পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠের বিস্ময়কর বাস্তব ঘটনাসমূহ
, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
(২য় পর্ব)
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মাঝে পবিত্র দুরূদ শরীফ উনার যেমন অসংখ্য ফযীলত মুবারক বর্ণনা করা হয়েছে। ঠিক বাস্তবেও পবিত্র দুরূদ শরীফ উনার বিস্ময়কর অনেক ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। নিম্নে সেখান থেকে কতিপয় ঘটনা বর্ণনা করা হলো-
১. বিকৃত চেহারাকে জোৎস্নার চাঁদের মতো উজ্জ্বল করে দিলেন:
ঐ ব্যক্তি বলেন, এরপর আমি আমার পিতার মুখ থেকে কাপড় সরালাম, উনার মুখ উদিত চাঁদের মতো উজ্জ্বল হয়ে গেছে! তখন আমি সেই মহান ব্যক্তি উনাকে বললাম, ‘মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! আপনি কে? আপনার আগমন মুবারক অত্যন্ত বরকতময়। তিনি বললেন, ‘আমি হচ্ছি সাইয়্যিদুনা হযরত মুস্তফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ তোমার মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
যখন তিনি এ কথা মুবারক বললেন, আমি অত্যন্ত আনন্দিত হলাম। আমি উনার চাদর মুবারকের এক প্রান্ত ধরে নিজের হাতে পেচিয়ে নিলাম এবং আরজী করলাম, ‘মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য বলুন, ইয়া সাইয়্যিদী, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি দয়া করে আমাকে এই ঘটনার বিবরণ সম্পর্কে সংবাদ মুবারক দিন।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, তোমার পিতা সুদ খেতো। আর মহান আল্লাহ পাক উনার হুকুম হলো- যে বা যারা সুদ খায়, মৃত্যুর সময় তার চেহারাকে গাধার চেহারার মতো করে দেয়া হয়। আর পরকালে তার অবস্থা আরও ভয়াবহ হবে। কিন্তু তোমার পিতার একটি ভালো অভ্যাস ছিলো, সে প্রতিরাতে বিছানায় যাওয়ার আগে আমার উপর একশবার পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করতো।
যখন সে এই সুদ খাওয়ার বিপদে পতিত হলো, তখন সেই হযরত ফেরেশতা আলাইহিস সালাম তিনি আমার কাছে এলেন, যিনি আমার উম্মতের আমলসমূহ আমার নিকট পেশ করেন। তিনি তোমার পিতার এই কঠিন অবস্থার কথা আমাকে জানালেন। তখন আমি মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট তাঁর জন্য সুপারিশ করলাম, আর মহান আল্লাহ পাক তিনি আমার সুপারিশ গ্রহণ করলেন। সুবহানাল্লাহ!
ঐ ব্যক্তি বলেন, এরপর আমি ঘুম থেকে জেগে উঠলাম এবং আমি আমার পিতার মুখের কাপড় সরালাম, দেখি উনার চেহারা জোৎ¯œার চাঁদের মতো উজ্জ্বল হয়ে গেছে! আমি মহান আল্লাহ পাক উনার প্রশংসা করলাম ও উনার প্রতি শুকরিয়া আদায় করলাম। তারপর আমি আমার পিতাকে গোসল করালাম, কাফন পরালাম এবং দাফন করলাম। (সব কাজ শেষে) আমি কিছুক্ষণ উনার কবরের পাশে বসে ছিলাম।
এই সময়, আমি আধা ঘুম আধা সজাগের মধ্যে একটি আওয়ায শুনতে পেলাম, আমাকে বলা হচ্ছে “তুমি কি জানো, তোমার পিতার প্রতি এই বিশেষ অনুগ্রহ কেন করা হলো? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, এটার কারণ হলো- তোমার পিতার নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি পবিত্র ছলাত ও সালাম পাঠ অর্থাৎ পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করা। সুবহানাল্লাহ!
