠা)
عَنْ حَضْرَتْ اَبِىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلَ قَالَ اللهُ تَعَالٰى وَمَنْ اَظْلَمُ مِمَّنْ ذَهَبَ يَخْلُقُ كَخَلْقِىْ
অর্থ: “হযরত আবু হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলতে শুনেছি যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, মানুষের মধ্যে ঐ ব্যক্তি অধিক অত্যাচারী, যে ব্যক্তি আমার সৃষ্টির সাদৃশ্য কোন প্রাণীর ছূরত বা আকৃতি তৈরী করে।” নাউযুবিল্লাহ! (মিশকাত শরীফ ৩৮৫ পৃষ্ঠা)
عَنْ حَضْرَتْ اُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةِ عَائِشَةَ الصِّدِّيْقَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ عَنِ النَّبِّىِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اِنَّ اَشَدَّ النَّاسِ عَذَابًا يَّوْمَ الْقِيٰمَةِ اَلَّذِيْنَ يُضَاهُوْنَ بِخَلْقِ اللهِ
অর্থ: “হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “নিশ্চয়ই ক্বিয়ামতের দিন ঐ ব্যক্তির কঠিন শাস্তি হবে, যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার সৃষ্টির সাদৃশ্য কোন প্রাণীর ছূরত বা আকৃতি তৈরী করবে।” নাউযুবিল্লাহ! (মিশকাত শরীফ ৩৮৫ পৃষ্ঠা)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
প্রসঙ্গ: সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
২৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
২৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
২৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরুত তাশরীফ মুবারক প্রকাশ (বিলাদতী শান মুবারক) ও পবিত্র নূরুর রিহালাহ শরীফ (বিছালী শান মুবারক) প্রকাশের তারিখ ও সময় নিয়ে ইখতিলাফের জওয়াব
২৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
২৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা পালন করা নারী-পুরুষ সকলের জন্যই শান্তি ও পবিত্রতা হাছিলের কারণ
২৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল হাদী আশার মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত কারামত ও কামালত মুবারক
২৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত আন নূরুর রবি’ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত বিছালী শান মুবারক প্রকাশের দিন সূর্য শোক প্রকাশ করেছিল!
২৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সর্বশ্রেষ্ঠ রাত পবিত্র লাইলাতুল মাওলিদ (মহাপবিত্র নূরুত তাশরীফ উনার রাত মুবারক) আজ থেকে প্রায় ৭০০ বছর আগের শ্রেষ্ঠত্বের পক্ষে দলীলসমূহ (১ম পর্ব)
২৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা হারাম ও নাফরমানীমূলক কাজ
২৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












