পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
, ১৬ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ৩০ রবি, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি:, ১৩ আশ্বিন, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
রুকূ-সিজদায় যাওয়ার ও উঠার সময়
হাত উত্তোলন বা রফা’ ইয়াদাইন না করা
নামাযের মধ্যে দুই হাত উঠানোকে রফা’ ইয়াদাইন বলা হয়। সম্মানিত ইসলামের প্রাথমিক যুগে কয়েক স্থানে রফা’ ইয়াদাইন করার নিয়ম ছিল। অতঃপর প্রথম তাকবীরকালীন রফা’ ইয়াদাইন ব্যতীত অন্যান্য সমস্ত স্থানের রফা’ ইয়াদাইন মানসূখ (রহিত) হয়ে গেছে। কাজেই সাধারণভাবে তাকবীরে তাহরীমা কালীন ব্যতীত নামাযের মধ্যে আর কোন স্থলে রফা’ ইয়াদাইন বা দুই হাত উত্তোলন করা যাবে না। তবে বিতির নামাযে দোয়ায়ে কুনুত পাঠের পূর্বে দুই হাত উত্তোলন করা জায়িয।
মীলাদ শরীফ ও ক্বিয়াম শরীফ বিরোধী
ইমামের পিছনে কোন নামাযই হবে না
মীলাদ শরীফ ও ক্বিয়াম শরীফ বিরোধী ইমামের পিছনে কোন নামাযই হবে না। তা পাঞ্জেগানা হোক কিংবা জুমুআ ও ঈদের নামায হোক। সাধারণভাবে পুরুষরা পাঁচ ওয়াক্ত ও জুমুআর নামায মসজিদে গিয়ে জামায়াতে পড়ে থাকেন।
এক্ষেত্রে যিনি মসজিদের ইমাম থাকবেন উনার আক্বীদা ও আমল উভয়ই অবশ্যই শুদ্ধ হতে হবে। অর্থাৎ আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদায় বিশ্বাসী হতে হবে। আর সম্মানিত শরীয়ত ও সুন্নত অনুযায়ী আমলের অনুসারী হতে হবে। যে ব্যক্তির আক্বীদা আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত অনুযায়ী হবে না, সে ঈমানদার নয়। অথচ ইমাম হওয়ার জন্য প্রথম শর্ত হলো ঈমান-আক্বীদা শুদ্ধ থাকা। অতঃপর ইমাম হওয়ার জন্য দ্বিতীয় শর্ত হচ্ছে, ইমাম ফাসিক না হওয়া। অর্থাৎ যে ব্যক্তির আমল সম্মানিত শরীয়ত ও সম্মানিত সুন্নত উনার খিলাফ সে ফাসিক। সম্মানিত ইসলামী শরীয়তের ফতওয়া হচ্ছে, ফাসিকের পিছনে নামায পড়লে উক্ত নামায দোহরানো ওয়াজিব।
বলার অপেক্ষা রাখে না, সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনার উদ্দেশ্যেই মীলাদ শরীফ ও ক্বিয়াম শরীফ করা হয়।
কাজেই, মীলাদ শরীফ ও ক্বিয়াম শরীফের বিরোধিতা মানে স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারই বিরোধিতা করা। নাউযুবিল্লাহ! যা কাট্টা কুফরী এবং কাফির ও জাহান্নামী হওয়ার কারণ। কেননা যিনি খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেও উনার মহাসম্মানিত রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত মুবারক করেন এবং উনার ছানা-ছিফত মুবারক করার জন্য বান্দা-বান্দীদেরকেও আদেশ মুবারক করেন। যেমন ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
اِنَّ اللهَ وَمَلَآئِكَتَهٗ يُصَلُّوْنَ عَلَى النَّبِيِّ ۚ يَآ اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا صَلُّوْا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوْا تَسْلِيْمًا.