আমি তখন নিজের প্রতি প্রতিজ্ঞা করলাম, আমি কখনোই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপর পবিত্র দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক পাঠ তরক করবো না। আমি যেখানেই থাকি, যে অবস্থায়ই থাকি। সুবহানাল্লাহ! (আর একারণেই আমি সর্বাবস্থায় পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করি।) সুবহানাল্লাহ! (আল ক্বওলুল বদী’ ২৩৬-২৩৭ পৃষ্ঠা)
(২) অনুরুপ আরো একটি ঘটনা:
কিতাবে বর্ণিত রয়েছে-
عن حضرت سفيان الثوري رحمة الله عليه قال بينما أنا حاج إذ دخل علي شاب لا يرفع قدماً ولا يضع أخرى إلا وهو يقول اللهم صلي على محمد وعلى آل محمد فقلت له أبعلم تقول هذا قال نعم ثم قال من أنت قلت سفيان الثوري قال العراقي قلت نعم قال هل عرفت الله قلت نعم قال كيف عرفته بأنه يولج الليل في النهار ويولج النهار في الليل ويصور الولد في الرحم قال يا سفيان ما عرفت الله حق معرفته قلت وكيف تعرفه قال بفيخ العزم والهم ونقض العزيمة هممت ففيخ همتي وعزمت فنقص عزمي فعرفت أن لي ربا يدبرني قال قلت فما صلواتك على النبي صلى الله عليه وسلم قال كنت حاجاً ومعي والدتي فيألتني إن أدخلها البيت ففعلت فوقعت وتورم بطنها وأسود وجهها قال فجلست عندها وأنا حزين فرفعت يدي نحو السماء فقلت يارب هكذا تفعل بمن دخل بيتك فإذا بغمامة قد أرتفعت من قبل تهامة وإذا رجل عليه ثياب بيض فدخل البيت وأمر يده على وجهها فأبيض وأمر يده على بطنها فابيض فيكن المرض ثم مضى ليخرج فتعلقت بثوبه فقلت من أنت الذي فرجت عني قال أنا نبيك محمد صلى الله عليه وسلم قلت يا رسول الله فأوصني قال لا ترفع قدماً ولا تضع أخرى إلا وأنت تصلي على محمد وعلى آل محمد صلى الله عليه وسلم
অর্থ: হযরত সুফিয়ান ছাওরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি পবিত্র হজ্জে ছিলাম। তখন এক যুবক আমার কাছে আসলেন, তিনি উনার প্রত্যেক ক্বদমে ক্বদমে নি¤েœাক্ত পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করতেন-
اللهم صلِّ على محمدٍ وعلى آل محمد صلى الله عليه وسلم
আমি উনাকে বললাম, আপনি কি জেনে-শুনেই এটা করছেন? অর্থাৎ শুধু পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, জেনেই করছি। তারপর উক্ত যুবক আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কে? আমি বললাম, আমি হযরত সুফিয়ান ছাওরী (রহমতুল্লাহি আলাইহি) তিনি বললেন, ইরাক্বী সুফিয়ান? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কি মহান আল্লাহ পাক উনাকে চিনেছেন? আমি বললাম, হ্যাঁ চিনেছি। তিনি বললেন, কিভাবে চিনেছেন? আমি বললাম, আমি মহান আল্লাহ পাক উনাকে এভাবে চিনেছি যে, তিনিই রাতকে দিনে প্রবেশ করান এবং দিনকে রাতে প্রবেশ করান, আর তিনিই মায়ের রেহেমে (গর্ভে) সন্তানকে আকৃতি দান করেন।
-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠের বিস্ময়কর বাস্তব ঘটনাসমূহ
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ফিক্বাহ বা ফতওয়ার সকল কিতাবেই গান-বাজনা, বাদ্য-যন্ত্র ইত্যাদিকে হারাম ফতওয়া দেয়া হয়েছে
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
দেশে দেশে জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার অফিসমূহের পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী কার্যক্রমের ইতিহাস (১৬তম পর্ব)
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১৮)
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মুসলমানদের জন্য সমস্ত খেলাধুলা হারাম
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আঙ্গুলের ছাপ শরীয়তসম্মত, নিখুঁত, ব্যবহারে সহজ এবং রহমত, বরকত, সাকীনা লাভের কারণ (৬)
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
শেখ চুল্লির দুনিয়াবী সম্পদ গড়ার অলীক কল্পনা এবং হাক্বীক্বত বাস্তবতা
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ব্যবসা করা হালাল ও সুন্নত আর সুদ হারাম
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্রতা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল (৭)
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












