সুন্নত মুবারক তা’লীম
পবিত্র সুন্নতী লিবাস ও পবিত্র লিবাসুত তাক্বওয়া দু’টি আলাদা পোশাক একটি হলো- জাহেরী সুন্নাহ লিবাস মুবারক; অন্যটি হলো- অন্তরের তাক্বওয়া হাছিলের লিবাস মুবারক (১)
, ২১শে রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ২৫ ছামিন, ১৩৯২ শামসী সন , ২২ জানুয়ারী, ২০২৫ খ্রি:, ০৮ মাঘ, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
যিনি খালিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَلَوْ أَنَّهُمْ آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَمَثُوبَةٌ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ خَيْرٌ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ
অর্থ: যদি তারা পবিত্র ঈমান আনয়ন করতো এবং তাক্বওয়া হাসিল করতো, তাহলে যিনি খালিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদেরকে উনার পক্ষ থেকে সর্বোত্তম পোশাক পরিধান করাতেন। যদি তারা এ সম্পর্কে জানত। (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১০৩)
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
يا بَني آدَمَ قَد أَنزَلنا عَلَيكُم لِباسًا يُواري سَوآتِكُم وَريشًا. وَلِباسُ التَّقوى ذلِكَ خَيرٌ
অর্থ: হে বনী-আদম আমি তোমাদের জন্যে (পবিত্র সুন্নতী) পোশাক অবর্তীণ করেছি, যার দ্বারা তোমরা তোমাদের সতরকে আবৃত করবে এবং সৌন্দর্যম-িত হবে। আর সম্মানিত তাক্বওয়া বা পরহেযগারী উনার পোশাকই সর্বোত্তম পোশাক মুবারক। (পবিত্র সূরা আ’রাফ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২৬)
অত্র মহাসম্মানিত মহাপবিত্র আয়াত শরীফে উল্লেখিত سَوْءَاتِكُمْ শব্দ মুবারক উনার পরে হরফে আত্বফ ওয়াও উল্লেখ রয়েছে ও رِيشًا শব্দ মুবারক উনার পরে এবংلِبَاسُ التَّقْوَىَ শব্দ মুবারক উনার পূর্বে وَ (ওয়াও) হরফে আ’ত্বফ উল্লেখ রয়েছে।
আ’ত্বফ তখন করা হয়, যখন ভিন্ন ভিন্ন বিষয় হয়। অর্থাৎ عَطْفُ الشَّيْئِ تَغَايُر الشّيْئِকোন কিছুর উপর আ’ত্বফ তখন করা হয়, যখন বিষয়গুলি ভিন্ন ভিন্ন হয়। অর্থাৎ একই জাতীয় বস্তু বা বিষয়ের ক্ষেত্রে আ’ত্বফ হয় না। সুতরাং উপরোল্লেখিত পবিত্র সূরা আ’রাফ শরীফ উনার ২৬ নং আয়াত শরীফে মহান আল্লাহ পাক তিনি তিন প্রকার পোশাক মুবারক উনার কথা উল্লেখ করেছেন, তা হলো:
১। يُواري سَوآتِكُم বাক্য মুবারক উনার দ্বারা সতরকে আবৃত করার পোশাক মুবারক অর্থাৎ ফরয পরিমাণ পোশাক।
২। ريشًا : শব্দ মুবারক দ্বারা مَا يَتَجَمَّلُ بِه مِنَ الثَّيَابِ বা সৌন্দর্যম-িত পোশাক অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র সুন্নতী পোশাক মুবারক।
৩। :لِباسُ التَّقوى বাক্য মুবারক উনার দ্বারা তাক্বওয়া বা খোদাভীতি উনার পোশাক মুবারক। যা মূলত: জাহিরী সুন্নাহ লিবাস মুবারক নয়। বরং তাযকিয়ায়ে ক্বলব বা অন্তরের পবিত্রতার খোদাভীতিমূলক চাদর বা পোশাক মুবারক। (চলবে)
-মুহম্মদ মুফীদ্বুর রহমান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (২)
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (১)
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (৯)
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কিছ্ছা
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ফলমূল খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক পালন করা ফরয
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ফলমূল খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার পরিচয় ও প্রকারভেদ (২)
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার পরিচয় ও প্রকারভেদ (১)
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
কোনো ব্যক্তির উপর সূর্য উদিত হয়নি, যে ব্যক্তি সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার থেকে উত্তম
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পুরুষের জন্য দাড়ি ও গোঁফ রাখার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নতী তারতীব মুবারক
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
“পেট পূর্ণ করে নয়, বরং পেটের এক-তৃতীয়াংশ আহার করাই মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক।”
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