অর্থ: নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা ছলাত পাঠ করেন বা ছানা-ছিফত মুবারক করেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি। হে ঈমানদারগণ! উনার প্রতি আপনারাও ছলাত পাঠ করুন বা ছানা-ছিফত মুবারক করুন এবং যথাযথ সম্মান প্রদর্শনপূর্বক সালাম মুবারক পেশ করুন অর্থাৎ দাঁড়িয়ে আদবের সাথে সালাম মুবারক পেশ করুন। (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৬)
অপর এক আয়াত শরীফের মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
تُعَزِّرُوْهُ وَتُوَقِّرُوْهُ وَتُسَبِّحُوْهُ بُكْرَةً وَّاَصِيْلًا
অর্থ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারক করো এবং উনাকে সম্মান মুবারক করো এবং উনার ছানা-ছিফত মুবারক করো সকাল-সন্ধ্যা অর্থাৎ সর্বদা বা দায়িমীভাবে। (পবিত্র সূরা ফাতহ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৯)
কাজেই, যেসব খতীব ও ইমাম পবিত্র মীলাদ শরীফ ও ক্বিয়াম শরীফের বিরোধিতা করে থাকে, মু’মিন-মুসলমান ও মুছল্লীদের অধিকার বলে হক্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ও নাহক্ব বা অন্যায়ের প্রতিবাদে প্রথমে উক্ত ইমাম-খতীবকেই বলতে হবে যে, পবিত্র মীলাদ শরীফের বিরুদ্ধে বলা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং পবিত্র মীলাদ শরীফ ও ক্বিয়াম শরীফ করতে হবে। তারপরও যদি বিরুদ্ধে বলে, তখন তাদের কাছে দলীল চাইতে হবে যে, পবিত্র কুরআন শরীফের কোন্ আয়াত শরীফের মধ্যে কিংবা কোন্ পবিত্র হাদীছ শরীফের মধ্যে পবিত্র মীলাদ শরীফ পড়াকে নিষেধ করা হয়েছে এমন কোন দলীল পেশ করুন। তারা কখনোই কোন দলীল দেখাতে সক্ষম হবে না। কারন এমন কোন পবিত্র আয়াত শরীফ কিংবা এমন কোন পবিত্র হাদীছ শরীফ নেই, যেখানে পবিত্র মীলাদ শরীফ পড়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বরং পবিত্র মীলাদ শরীফ পড়ার পক্ষেই বহু আয়াত শরীফ ও বহু হাদীছ শরীফ ইরশাদ মুবারক হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র মীলাদ শরীফ বিরোধী ইমাম-খতীবকে বলার পরও তারা যদি সংশোধন না হয় তাহলে মসজিদের মুতাওয়াল্লী, সভাপতি, সেক্রেটারী ও সদস্যদেরকে বুঝিয়ে ইমাম-খতীবকে বাদ দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজনে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতা নিয়ে পবিত্র মীলাদ শরীফ-ক্বিয়াম শরীফ বিরোধী ইমাম-খতীবকে অপসারণ করতে হবে। যথাসাধ্য চেষ্টা-কোশেশ করার পরও যদি উক্ত ইমাম-খতীবদেরকে সরানো না যায় তাহলে মীলাদ শরীফ ও ক্বিয়াম শরীফ পক্ষের লোকজনকে নিয়ে আলাদা মসজিদ তৈরি করে সেখানে জামায়াতে নামায পড়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তাৎক্ষনিকভাবে মসজিদ তৈরী করা সম্ভব না হলে কোশেশ অব্যাহত রেখে পার্শ্ববর্তী অথবা দূরবর্তী কোন মসজিদে গিয়ে জুমুআর নামায আদায় করে আসতে হবে, যে মসজিদের খতীব পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠ করেন। তথাপি পবিত্র মীলাদ শরীফ ও ক্বিয়াম শরীফ বিরোধী ইমাম-খতীবের পিছনে নামায পড়া জায়িয হবে না।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১৯)
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া কবীরা গুনাহ
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঈমানী কুওওয়াত বা শক্তি বৃদ্ধিকারী কতিপয় ঘটনা
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১৯)
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া কবীরা গুনাহ
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
প্রাণীর ছবি তোলা হারাম ও নাফরমানীমূলক কাজ
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
অকাট্য দলীল দ্বারা সুস্পষ্টভাবে “গান-বাজনা” হারাম
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
দেশে দেশে জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার অফিসমূহের পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী কার্যক্রমের ইতিহাস (১৭তম পর্ব)
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ঈমানী কুওওয়াত বা শক্তি বৃদ্ধিকারী কতিপয় ঘটনা
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












