ফতওয়া
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৬৪)
, ১৮ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৬ আউওয়াল, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৫ জুন, ২০২৬ খ্রি:, ২২ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) ফতওয়া বিভাগ
(৩৮৭)
(ياأيها الذين امَنُواْ أَطِيعُواْ الله) أي في الفرائض (وَأَطِيعُواْ الرسول) أي في السنن. ويقال: أطيعوا الله فيما فرض، وأطيعوا الرسول فيما بيّن. ويقال أَطِيعُواْ الله بقول لا إله إلا الله، وأطيعوا الرسول بقول محمد رسول الله صلى الله عليه و سلم (وَأُوْلِى الامر مِنْكُمْ) يعني أطيعوا أولي الأمر منكم. قال الكلبي ومقاتل: يعني أمراء السرايا. وقال الضحاك: يعني الفقهاء والعلماء في الدين. ويقال: الخلفاء والأمراء ويجب طاعتهم ما لم يأمروا بالمعصية.
অর্থ: (হে ঈমানদারগণ! তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার আনুগত্য করো,) অর্থাৎ ফরজসমূহ পালন করো (সাইয়্যিদুনা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণ-অনুকরণ করো) অর্থাৎ সুন্নতসমূহ পালন করো। বলা হয়, ফরজ পালনে মহান আল্লাহ পাক উনার আনুগত্য করো। আর তার ব্যাখ্যার ব্যাপারে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুগত্য করো। ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলা হচ্ছে আতিউল্লাহ, আর ‘মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ বলা হচ্ছে আতির্উ রসূলা। (এবং তোমাদের মধ্যে যাঁরা উলিল আমর উনাদের অনুসরণ করো।) অর্থাৎ তোমাদের মধ্যে আদেশদাতা উনাদেরকে অনুসরণ করো।
হযরত কালবী রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত মুকাতিল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা বলেন, উনারা হলেন রণক্ষেত্রের সেনাপতি। হযরত দ্বহহাক রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, উনারা হলেন হযরত ফুক্বাহা ও উলামা রহমতুল্লাহি আলাইহিম। কারো মতে- উনারা হলেন ইসলামী খলীফা ও আমীর-উমরা। উনারা যদি নাফরমানীর আদেশ না দেন তাহলে উনাদের আনুগত্য করা ওয়াজিব। (বাহরুল উলূম অর্থাৎ তাফসীরুস সামারকান্দী, পবিত্র সূরা নিসা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ: ৫৯, লেখক: হযরত আবুল লাইছ নাছর বিন মুহম্মদ বিন আহমদ বিন ইবরাহীম সামারকান্দী হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ওফাত মুবারক: ৩৭৩ হিজরী)
(৩৮৮)
(فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِى شَىْء) من الحلال والحرام والشرائع (فَرُدُّوهُ إِلَى الله والرسول) يعني إلى أمر الله فيما يأمر بالوحي، وإلى أمر الرسول فيما يخبر عن الوحي، ثم بعد النبي صلى الله عليه وسلم لما انقطع الوحي يرد إلى كتاب الله تعالى، وإلى سنة رسوله عليه الصلاة والسلام. ويقال: معناه إذا أشكل عليكم شيء، فقولوا: الله ورسوله أعلم. وهذا كما قال عمر بن الخطاب رضي الله عنه: الرجوع إلى الحق خير من التمادي في الباطل. وقال الخليل بن أحمد البصري: الناس أربعة: رجل لا يدري ولا يدري أنه لا يدري، فهذا أحمق فاجتنبوه. ورجل لا يدري ويدري أنه لا يدري، فهذا جاهل فعلِّموه. ورجل يدري ولا يدري أنه يدري، فهذا نائم فأيقظوه. ورجل يدري وهو يدري أنه يدري فهذا عالم فاتبعوه. ثم قال تعالى: (إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بالله واليوم الاخر) يعني إن كنتم تصدقون بالله واليوم الاخر ثم قال: (ذلك خَيْرٌ) أي الرد إلى كتاب الله، وإلى سنة رسوله خير من الاختلاف (وَأَحْسَنُ تَأْوِيلاً) أي وأحسن عاقبة. وروي عن علي بن أبى طالب عليه السلام أنه قال: حق على الإمام أن يحكم بالعدل، ويؤدي الأمانة إلى أهلها، فإذا فعل ذلك وجب على المسلمين أن يطيعوه، فإن الله تعالى أمرنا بأداء الأمانة والعدل، ثم أمرنا بطاعتهم. وقال مجاهد: (وَأُوْلِى الامر مِنْكُمْ) العلماء والفقهاء وهكذا روي عن جابر رضي الله عنه.
অর্থ: (তোমাদের মধ্যে যদি কোন বিষয়ে মতবিরোধ হয়,) হালাল, হারাম ও শরয়ী বিষয়ে (তাহলে উক্ত বিষয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে প্রত্যাবর্তন করো।) অর্থাৎ ওহী মুবারকের মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক তিনি যা আদেশ করেছেন তার দিকে এবং সম্মানিত ওহী মুবারক উনার মাধমে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যা বর্ণনা করেছেন তার দিকে প্রত্যাবর্তন করো। অতঃপর সম্মানিত ওহী মুবারক উনার দরজা বন্ধ হওয়ার পর পবিত্র কিতাবুল্লাহ ও পবিত্র সুন্নতে রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের আনুগত্য করবে। এর অর্থে এটাও বলা হয় যে, তোমাদের মধ্যে যখন কোন ব্যাপারে মতানৈক্য দেখা দেয় তখন বলো- মহান আল্লাহ পাক তিনি ও উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারাই ভালো জানেন। যেমনটি হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, বাতিলের সাথে লেগে থাকার চেয়ে হক্বের দিকে প্রত্যাবর্তন করা উত্তম।
(মাসিক আল বাইয়্যিনাত থেকে সংকলিত।) (চলবে)
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৬৩)
২৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে সম্মানিত কুরবানী মুবারক দেয়া প্রত্যেক উম্মতের জন্য ফরযে আইন (২২)
১৯ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে সম্মানিত কুরবানী মুবারক দেয়া প্রত্যেক উম্মতের জন্য ফরযে আইন (২১)
১৮ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে সম্মানিত কুরবানী মুবারক দেয়া প্রত্যেক উম্মতের জন্য ফরযে আইন (২০)
১৭ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে সম্মানিত কুরবানী মুবারক দেয়া প্রত্যেক উম্মতের জন্য ফরযে আইন (১৯)
১৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে সম্মানিত কুরবানী মুবারক দেয়া প্রত্যেক উম্মতের জন্য ফরযে আইন (১৮)
১৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৬২)
১৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে সম্মানিত কুরবানী মুবারক দেয়া প্রত্যেক উম্মতের জন্য ফরযে আইন (১৭)
১৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে সম্মানিত কুরবানী মুবারক দেয়া প্রত্যেক উম্মতের জন্য ফরযে আইন (১৬)
১২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৬১)
১১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে সম্মানিত কুরবানী মুবারক দেয়া প্রত্যেক উম্মতের জন্য ফরযে আইন (১৪)
১০ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে সম্মানিত কুরবানী মুবারক দেয়া প্রত্যেক উম্মতের জন্য ফরযে আইন (১৩)
০৯ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












