পবিত্র সুন্নতী লিবাস ও পবিত্র লিবাসুত তাক্বওয়া দু’টি আলাদা পোশাক একটি হলো- জাহেরী সুন্নাহ লিবাস মুবারক; অন্যটি হলো- অন্তরের তাক্বওয়া হাছিলের লিবাস মুবারক (২)
, ২২শে রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ২৬ ছামিন, ১৩৯২ শামসী সন , ২৩ জানুয়ারী, ২০২৫ খ্রি:, ০৯ মাঘ, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
পূর্বে প্রকাশিতের পর.......
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَت الْحسن رَحْمَةُ اللّهِ عَلَيْهِ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم مَا من عبد عمل خيرا أَو شرا إِلَّا كسى رِدَاء عمله حَتَّى يعرفوه وتصديق ذَلِك فِي كتاب الله ولباس التَّقْوَى ذَلِك خير
অর্থ: হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, প্রত্যেক বান্দাই সে নেক কাজ করুক বা বদ কাজ করুক তাকে তার আমল অনুযায়ী একটি চাদর পরিধান করানো হয়। এমনকি সে লোকজনের কাছে ঐ নামেই পরিচিত হয়। তার প্রমাণ হলো যিনি খালিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন সম্মানিত তাক্বওয়া বা পরহেযগারী উনার পোশাকই সর্বোত্তম পোশাক মুবারক। (আদ দুররুল মানছূর ফী তাফসীরিল মা’ছূর ৩/৪৩৫)
উল্লেখিত মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ থেকেও প্রমাণিত খোদা ভীতি অর্জনের মাধ্যমে যে মর্যাদা অর্জন করে ঐ মর্যাদাকেই লিবাসুত তাক্বওয়া বা খোদা ভীতির চাদর বলা হয়েছে। যা তাক্বওয়া অর্জনের স্তর অনুযায়ী, তাক্বওয়া অর্জনকারীকে পরিধান করিয়ে দেয়া হয়।
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَت الْحسن رَحْمَةُ اللّهِ عَلَيْهِ قَالَ رَأَيْت حَضْرَت عُثْمَان عَلَيْه السَّلَام على الْمِنْبَر قَالَ يَا أَيهَا النَّاس اتَّقوا الله فِي هَذِه السرائر فَإِنِّي سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول وَالَّذِي نفس مُحَمَّد بِيَدِهِ مَا عمل أحد عملا قطّ سرا إِلَّا ألبسهُ الله رِدَاءَهُ عَلَانيَة إِن خيرا فَخير وَإِن شرا فشر ثمَّ تَلا هَذِه الْآيَة {وريشا} وَلم يقل وريشاً {ولباس التَّقْوَى ذَلِك خير}
অর্থ: হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হযরত যূন নুরাইন আলাইহিস সালাম উনাকে উনার মিম্বর শরীফে বসা অবস্থায় দেখতে পেয়েছি। তিনি বলেন, হে মানব সকল! গোপন আমলগুলির ব্যাপারে যিনি খালিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করুন। কেননা, নিশ্চয়ই আমি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ইরশাদ মুবারক করতে শুনেছি যে, সেই মহান সত্ত্বা মুবারক উনার কসম, যার কুদরতী হাত মুবারকে আমার নূরুল আমর (প্রাণ) মুবারক। যখনই কোন বান্দা সে গোপনে কোন আমল করে, তখন যিনি খালিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে গোপনীয় একটি চাদর পরিধান করিয়ে দেন। যদি উক্ত আমলটি নেক আমল হয়, তাহলে তো সর্বোত্তম আমল হবে। আর যদি বদ আমল হয়, তখন উক্ত আমলটি নিকৃষ্ট আমল হবে। অতঃপর তিনি অত্র আয়াত শরীফ তিলাওয়াত করেন-
يا بَني آدَمَ قَد أَنزَلنا عَلَيكُم لِباسًا يُواري سَوآتِكُم وَريشًا وَلِباسُ التَّقوى ذلِكَ خَيرٌ ذلِكَ مِن آياتِ اللَّهِ لَعَلَّهُم يَذَّكَّرونَ
কিন্তু তিনি পবিত্র আয়াত শরীফে উল্লেখিত وَريشًا শব্দ মুবারক উল্লেখ করেন নাই। (কানযুল উম্মাল ৩/৬৭৪, জামউল জাওয়ামি’ ১৭/৩২, আদ দুররুল মানছূর ফী তাফসীরিল মা’ছূর ৩/৪৩৫)
উল্লেখিত মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ থেকেও প্রমাণিত খোদা ভীতি অর্জনের মাধ্যমে যে মর্যাদা অর্জন করে ঐ মর্যাদা অনুসারে তাকে একটি গোপনীয় চাদর পরিধান করিয়ে দেয়া হয়। আর সম্মানিত তাক্বওয়া উনার ঐ চাদর মুবারককেই লিবাসুত তাক্বওয়া বা খোদা ভীতির পোশাক বলা হয়েছে। যা তাক্বওয়া অর্জনের স্তর অনুযায়ী, তাক্বওয়া অর্জনকারীকে পরিধান করিয়ে দেয়া হয়। এটাই হলো সর্বোত্তম পোশাক। কেননা, বাহ্যিক পোশাক পরিধান করলেই অন্তরের তাক্বওয়া হাছিল হয়ে যায় না। যার কারণে তাক্বওয়াবিহীন বাহ্যিক পোশাক সর্বোত্তম পোশাক নয়, বরং তাক্বওয়াসহ বাহ্যিক পোশাকই হলো সর্বোত্তম পোশাক।
আর وَريشًا শব্দ মুবারক উল্লেখ করেন নাই। কারণ, وَريشًا শব্দ মুবারক উনার অর্থ হলো সৌন্দর্যম-িত পোশাক অর্থাৎ বাহ্যিক সুন্নাহ লিবাস বা পোশাক। এক কথায় বাহ্যিক পোশাক যেহেতু তাক্বওয়ার পোশাক নয়, বরং সুন্নাহ পোশাক মুবারক। তাই, উল্লেখিত পবিত্র হাদীছ শরীফে وَريشًا শব্দ মুবারক উল্লেখ করেন নাই।
(চলবে)
-মুহম্মদ মুফীদ্বুর রহমান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (২)
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (১)
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (৯)
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কিছ্ছা
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ফলমূল খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক পালন করা ফরয
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ফলমূল খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার পরিচয় ও প্রকারভেদ (২)
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার পরিচয় ও প্রকারভেদ (১)
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
কোনো ব্যক্তির উপর সূর্য উদিত হয়নি, যে ব্যক্তি সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার থেকে উত্তম
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পুরুষের জন্য দাড়ি ও গোঁফ রাখার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নতী তারতীব মুবারক
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
“পেট পূর্ণ করে নয়, বরং পেটের এক-তৃতীয়াংশ আহার করাই মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক।”
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












