দ্বীনি তা’লীম:
পুরুষ ও মহিলাদের নামাযে পদ্ধতিগত পার্থক্য (৫)
, ০১ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ৩০ ছানী আ’শার, ১৩৯২ শামসী সন , ২৯ মে, ২০২৫ খ্রি:, ১৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) মহিলাদের পাতা
প্রসিদ্ধ কয়েকজন তাবেয়ীনে কিরাম উনাদের ফতওয়া:
سَمِعْتُ عَطَاءً رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ سُئِلَ عَنِ الْمَرْأَةِ كَيْفَ تَرْفَعُ يَدَيْهَا فِي الصَّلاَةِ ؟ قَالَ: حَذْوَ ثَدْيَيْهَا.
অর্থ: হযরত আতা বিন আবী রাবাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে একদিন জিজ্ঞেস করা হলো, “নামাযে মহিলারা কতটুকু হাত উঠাবে?” তিনি বললেন- “বুক বরাবর”। (মুছান্নাফে ইবনে আবী শাইবা-১/২৭০, হাদীছ শরীফ নং-২৪৮৬)
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ جُرَيْجٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ، قَالَ: قُلْتُ لِعَطَاءٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ: تُشِيرُ الْمَرْأَةُ بِيَدَيْهَا بِالتَّكْبِيرِ كَالرَّجُلِ ؟ قَالَ: لاَ تَرْفَعُ بِذَلِكَ يَدَيْهَا كَالرَّجُلِ، وَأَشَارَ فَخَفَضَ يَدَيْهِ جِدًّا، وَجَمَعَهُمَا إلَيْهِ جِدًّا، وَقَالَ: إنَّ لِلْمَرْأَةِ هَيْئَةً لَيْسَتْ لِلرَّجُلِ
অর্থ: হযরত ইবনে জুরাইজ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “আমি হযরত আতা বিন আবী রাবাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে জিজ্ঞেস করলাম, “মহিলারা তাকবীরের সময় পুরুষের সমান হাত তুলবেন?” তিনি বললেন, “মহিলারা পুরুষের ন্যায় হাত তুলবেন না। এরপর তিনি উনার উভয় হাত মুবারক (পুরুষ অপেক্ষা) অনেক নিচুতে রেখে শরীরের সাথে খুব মিলিয়ে রাখলেন এবং বললেন, মহিলাদের পদ্ধতি পুরুষ থেকে ভিন্ন। (মুছান্নাফে ইবনে আবী শাইবা-১/২৭০, হাদীছ শরীফ নং-২৪৮৯, মুছান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদীছ শরীফ নং-৫০৬৬, ৬২৫১)
عَنْ حَضْرَتْ مُجَاهِدٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ أَنَّهُ كَانَ يَكْرَهُ أَنْ يَّضَعَ الرَّجُلُ بَطْنَهُ عَلَى فَخِذَيْهِ إذَا سَجَدَ كَمَا تَصْنَعُ الْمَرْأَةُ.
অর্থ: হযরত মুজাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণিত। তিনি পুরুষের জন্য মহিলার মত উরুর সাথে পেট লাগিয়ে সিজদা করাকে অপছন্দ করতেন। (মুছান্নাফে ইবনে আবী শাইবা-১/৩০২, হাদীছ শরীফ নং-২৮৯৬)
عَنْ حَضْرَتِ الزُّهْرِيِّ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ، قَالَ: تَرْفَعُ يَدَيْهَا حَذْوَ مَنْكِبَيْهَا.
অর্থ: হযরত শিহাব যুহরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “মহিলারা কাঁধ পর্যন্ত হাত উঠাবেন। (মুছান্নাফে ইবনে আবী শাইবা-১/২৭০, হাদীছ শরীফ নং-২৪৮৭)
عَنْ حَضْرَتِ الْحَسَنِ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ، وَقَتَادَةَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ، قَالَا: إِذَا سَجَدَتِ الْمَرْأَةُ فَإِنَّهَا تَنْضَمُّ مَا اسْتَطَاعَتْ، وَلَا تَتَجَافَى لِكَيْ لَا تَرْفَعَ عَجِيزَتَهَا.
