পবিত্র রোযা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল
, ১০ শাবান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০১ তাসি, ১৩৯৩ শামসী সন , ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ১৬ মাঘ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
সারা বিশ্বে একদিনে রোযা ও ঈদ পালন করার দাবীদাররা বিভ্রান্ত :
সউদী আরবের আকাশে চাঁদ না দেখে যেমনি সম্মানিত হজ্জের সময় নির্ধারণ করা জায়িয নয়, তেমনি নিজস্ব উদয়স্থলে চাঁদ না দেখে সম্মানিত রোযা, ঈদ, অন্যান্য আমল পালন করাও জায়িয নয়। পৃথিবীর দুটি স্থানের সর্বোচ্চ সময়ের পার্থক্য ১২-১৪ ঘণ্টারও বেশি। সুতরাং কখনো এক দিনে পৃথিবীর সব দেশে রোযা ও ঈদ পালন করা সম্ভব নয়।
পৃথিবীর এমন অনেক স্থান আছে যেখানে সন্ধ্যা হলে অন্য স্থানে সকাল। আর আমরা জানি, সম্মানিত শরীয়ত উনার দিন শুরু হয় সন্ধ্যার পর থেকে। সুতরাং কোন স্থানের সন্ধ্যায় চাঁদ দেখে, যে স্থানে সকাল সেখানে যদি ঈদ পালন করতে হয় তবে ঐ স্থানের দিনটি হবে অপূর্ণ। কেননা, ঈদ পালনের দিনটির রাতটি তাহলে কোথায়? অথচ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে ঈদের রাতে দোয়া কবুল হয়। তাহলে কোন স্থানের সন্ধ্যায় চাঁদ দেখে পৃথিবীর সব দেশে ঈদ পালন করতে চাইলে পৃথিবীতে বহু দেশের অধিবাসীরা এই দোয়া কবুলের সম্মানিত রাত পাবে না। সম্মানিত শরীয়ত উনার পূর্ণ দিন পাবে না। আর এরকম অবস্থায় ঈদ, রোযা পালন করা সম্মানিত শরীয়ত কখনো সমর্থন করে না। শুধু ঈদ কেন, রোযার কথাই ধরা যাক। পৃথিবীতে এমন অনেক স্থান আছে যেখানে সন্ধ্যায় পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার চাঁদ দেখা গেলে অন্যস্থানে সকাল গড়িয়ে প্রায় দুপুর। যে অঞ্চলে সকাল সে অঞ্চলের অধিবাসীরা পূর্বে তারাবীহ পড়েননি, সাহরীও খাননি বরং সকালের নাস্তা শেষ করেছেন। তাহলে অন্য অঞ্চলের সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা গেলে সেই চাঁদ দেখে কিভাবে তারা রোযা পালন করবেন? তাহলে দেখা যাচ্ছে, সারা বিশ্বে একদিনে ঈদ এবং রোযা পালনকারীদের সম্মানিত শরীয়ত উনার ইলমের যেমনি অভাব রয়েছে তেমনি রয়েছে ভৌগোলিক জ্ঞানের অভাব।
অনেকেই বলে থাকে- যদি পৃথিবীর সব দেশের জুমুয়াবারেই জুমুয়ার নামায আদায় হয় তাহলে এক দিনে ঈদ পালন করা সম্ভব নয় কেন? বলা হয়, প্রশ্ন হচ্ছে অর্ধেক জ্ঞান। এ প্রশ্নকারীদের প্রশ্নটিই অবান্তর ও অবাস্তব। কেননা একই জুমুয়াবারে সারাবিশ্বে জুমুয়া নামায একইসাথে আদায় হয় না। পৃথিবীর সব দেশের জুমুয়ার দিনে যেমনি জুমুয়ার নামায আদায় হয় তেমনি সব দেশের পহেলা শাওয়ালেই ঈদ পালিত হয়।
অর্থাৎ একটি দেশের পহেলা শাওওয়ালের সকালে অন্য অনেক স্থানে ৩০শে রমাদ্বান সন্ধ্যা আবার কোন দেশ পহেলা শাওওয়ালের ঈদ পালন করে সন্ধ্যায় যখন পৌঁছেছে তখন অন্য দেশে ঈদ পালন শুরু হয়েছে। যেহেতু পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে সময়ের পার্থক্য রয়েছে এবং এই পার্থক্য ১২-১৪ ঘণ্টারও বেশি। সুতরাং কোন দেশে ঈদ পালিত হলে অন্য দেশে ঈদ পালন শেষ হবে; এটাই স্বাভাবিক এবং এটাই সম্মানিত শরীয়ত উনার নিয়ম। যার যার অঞ্চলে চাঁদ দেখে ঈদ এবং রোযা বা অন্যান্য দ্বীনী আমল পালন করতে হবে। কোন স্থানের শাওওয়ালের চাঁদ দেখে পৃথিবীর সব স্থানে ঈদ পালন সম্ভব নয় বরং অবান্তর।
পৃথিবীর এমন অনেক স্থান আছে সেখানে সউদী আরবের পূর্বে চাঁদ দেখা যায়। যদি কোন বছরের পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাস উনার চাঁদ সউদী আরবের পূর্বে অন্য কোন দেশে দেখা যায় এবং তার একদিন পর যদি সউদী আরবে পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাস উনার চাঁদ দৃশ্যমান হয় তাহলে কি সউদী আরবের পূর্বে বা আগেই প্রথমে যে স্থানে পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাস উনার চাঁদ দেখা গেলো সে অনুযায়ী হাজীদের আরাফার ময়দানে উপস্থিত থাকতে হবে! যদি তাই হয়, তাহলে কারো হজ্জ আদায় হবে না; সউদী আরবের আকাশে পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাস উনার চাঁদ দেখেই পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাস শুরু করতে হবে এবং তাদের ৯ই পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ তারিখে পৃথিবীর সব হাজীকে আরাফার ময়দানে উপস্থিত থাকতে হবে।
যারা একই দিনে ঈদ, রোযা পালন করার কথা বলে থাকে তাদের কোন যুক্তি নেই, দলীল নেই। বরং তারা যা বলে তা অবান্তর, যুক্তিহীন, দলীলহীন, মনগড়া এবং যা বাস্তবে কখনো প্রয়োগ করা সম্ভব নয়। সুতরাং এক দিনে ঈদ পালনকারীদের উচিত এখনই এই অবান্তর বিষয়টি থেকে খালিছ তওবা করে সম্মানিত শরীয়ত উনার সঠিক পথ অনুসরণ করা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
শ্রেষ্ঠ উসমানীয় সুলতান মুরাদ আল রাবির ন্যায়পরায়নতা এবং এক রাতের ঘটনা
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সম্মানিত তিনটি বিষয়
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া কবীরা গুনাহ
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহান আল্লাহ পাক উনাকে যদি কেউ হাক্বীক্বী ভয় করতে চায়, তার তিনটি দায়িত্ব
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (৯)
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












