পবিত্র সূরা দুখান শরীফে বর্ণিত লাইলাতুম মুবারকাই হচ্ছে পবিত্র শবে বরাত; যে রাত্রি মুবারকে সমস্ত প্রজ্ঞাময় বিষয়সমূহের ফায়ছালা করা হয় (৪)
, ১লা রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২১ তাসি, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ০৬ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
পবিত্র শবে ক্বদরে পবিত্র কুরআন শরীফ কোথায় নাযিল করা হয়েছে?
পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, পবিত্র শবে ক্বদরে পবিত্র কুরআন শরীফ নাযিল করা হয়েছে। তবে কতটুকু, কোথায়, কিভাবে নাযিল করা হয়েছে সেটা সুস্পষ্ট বলা হয়নি। মূলত পবিত্র শবে ক্বদরে লাওহে মাহফূয থেকে প্রথম আসমানে বাইতুল ইয্যত নামক একটি হুজরা শরীফ রয়েছে সেখানে পুরো পবিত্র কুরআন শরীফ একত্রে নাযিল করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে রঈসুল মুফাসসিরীন হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন-
اَنْزَلَ اللهُ الْقُرْاٰنَ اِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا فِىْ لَيْلَةِ الْقَدْرِ فَكَانَ اللهُ اِذَا اَرَادَ اَنْ يُّوْحِىَ مِنْهُ شَيْئًا اَوْحَاهُ فَهُوَ قَوْلُه {اِنَّا اَنْزَلْنَاهُ فِىْ لَيْلَةِ الْقَدْرِ}
অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র শবে ক্বদরে দুনিয়ার আসমানে পবিত্র কুরআন শরীফ নাযিল করেন। এরপর যখন মহান আল্লাহ পাক তিনি সেখান থেকে কোনো ওহী মুবারক করার ইচ্ছা মুবারক করেছেন তখন ওহী মুবারক করেছেন। যেমন মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘আমি পবিত্র শবে ক্বদরে পবিত্র কুরআন শরীফ নাযিল করেছি’।” সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে ত্ববারী ৩/১৯০)
কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে-
وَلَا خِلَافَ اَنَّ الْقُرْاٰنَ اَنْزَلَ مِنَ اللَّوْحِ الْمَحْفُوْظِ لَيْلَةَ الْقَدْرِ عَلٰى مَا بَيْنَاهُ جُمْلَةً وَاحِدَةً فَوَضَعَ فِىْ بَيْتِ الْعِزَّةِ فِىْ سَمَاءِ الدُّنْيَا ثُمَّ كَانَ حَضْرَتْ جِبْرِيْلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ يَنْزِلُ بِهِ نَجْمًا نَجْمًا فِى الْاَوَامِرِ وَالنَّوَاهِىِّ وَالْاَسْبَابِ وَذٰلِكَ فِىْ عِشْرِيْنَ سَنَةً وَقَالَ حَضْرَتْ اِبْنُ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ اَنْزَلَ الْقُرْاٰنَ مِنَ اللَّوْحِ الْمَحْفُوْظِ جُمْلَةً وَاحِدَةً اِلَى الْكُتُبَةِ فِىْ سَمَاءِ الدُّنْيَا ثُمَّ نَزَلَ بِهِ حَضْرَتْ جِبْرِيْلُ عَلِيْهِ السَّلَامُ نُجُوْمًا
অর্থ: আর এ বিষয়ে কোনো মতপার্থক্য নেই যে, পবিত্র কুরআন শরীফ সম্মানিত লাওহে মাহফূয থেকে একসাথে নাযিল হয়েছেন। অতঃপর প্রথম আসমানে অবস্থিত পবিত্র বাইতুল ইয্যত নামক হুজরা শরীফে রাখা হয়েছে। এরপর (মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত নির্দেশ মুবারক অনুযায়ী) হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি সেখান থেকে ভাগে ভাগে আদেশ, নিষেধ এবং বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে নাযিল করেছেন। পবিত্র কুরআন শরীফ দীর্ঘ ২০ বছর ধরে অর্থাৎ ২৩ বছরে নাযিল হয়েছেন। হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বলেন, পবিত্র শবে ক্বদরে লাওহে মাহফূয থেকে দুনিয়ার আসমানে একসাথে পুরো পবিত্র কুরআন শরীফ নাযিল হয়েছেন। এরপর মহান আল্লাহ পাক উনার ইচ্ছা মুবারক অনুযায়ী হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি সেখান থেকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট ভাগে ভাগে নিয়ে এসেছেন। সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে কুরতুবী ২/২৯৭)
বুঝা গেলো, পবিত্র শবে ক্বদরে পবিত্র কুরআন শরীফ নাযিল হওয়ার মর্মার্থ হচ্ছে- সম্মানিত লাওহে মাহফূয থেকে দুনিয়ার আসমানে অবস্থিত ‘বাইতুল ইয্যত শরীফ’ নামক হুজরা শরীফে পুরো পবিত্র কুরআন শরীফ একত্রে নাযিল করা হয়েছে।
-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সম্মানিত হানাফী মাযহাবে ছদক্বাতুল ফিতর উনার অকাট্য দলীল (৪)
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যেই ২৬ খানা আয়াত শরীফ বাদ দেয়ার জন্য ভারতের আদালতে রিট করেছিলো ইসলামবিদ্বেষীরা
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে মানহানীকারীদের যুগে যুগে ভয়াবহ পরিণতি (৪৩)
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যাকাত সম্পর্কিত আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (১৫)
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা হারাম ও নাফরমানীমূলক কাজ
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মু’তাকিফ ব্যক্তি উনাদের জন্য তিনটি সুসংবাদ
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত হানাফী মাযহাবে ছদক্বাতুল ফিতর উনার অকাট্য দলীল (৩)
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র সূরা দুখান শরীফে বর্ণিত লাইলাতুম মুবারকাই হচ্ছে পবিত্র শবে বরাত; যে রাত্রি মুবারকে সমস্ত প্রজ্ঞাময় বিষয়সমূহের ফায়ছালা করা হয় (৭)
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া কবীরা গুনাহ
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












