পাঠক কলাম:
পর্দানশীন নারীদের মানবাধিকার থাকতে নেই?
, ১৭ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) মহিলাদের পাতা
(ঘটনা-১)
সালমা বেগম (ছদ্মনাম) একজন পর্দানশীন নারী। কুরআন-সুন্নাহ মেনে পর্দা করেন বিধায় তিনি কখনও গাইরে মাহরাম পুরুষকে চেহারা দেখাননি। শুধু তাই নয়, মুখম-লের ছবি তুললে সেটাও গাইরে মাহরামের কাছে যাবে বিধায় তিনি ছবি তুলেননি। আর ছবি না তোলার কারণে তিনি জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডিও করতে পারেননি। কিন্তু এনআইডি না থাকায় তিনি প্রতিনিয়ত নানাবিধ সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন। যেমন-
- দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে তিনি টিসিবি থেকে পণ্য নিতে চান। কিন্তু এনআইডি না থাকায় তিনি টিসিবি থেকে পণ্য নিতে পারছেন না।
- বাসা ভাড়া নিতে গেলে বাড়িওয়ালাকে এনআইডি কার্ড দেখাতে হয়, কিন্তু সেটা না থাকায় বাসা ভাড়া নিতে তার কষ্ট হয়।
- এনআইডি না থাকায় তিনি কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারছেন না।
- পরিবারের স্বচ্ছলতার জন্য পর্দার সহিত তিনি কোথাও চাকুরী করতে চান। কিন্তু এনআইডি না থাকায় তাকে কেউ চাকুরীতে নেয় না।
- হাসপাতালে স্বাস্থ্য সেবা (যেমন-টিকা) নিতে গেলে এনআইডি লাগে। কিন্তু সেটা না থাকায় তিনি ঠিকমত স্বাস্থ্য সেবা নিতে পারছেন না।
- তিনি ট্রেনে করে যাতায়াত করতে গিয়ে দেখলেন আইডি কার্ড ছাড়া তিনি টিকিট কাটতে পারছেন না।
- বন্যার সময় সরকারি ত্রাণ নিতে গিয়ে দেখলেন, আইডি কার্ড ছাড়া তাকে ত্রাণ দিচ্ছে না।
- বাবার পেনশনের টাকা তুলতে গিয়ে দেখলেন আইডি কার্ড ছাড়া পেনশনের টাকা বন্ধ।
- ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি নিজের নামে রেজিস্ট্রি করতে পারছেন না। খুব আর্থিক সংকট হলে বিক্রিও করতে পারছেন না।
- নিজের নামে মোবাইল সিম তুলতে পারছেন না।
- বিয়ের সময় কাবিননামা করতে নাকি এনআইডি লাগে। সেটা তো নেই।
- কোন কারণে আইনের দারস্থ হতে হলেও সে সুযোগ নেই। কারণ মামলা-মোকাদ্দমা করতে এনআইডি লাগে।
বাংলাদেশের সংবিধানে- রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে ১২ অনুচ্ছেদে বলা আছে, “কোন বিশেষ ধর্ম পালনকারী ব্যক্তির প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য করবে না।”
সংবিধানে বর্ণিত মৌলিক অধিকার অধ্যায়ে ২৮ (১) অনুচ্ছেদেও একই কথা বলা হয়েছে, “কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারীপুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করিবেন না।”
সংবিধানের এ ধারা মানতে কিছুদিন আগে খ্রিস্টানদের মধ্যে প্রোটেস্ট্যান্ট নামক একটি দলের মধ্যে ‘সেভেন্থ ডে এডভান্টিস্ট’ নামক উপদলের একটি ছেলেকে বাংলাদেশের শিক্ষাবোর্ড পৃথক পরীক্ষা পদ্ধতির ব্যবস্থা করে। ‘সেভেন্থ ডে এডভান্টিস্টদের ধর্মীয় বিশ্বাসে সূর্য ডোবার আগে পড়ালেখা নিষিদ্ধ। তাই তাদের ধর্মবিশ্বাস অনুসারেই সন্ধ্যার পর শুধু তার জন্য পৃথক পরীক্ষা ব্যবস্থা করে রাষ্ট্র।
আশ্চর্যজনক বিষয় হচ্ছে, খ্রিস্টান একটি মাত্র ছেলের জন্য পৃথক পদ্ধতির ব্যবস্থা করা হলেও বাংলাদেশে অসংখ্য পর্দানশীন মা-বোনদের জন্য পৃথক কোন আইডি কার্ডের ব্যবস্থা করা হয়নি। আরো আর্শ্চযজনক বিষয় হচ্ছে, যে ছবির জন্য পর্দানশীন নারীরা আইডি কার্ড নিতে পারছেন না, “জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন, ২০১০” আইনে একজন ব্যক্তিকে শনাক্তকরণে ছবিকে মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি, গ্রহণ করা হয়েছে বায়োমেট্রিক ফিচারকে। কিন্তু তারপরও শুধু গায়ের জোরে জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য ছবি চাওয়া হচ্ছে, আর সেকারণে সালমা বেগমের মত অসংখ্য পর্দানশীন নারী বঞ্চিত হচ্ছেন মৌলিক ও রাষ্ট্রীয় অধিকার থেকে। ছবির মত একটি অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত নিয়মের ফলে কত সালমা বেগমের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে তার হিসেব কে রাখবে? পুরো দেশে কি তার কোন জরিপ আছে?