অর্থ: হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং হযরত কাতাদা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা বলেন, “মহিলারা যখন সিজদা করবেন তখন যথাসম্ভব জড়সড় হয়ে থাকবেন। অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ফাঁকা রেখে সিজদা দিবেন না। যাতে কোমর উঁচু হয়ে না থাকে”। (মুছান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক-৩/১৩৭, হাদীছ শরীফ নং-৫০৬৮, মুছান্নাফে ইবনে আবী শাইবা-১/৩০৩)
عَنْ حَضْرَتْ إبْرَاهِيمَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ إذَا سَجَدَتِ الْمَرْأَةُ فَلْتَضُمَّ فَخِذَيْهَا، وَلْتَضَعْ بَطْنَهَا عَلَيهم.
অর্থ: হযরত ইবরাহীম নাখয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, মহিলারা যখন সিজদা করবেন তখন যেন উভয় উরু মিলিয়ে রাখেন এবং পেট উরুর সাথে মিলিয়ে রাখেন। (মুছান্নাফে ইবনে আবী শাইবা-১/৩০২, হাদীছ শরীফ নং-২৭৯৫)
عَنْ حَضْرَتْ إِبْرَاهِيمَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ: كَانَتْ تُؤْمَرُ الْمَرْأَةُ أَنْ تَضَعَ ذِرَاعَهَا وَبَطْنَهَا عَلَى فَخِذَيْهَا إِذَا سَجَدَتْ، وَلَا تَتَجَافَى كَمَا يَتَجَافَى الرَّجُلُ، لِكَيْ لَا تَرْفَعْ عَجِيزَتَهَا.
অর্থ: হযরত ইবরাহীম নাখয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আরো বলেন, “মহিলাদের আদেশ করা হয়েছে, উনারা যেন সিজদা অবস্থায় হাত ও পেট উরুর সাথে মিলিয়ে রাখেন। পুরুষের মত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ফাঁকা না রাখেন। যাতে কোমর উঁচু হয়ে না থাকে। (মুছান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক-৩/১৩৭, হাদীছ শরীফ নং-৫০৭১)
عَنْ حَضْرَتْ خَالِدِ بْنِ اللَّجَّاجِ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ: كُنَّ النِّسَاءُ يُؤْمَرْنَ أَنْ يَتَرَبَّعْنَ إذَا جَلَسْنَ فِي الصَّلاَةِ، وَلاَ يَجْلِسْنَ جُلُوسَ الرِّجَالِ عَلَى أَوْرَاكِهِنَّ، يُتَّقي ذَلِكَ عَلَى الْمَرْأَةِ، مَخَافَةَ أَنْ يَّكُونَ مِنْهَا الشَّيءُ.
অর্থ: হযরত খালেদ বিন লাজ্জাজ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “মহিলাদেরকে আদেশ করা হয়েছে, তারা যেন নামাযে বসার সময় দুই পা ডান দিক দিয়ে বের করে নিতম্বের উপর বসে। পুরুষদের মত না বসে। আবরণযোগ্য কোন কিছু প্রকাশিত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় মহিলাদেরকে এমনি করতে হয়। (মুছান্নাফে ইবনে আবী শাইবা-১/৩০৩, হাদীছ শরীফ নং-২৭৯৯)
উল্লেখিত বর্ণনাগুলি ছাড়াও আইম্মায়ে তাবেয়ীনের আরো অনেক বর্ণনা এমন আছে যা মহিলা-পুরুষের নামাযের পার্থক্য নির্দেশ করে। পক্ষান্তরে একজন তাবেয়ী থেকেও এর বিপরীত কোন বক্তব্য প্রমাণিত নয়।
-আল্লামা সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালিম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহিলাদের সুন্নতী লিবাস, অলংকার ও সাজ-সজ্জা (১০)
৩১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হাশরের ময়দানে যে ৫টি প্রশ্নের উত্তর প্রত্যেককেই দিতে হবে
৩১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
৩১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ মহিলাদের মুখমন্ডল বা চেহারা খোলা রাখা (২)
৩০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সর্বক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রাধান্য দিতে হবে
৩০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
৩০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
তালাক দেয়ার অধিকারী কে? চেয়ারম্যান-মেম্বার নাকি আহাল বা স্বামী ? (১)
২৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের সম্পর্কে কটূক্তি করা কাট্টা কুফরী
২৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদব-শরাফত বজায় রাখতে হবে
২৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
২৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তিন ধরনের লোক বেহেশতে প্রবেশ করবে না
২৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বালক ইমাম উনার সূক্ষ্ম সমঝ!
২৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