(ঘটনা-২)
প্রচ- গরমে কোট, প্যান্ট, টাই, গাউন পরে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে আইনজীবিরা। গত মাসে একজন আইনজীবি হিটস্ট্রোক করে মারাও গেছে। প্রচ- গরমে তাই এ ধরনের পোশাক পরিবর্তনের দাবী করেছেন অনেক আইনজীবি।
প্রসঙ্গক্রমে বলতে হচ্ছে, রাজারবাগ দরবার শরীফের লোকরা সব সময় আখেরী রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অনুসরণ করে সুন্নতি কোর্তা, সুন্নতি পাগড়ী, সুন্নতি ইযার বা লুঙ্গি, সাদা রুমাল পরিধান করে। এটা দেখে এক শ্রেনীর লোককে প্রায় বলতে শুনি, “এটা তো আরবের পোশাক। আরবের গরম আবহাওয়ার সাথে মিল রেখে এই পোশাক বানানো হয়েছে।” - যদিও তাদের এ ধরনের কথা ভুল। কারণ আরব জাতীয়তাবাদীদের পোশাক আর সুন্নতি পোশাক এক না। বহু পার্থক্য আছে। হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পোশাক আশাকে আরবের জাতীয় পোশাক গ্রহণ করেননি। উনার পোশাকে নিজস্বতা ছিলো এবং সেইটাই সুন্নত হিসেবে মুসলমানরা গ্রহণ করেছে। এজন্য মধ্যপ্রাচ্যে যে ধরনের পোশাক পরা হয়, সেটার সাথে প্রকৃত সুন্নতি পোশাকের মিল নেই। কারণ বর্তমান মধ্যপ্রাচ্যে যে পোশাক পরিধান করে সেটা আরব জাতীয়তাবাদী পোশাক, সৌদি, কুয়েত, কাতার, আরব আমিরাতের লোকজন সেটা পরিধান করে। তাদের পোশাককে আরবের পোশাক বলা যায়, কিন্তু সুন্নতি পোশাক বলা যায় না।
যাই হোক, যেই প্রসঙ্গে শুরু করেছিলাম। যেই শ্রেণীটা সুন্নতি পোশাককে আরবী পোশাক বলে হেয় করতে চায়, তাদেরকে কখনও দেখিনি কোট-প্যান্ট-টাই-গাউনের বিরুদ্ধে বলতে। কখন বলতে দেখিনি, “এগুলো শীতের দেশের পোশাক, এগুলো আমাদের মত গরমের দেশে চলে না”। বরং ‘একদিন ব্রিটিশদের গোলাম ছিলাম রে’-এই গান প্রমাণ করতে স্কুল-কলেজ-বিয়ে-শাদী সবকিছুর ফর্মাল পোশাক বানিয়ে ফেলেছে এই কোর্ট-প্যান্ট-টাইকে। যার ফলশ্রুতিতে প্রচ- দাবদাহেও খুলতে পারছে না কোর্ট-প্যান্ট-টাই। আর তাতেই গরমে হিটস্ট্রোকে মরনের দশা হয়েছে।
-উম্মু আমিম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হজ্জে মাবরুর বা মকবুল হজ্জ পালন করতে হলে কি কি থাকা শর্ত (১)
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পারিবারিক জীবনে একটি মারাত্মক ভুল যার সংশোধন নেই (২)
২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
একজন উত্তম নারীর গুণাবলী
২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
তওবা
২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মুসলমানদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণনা
২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তিন ধরনের লোক বেহেশ্তে প্রবেশ করবে না
২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
হযরত তামাযির খুনসা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা
২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যে ৪ শ্রেণীর লোকদের জন্য ক্বিয়ামতের দিন সুপারিশ ওয়াজিব হবে
২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












